TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘লিঙ্গ পরিবর্তন করে ভুল করেছি’, নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশে নতুন আইনের ভয়ে ব্রিটিশ নারী

লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনার অভিজ্ঞতা অন্যদের জানানো এবং তরুণদের অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ নারী ফিলিপা রবার্টস। তার অভিযোগ, লেবার সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আইন কার্যকর হলে লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে দ্বিধায় থাকা তরুণদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিলেও আইনি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও লিঙ্গ পরিবর্তন থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা। প্রস্তাবিত আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ৩০ বছর বয়সী ফিলিপা রবার্টস কৈশোরের শেষ ভাগ থেকে বিশের দশকের শুরু পর্যন্ত প্রায় ছয় বছর পুরুষ পরিচয়ে ‘কাসপার’ নামে জীবনযাপন করেন। এ সময় ১৯ বছর বয়সে তার স্তন অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়। পাশাপাশি তিনি বয়ঃসন্ধি রোধকারী ওষুধ এবং এনএইচএসের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করেন। ২০২২ সালে তিনি লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া থেকে ফিরে এসে আবার ফিলিপা নামে জীবনযাপন শুরু করেন।

সম্প্রতি ব্রাইটনে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। ওই তরুণী নিজেকে পুরুষ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিলেন এবং স্তন অপসারণের অস্ত্রোপচারের কথা বিবেচনা করছিলেন। তরুণীর বাবা মেয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে রবার্টসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেয়েটিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

রবার্টস বলেন, তরুণীর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে হাঁটার সময় অস্ত্রোপচারের পর নিজের শারীরিক যন্ত্রণা, বুকে অস্বস্তি এবং অস্ত্রোপচারের দাগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তার উদ্দেশ্য ছিল মেয়েটিকে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করা। তবে পরে জানতে পারেন, তরুণী শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করিয়েছেন।

লেবার সরকারের প্রস্তাবিত কনভার্সন প্র্যাকটিসেস বিল নিয়ে এখন পার্লামেন্টে পর্যালোচনা চলছে। প্রস্তাবিত আইনে কারও যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তন কিংবা দমন করার চেষ্টা নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে সংশয় বা প্রশ্ন রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আইনটি প্রযোজ্য হতে পারে।

রবার্টসের আশঙ্কা, আইনটি পাস হলে সন্তানকে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন করা কিংবা এ বিষয়ে সতর্ক করার কারণে অভিভাবকেরাও অপরাধের অভিযোগের মুখে পড়তে পারেন। তার মতে, নতুন আইনের কারণে লিঙ্গ পরিবর্তনের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে খোলামেলা আলোচনাও বাধাগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, সমকামী ব্যক্তিদের জোর করে বিষমকামী করার চেষ্টা কিংবা নির্যাতন ও জবরদস্তির বিরুদ্ধে তিনি নিজেও। তবে তার দাবি, নির্যাতন ও জবরদস্তি প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন থাকার পরও নতুন বিলের মাধ্যমে আরও বিস্তৃত বিধিনিষেধ আরোপের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি হাউস অব কমন্সের একটি বিশেষ যৌথ কমিটির সামনে প্রস্তাবিত আইনের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন রবার্টস। তার সঙ্গে ছিলেন শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সংগঠন পাবলিক চাইল্ড প্রোটেকশন ওয়েলসের সভাপতি কিম্বারলি ইশারউড।

রবার্টসের অভিযোগ, লিঙ্গ পরিচয় নিয়ে সন্তানের সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করার কারণে কিছু অভিভাবক ইতোমধ্যে সামাজিক সেবা বিভাগের চাপের মুখে পড়ছেন। নতুন আইন কার্যকর হলে সন্তানকে লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন করা কিংবা তার অনলাইন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ও আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।

রবার্টস জানান, ২০১৪ সালে রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞান পড়ার সময় তিনি প্রথম লিঙ্গ পরিচয় পরিবর্তনের বিষয়ে আগ্রহী হন। ১৭ বছর বয়সে নিজেকে সমকামী হিসেবে প্রকাশ করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে নিজের শারীরিক গঠন ও পুরুষদের মনোযোগ নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছিলেন। একপর্যায়ে পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করেন।

২০২২ সালে আগের পরিচয়ে ফিরে আসার পর তার জীবন অনেকটাই বদলে যায় বলে দাবি করেন তিনি। বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভেঙে যায়, কর্মক্ষেত্রেও সমস্যার মুখোমুখি হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে প্রচারণা চালানো হয়েছে এবং একাধিকবার বাসস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

একটি কলেজে কাজ করার সময় অটিস্টিক এক কিশোরের লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলায় তাকে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন রবার্টস।

তিনি আরও জানান, নিজের অভিজ্ঞতা থেকে অন্যদের সতর্ক করার চেষ্টা করেছেন। একবার অস্ত্রোপচারের পর অনুশোচনায় ভোগা এক নারী তার সঙ্গীকে একই অস্ত্রোপচার থেকে বিরত রাখতে রবার্টসের সাহায্য চান। পরে তিনজনের অনলাইন আলোচনার পর ওই নারী অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন।

রবার্টসের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত আইন পাস হলে এ ধরনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া কিংবা কাউকে লিঙ্গ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়াও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ কারণে তিনি আইনটি পাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়ছে ব্রিটিশ তরুণরা, সতর্কবার্তা বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশি রসনার সুঘ্রাণ ছড়ালো লন্ডনের জাঁকজমকপূর্ণ ব্রিটিশ কারি অ্যাওয়ার্ডে

অনলাইন ডেস্ক

২০ মিলিয়ন পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়েছে দক্ষিণ লন্ডনের দুটি কাউন্সিল

অনলাইন ডেস্ক