সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরে ভাসতে থাকা একটি নৌকা থেকে বাংলাদেশিসহ মোট ৫৮ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে বেসরকারি উদ্ধারকারী সংস্থা ওপেন আর্মস। বুধবার (৩ জুন) সংস্থাটি জানায়, সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ওপেন আর্মসের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৪ জন অভিভাবকবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। তারা লিবিয়ার উপকূলীয় শহর আল-খুমস থেকে একটি ফাইবার গ্লাসের নৌকায় করে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন।
উদ্ধারের আগে তারা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খোলা সমুদ্রে ভাসছিলেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নৌকায় থাকা যাত্রীদের কারও কাছেই লাইফ জ্যাকেট বা নেভিগেশন সরঞ্জাম ছিল না। ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল।
উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে বাংলাদেশের পাশাপাশি সুদান, ইরিত্রিয়া, মিশর এবং সোমালিয়ার নাগরিকও ছিলেন। যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই এই বিপজ্জনক সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, লিবিয়া থেকে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর হাজারো মানুষ এই পথে যাত্রা করেন এবং অনেকেই দুর্ঘটনা, অনাহার কিংবা ডুবে মৃত্যুর শিকার হন।
ওপেন আর্মস জানিয়েছে, উদ্ধারকৃতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সমুদ্রে বিপদে পড়া মানুষের জীবন রক্ষায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা একটি মানবিক ও আইনি দায়িত্ব।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় বহু মানুষ এখনও দালাল চক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবনঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের এমন যাত্রা মানবিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিসহ ৫৮ জনের এই উদ্ধার অভিযান আবারও ইউরোপমুখী অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি এবং অভিবাসন সংকটের মানবিক দিকটিকে সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্রঃ ইনফো মাইগ্র্যান্টস
এম.কে

