TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শাবির আহমেদকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি, ‘অপরাধী বানিয়েছে ব্রিটেন’—পাকিস্তান

রচডেল গ্রুমিং গ্যাংয়ের প্রধান এবং শিশু যৌন নির্যাতনের দায়ে দণ্ডিত শাবির আহমেদকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, শাবির আহমেদের অপরাধের দায় সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাজ্যের, কারণ তিনি ব্রিটেনেই বড় হয়েছেন, সেখানেই বেড়ে উঠেছেন এবং সেখানেই অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন। এদিকে তাকে বহিষ্কারের আইনি বাধা দূর করতে অভিবাসন আইনে সংশোধনী আনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, শাবির আহমেদের জন্ম পাকিস্তানে হলেও তিনি একজন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের পুরোটা সময় যুক্তরাজ্যেই কাটিয়েছেন। তাই তার মুক্তি, নজরদারি কিংবা ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাজ্যের এখতিয়ারভুক্ত।

তিনি বলেন, “তিনি কোথায় জন্মেছেন, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তিনি কোথায় বড় হয়েছেন, কীভাবে লালিত-পালিত হয়েছেন এবং কীভাবে বিপথে গেছেন সেটিই বিবেচ্য। তার জঘন্য অপরাধের জন্য অন্য কোথাও দায় খোঁজার পরিবর্তে আত্মসমালোচনা করা উচিত।”

পাকিস্তান আরও জানিয়েছে, শিশু যৌন নির্যাতনের মতো অপরাধের তারা কঠোর নিন্দা জানায় এবং এ ধরনের অপরাধীদের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। তবে শাবির আহমেদের বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কোনো দায় বা সম্পৃক্ততা নেই বলেও স্পষ্ট করেছে দেশটি।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সোমবার হাউস অব কমন্সে ঘোষণা দেন, ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৭১-এর ধারা ৭ সংশোধন করে গুরুতর অপরাধীদের বহিষ্কারের নতুন ক্ষমতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে দেওয়া হবে। বর্তমানে ১৯৭৩ সালের আগে যুক্তরাজ্যে আসা কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নাগরিকদের বহিষ্কারে এই ধারাটি আইনি সুরক্ষা দিয়ে থাকে।

শাবানা মাহমুদ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি বৈধ বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য আইনটি থাকলেও শাবির আহমেদের মতো গুরুতর অপরাধীদের ক্ষেত্রে এটি বহিষ্কারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো উচিত নয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আইন পরিবর্তন হলেও শাবির আহমেদকে বহিষ্কার করা নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না।

৭৩ বছর বয়সী শাবির আহমেদ ২০১২ সালে ৩০টি যৌন অপরাধে, যার মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে, ২২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তিনি ১৪ বছর কারাভোগের পর চলতি মাসের ২ জুলাই কারাগার থেকে মুক্তি পান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, শাবির আহমেদকে বহিষ্কারের বিষয়ে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে রচডেল গ্রুমিং গ্যাংয়ের আরও দুই দণ্ডিত সদস্যকে নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তারাও জন্মসূত্রে পাওয়া পাকিস্তানি নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বহিষ্কার এড়ানোর চেষ্টা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তান যদি শাবির আহমেদকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে ভিসা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ সব ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।

বর্তমানে শাবির আহমেদকে একটি ২৪ ঘণ্টা তত্ত্বাবধানযুক্ত আবাসনে রাখা হয়েছে। তার পায়ে ইলেকট্রনিক ট্যাগ লাগানো হয়েছে এবং ওল্ডহ্যাম ও রচডেল এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শাবির আহমেদকে ঘিরে যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের এই অবস্থান দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে গুরুতর অপরাধীদের বহিষ্কার এবং নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত আইনি কাঠামো নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

এবছর থেকে যুক্তরাজ্যে ভারতীয়দের থাকা ও কাজের সুযোগ বাড়ছে

‘ব্রেক্সিটে আমরা হেরেছি’—নাইজেল ফারাজের হতাশা প্রকাশ

বরিস জনসনের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পরতে পারে: টরি এমপিদের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক