যুক্তরাজ্যের বেডফোর্ডের কাছে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর রেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো।
শুক্রবার বিকেলে বেডফোর্ড শহরের প্রায় আড়াই মাইল দক্ষিণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি লুটন এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস ট্রেন পেছন থেকে একটি ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে ট্রেনকে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে যাত্রীদের ধারণ করা ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ট্রেনের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় বহু যাত্রী পড়ে আছেন। আহতদের মধ্যে যারা হাঁটতে সক্ষম ছিলেন, তাদের কাছাকাছি একটি খোলা মাঠে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাম্বুলেন্স, দমকল বাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
দুর্ঘটনায় আহত যাত্রী ডা. পিটার ন্যাপ বিবিসিকে বলেন, “আমার মনে হয়েছে যেন কোনো বোমা বিস্ফোরণের মধ্যে পড়েছি।” তিনি জানান, সংঘর্ষের পর চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি রক্তাক্ত মুখমণ্ডল ও গুরুতর আহত বহু যাত্রীকে দেখতে পান। তার ভাষায়, “আমার পিঠে প্রচণ্ড ব্যথা করছে, আমি বসতে পারছি না। তবে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি সামনের বগিতে ছিলাম। চালকের কী অবস্থা হয়েছে, তা আমি কল্পনাও করতে পারছি না।”
রেলওয়ে সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের ট্রেনটি একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে লাইনে থেমে ছিল। ‘অটোমেটিক ওয়ার্নিং সিস্টেম’ নামে পরিচিত ওই প্রযুক্তি সাধারণত ট্রেনকে লাল সংকেত অতিক্রম করা থেকে বিরত রাখে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ট্রেনটি থেমে থাকার সময় চালক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের সঙ্গে ফোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ঠিক তখনই পেছন থেকে দ্রুতগতির লুটন এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস এসে ধাক্কা দেয়।
কতজন আহত হয়েছেন কিংবা কোনো প্রাণহানি ঘটেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বেডফোর্ড হাসপাতাল জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অন্তত ৫০ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর বেডফোর্ড ও লুটনের মধ্যবর্তী সব রেললাইন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে উভয় দিকেই ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস স্টেশন থেকে ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের সব ট্রেন দিনের বাকি সময়ের জন্য বাতিল করা হয়েছে।
ন্যাশনাল রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ে জানিয়েছে, “এই রুটে ভ্রমণের চেষ্টা করবেন না। আজ সন্ধ্যায় যাত্রা থেকে বিরত থাকুন।”
যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যান্য রেল অপারেটর প্রতিষ্ঠান ইস্ট মিডল্যান্ডস রেলওয়ের টিকিট গ্রহণ করছে। এছাড়া বিভিন্ন রুটে জরুরি বাসসেবাও চালু করা হয়েছে।
রেলপথে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি, সংকেত ব্যবস্থা এবং ট্রেন পরিচালনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

