লন্ডনের পাতাল রেল নেটওয়ার্কে গত দুই বছরে পরিকল্পিত অভিযানে অন্তত ৬৫৫টি কবুতর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে ১৭টি সক্রিয় বাসা অপসারণ এবং অন্তত সাতটি ছানা মারা যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে প্রাণী সুরক্ষা সংগঠন ম্যানচেস্টার পিজন রিহ্যাব। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রাণী কল্যাণ ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১২৩টি পৃথক অভিযানে লন্ডনের বিভিন্ন পাতাল রেল স্টেশন ও ডিপোতে কবুতর নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এসব অভিযান সাধারণত মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে।
প্রকাশিত ছবিতে বিভিন্ন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মৃত কবুতরের স্তূপ দেখা যায়। একটি ছবিতে উত্তর লন্ডনের একটি স্টেশনে রক্তাক্ত কবুতরকে এক কর্মীর বুট দিয়ে চাপা দেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
ম্যানচেস্টার পিজন রিহ্যাবের অভিযোগ, শুধু পূর্ণবয়স্ক কবুতরই নয়, সক্রিয় বাসা, ডিম এবং ছানাও অপসারণ করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে জালে আটকে পড়া কবুতরকে উদ্ধার করার পরিবর্তে গুলি করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। এমনকি একটি ঘটনায় একটি কবুতরকে লক্ষ্য করে একাধিকবার গুলি চালানোর তথ্যও তাদের হাতে এসেছে।
এ ঘটনায় সংগঠনটি ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে তারা স্পষ্ট করেছে, পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো বেআইনি কাজের অভিযোগ আনছে না; বরং প্রাণী কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও নীতিমালা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।
অন্যদিকে, লন্ডনের পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বৈধ লাইসেন্সের আওতায় কবুতর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রাণঘাতী ব্যবস্থা গ্রহণের আগে সব ধরনের অপ্রাণঘাতী প্রতিরোধমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা কার্যকর না হলে এবং জনস্বাস্থ্য, অগ্নিঝুঁকি কিংবা অবকাঠামোগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়লে শেষ বিকল্প হিসেবে কবুতর বা তাদের বাসা অপসারণ করা হয়।
পরিবহন কর্তৃপক্ষ আরও বলেছে, কবুতরের মল থেকে ব্যাকটেরিয়া ও পোকামাকড়ের বিস্তার ঘটতে পারে। পাশাপাশি বাসা ও বর্জ্য জমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এবং স্থাপনার ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। যাত্রী, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তাদের দাবি।
তবে প্রাণী অধিকারকর্মীদের মতে, প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নয়; বরং বাসস্থান পরিবর্তন, মানবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অপ্রাণঘাতী পদ্ধতির মাধ্যমে কবুতর নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে নগর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা এবং প্রাণী কল্যাণ নীতি নিয়ে নতুন করে জনমত ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড
এম.কে

