13 C
London
September 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবার সম্মেলনে কেয়ার ওয়ার্কারদের পক্ষে আবারও মুখ খুললেন হাউজিং মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার

যুক্তরাজ্যে স্কিলড ও কেয়ার কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার সময়সীমা পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে লেবার সরকারের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত সংস্কারের সমালোচনা করে হাউজিং সেক্রেটারি অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, আগে থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অভিবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়ম পরিবর্তন করে তা প্রয়োগ করা হলে সেটি তাদের জন্য ‘গোলপোস্ট পরিবর্তন’ করার মতো হবে।

লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের আগে রেনার তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বিদেশি কেয়ার কর্মীরা যুক্তরাজ্যে এসে মানুষের যত্ন নেওয়ার জন্য নিজেদের জীবন এখানে নিয়ে এসেছেন। তাদের জন্য আগে নির্ধারিত প্রত্যাশিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় অপেক্ষা করতে বলা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে। রেনার নিজেও অতীতে কেয়ার কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।

বর্তমানে সরকারের প্রস্তাবিত আর্নড সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য আইএলআরের সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আরকিউএফ লেভেল ৬-এর নিচের কিছু স্কিলড ও হেলথ অ্যান্ড কেয়ার পেশার ক্ষেত্রে সময়সীমা ১৫ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। কেয়ার কর্মীরা এই প্রস্তাবের আওতায় পড়তে পারেন।

এই প্রস্তাবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো—নতুন নিয়ম যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে বসবাসরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে কি না। সরকারের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় এ বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখে হোম অ্যাফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির সামনে শাবানা মাহমুদ বলেন, আইএলআর আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণ নীতি হলো আবেদন করার সময় কার্যকর নিয়মই প্রযোজ্য হয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, সরকার পরামর্শের প্রতিক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে এবং খুব শিগগিরই পরিবর্তন সম্পর্কে ঘোষণা করা হবে।

সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রুটে মোট ৬ লাখ ১৬ হাজার ২৬৬টি ভিসা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মূল আবেদনকারী ছিলেন ২ লাখ ৪৯ হাজার ৫৯৪ জন এবং নির্ভরশীলদের জন্য দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭২টি ভিসা। একই সময়ে ‘কেয়ারিং পার্সোনাল সার্ভিসেস’ ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪২টি ভিসা দেওয়া হয়।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে হেলথ অ্যান্ড কেয়ার রুট থেকে আসা প্রায় ৪ লাখ ৬২ হাজার মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাসের যোগ্য হতে পারেন। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার মূল আবেদনকারী এবং ২ লাখ ৭৪ হাজার নির্ভরশীল। এই পরিসংখ্যানই আইএলআর সংস্কারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ব্যাপক আলোচনার অন্যতম কারণ।

তবে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বিদেশি কেয়ার কর্মীকে নতুন আইএলআর নিয়ম থেকে সরাসরি ছাড় দেওয়া হবে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে রেনারসহ লেবার এমপিদের অবস্থানের ভিত্তিতে কেয়ার কর্মীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা বা পুরোনো নিয়মে থাকা কর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম না প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

লেবার এমপি র‍্যাচেল মাসকেলও বিবিসি রেডিও ৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে মত দেন, সরকারের প্রস্তাব পরিবর্তিত হয়ে যুক্তরাজ্যে ইতোমধ্যে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম পূর্বপ্রযোজ্য না-ও হতে পারে। তবে এটি এখনো সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

রেনার ও শাবানা মাহমুদের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও রেনার প্রকাশ্যে বলেছেন, তাদের মধ্যে কোনো ‘বিভাজন’ নেই এবং উভয়েই একটি ন্যায্য অভিবাসন ব্যবস্থা চান। তবে তিনি আগে থেকেই বলে আসছেন, যুক্তরাজ্যে এসে কাজ শুরু করা কেয়ার কর্মীদের জন্য হঠাৎ করে স্থায়ী বসবাসের পথ দীর্ঘ করা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।

এদিকে সরকারের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে লেবার দলের ভেতরেও একাধিক এমপি অবস্থান নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শতাধিক লেবার এমপি এবং কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়নের বিরোধিতার কথা উঠে এসেছে। তবে সরকারের চূড়ান্ত নীতিতে তাদের আপত্তির কতটা প্রতিফলন থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের পেছনে সরকারের যুক্তি হলো, স্থায়ী বসবাসের সুযোগকে অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি অবদান, কর প্রদান এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনার সঙ্গে আরও বেশি যুক্ত করা। সরকারি পরামর্শপত্রে বলা হয়েছে, কম দক্ষতার পেশায় কর্মরত কিছু অভিবাসীর জন্য বর্তমান পাঁচ বছরের পরিবর্তে দীর্ঘতর সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরোনো পাঁচ বছরের আইএলআর পথ ধরে যুক্তরাজ্যে আসা স্কিলড ও কেয়ার কর্মীদের ওপর নতুন নিয়ম কার্যকর হবে কি না। হোম অফিস এ বিষয়ে পরামর্শ প্রক্রিয়ার মতামত পর্যালোচনা করছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ২০২৭ সালের দিকে আইএলআরের যোগ্য হতে যাওয়া অনেক কর্মীর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট \ দ্য ড্যাজলিং ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

রুয়ান্ডার পরিকল্পনা কি কেলেংকারি লুকানোর অংশ?

অনলাইন ডেস্ক

খোলা কারাগারের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী

যুক্তরাজ্যের হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বিরুদ্ধে পরিষেবা চার্জ বৃদ্ধির অভিযোগ