মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সমকামবিরোধী আইন ও নীতির জন্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ঔপনিবেশিক ইতিহাসকে দায়ী করেছে যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির অভ্যন্তরীণ সংগঠন মুসলিম গ্রিনস।
গ্রিন পার্টির সদস্যদের জন্য ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষ শনাক্ত করার বিষয়ে প্রকাশিত একটি নির্দেশিকায় সংগঠনটি দাবি করেছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর অনেক সমকামবিরোধী আইন ঔপনিবেশিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার উপনিবেশগুলোতে তৎকালীন ব্রিটিশ সমাজে বিদ্যমান কিছু আইন ও সামাজিক কাঠামোর আদলে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছিল। সংগঠনটির দাবি, এর ফলে এসব অঞ্চলের অনেক দেশে সমকামবিরোধী আইন প্রতিষ্ঠিত বা শক্তিশালী হয়।
মুসলিম গ্রিনস আরও বলেছে, ইসলাম বা মুসলিম পরিচয়কে স্বভাবগতভাবে সমকামবিদ্বেষী হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিমবিরোধী বিদ্বেষের একটি রূপ। তাদের মতে, এ ধরনের ধারণা যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মুসলিমদের বৈচিত্র্য এবং মুসলিম এলজিবিটিকিউ+ জনগোষ্ঠীর অস্তিত্বকে উপেক্ষা করে।
নির্দেশিকায় ‘হোমোন্যাশনালিজম’ নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। সংগঠনটির ব্যাখ্যায়, এলজিবিটিকিউ+ অধিকার রক্ষার ভাষা ব্যবহার করে মুসলিম, অভিবাসী বা অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করাকে এর একটি দিক হিসেবে দেখা হয়।
তবে মুসলিম গ্রিনসের এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভদের শ্যাডো ফরেন অফিস মিনিস্টার ওয়েন্ডি মর্টন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ইরান ও সৌদি আরব কখনো ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অংশ না হওয়া সত্ত্বেও সেখানে সমকামিতার জন্য কঠোর শাস্তির বিষয়টি কীভাবে শুধু ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ইতিহাস দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।
গ্রিন পার্টির একজন মুখপাত্র অবশ্য নির্দেশিকাটিকে ‘ব্যাপক, সুচিন্তিত ও প্রমাণভিত্তিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার দাবি, যুক্তরাজ্যে ইসলামোফোবিয়া কীভাবে বৃদ্ধি ও স্বাভাবিকীকরণ হয়েছে এবং সরকার ও মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা কী ছিল, তা বোঝার জন্য নির্দেশিকাটি গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দেশিকাটিতে ইসলামোফোবিয়ার উদাহরণ হিসেবে মুসলিমদের সমষ্টিগতভাবে নারী বিদ্বেষী, অশিক্ষিত, শিশু নির্যাতনকারী বা রাষ্ট্রীয় সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হিসেবে উপস্থাপন করা, মুসলিমদের অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসা মানুষ হিসেবে দেখানো এবং মুসলিমদের অন্য মানুষের কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চাইতে বলা—এসব বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
মুসলিম গ্রিনস আরও বলেছে, মুসলিমদের একক বা অভিন্ন একটি গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তাদের মতে, মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ব্যাপক বৈচিত্র্য রয়েছে।
গ্রিন পার্টির ওয়েলস ও ইংল্যান্ড শাখার মুসলিম গ্রিনসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকায় ইসলামোফোবিয়া, অভিবাসন, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত নীতিগত অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

