লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার অভিযোগ এবং একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা—এই দুই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
লেবাননে অবস্থানরত জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী ইউনিফিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের যানবাহনে ধাক্কা দিয়েছে এবং গুলি চালিয়েছে। তাদের দাবি, একটি মেরকাভা ট্যাংক দিয়ে ইউনিফিলের যানবাহনে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া বায়াদা এলাকায় ইউনিফিলের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইউনিফিল আরও জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে ইসরায়েলি সেনারা তথাকথিত সতর্কতামূলক গুলি চালিয়ে আসছে, যা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত তাদের যানবাহনে আঘাত হেনেছে। এক ঘটনায় একটি গুলি একজন শান্তিরক্ষীর মাত্র এক মিটার দূরে পড়ে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপে জানিয়েছেন, ইরান দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ ক্ষেত্রে ইরানের জাতীয় স্বার্থ অবশ্যই সম্মান করতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই আলাপে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোকে ভ্রাতৃপ্রতিম উল্লেখ করে বহিরাগত শক্তিকে বাদ দিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে কোনো সামরিক জাহাজ অগ্রসর হলে তা সরাসরি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে। তারা দাবি করেছে, প্রণালীটি তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে বেসামরিক জাহাজের চলাচল অব্যাহত আছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো অজুহাতে সামরিক উপস্থিতি দেখানোর চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে জাতিসংঘ মিশনের ওপর হামলার অভিযোগ এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা—উভয় ঘটনাই বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধান কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক মহলের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

