2.7 C
London
January 1, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শামিমা বেগমকে ঘিরে নতুন আইনি চ্যালেঞ্জঃ ইউরোপীয় আদালতের প্রশ্নে অস্বস্তিতে যুক্তরাজ্য

ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ECHR) শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশ্ন করেছে। আদালত জানতে চেয়েছে, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের আগে শামিমা বেগম শিশু পাচারের শিকার ছিলেন কি না এবং সে কারণে রাষ্ট্রের কোনো আইনি দায়িত্ব তৈরি হয়েছিল কি না—তা কি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

 

২০১৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পূর্ব লন্ডনের বাড়ি ছেড়ে শামিমা বেগম দুই বন্ধুর সঙ্গে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যান। সেখানে তাকে একজন আইএস যোদ্ধার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয় এবং তার তিনটি সন্তান জন্ম নেয়, যারা সবাই শৈশবেই মারা যায়। বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী শামিমা বেগম সিরিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে রাষ্ট্রহীন অবস্থায় বসবাস করছেন।

২০১৯ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জাতীয় নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে শামিমা বেগমের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বাতিল করেন। সেই সিদ্ধান্ত পরে আপিল আদালতে বহাল থাকে এবং বর্তমান সরকারও অবস্থান পরিবর্তন করেনি। তবে শামিমা বেগমের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তিনি মূলত শিশু পাচার ও গ্রুমিংয়ের শিকার ছিলেন।

ইউরোপীয় আদালতে প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, শামিমা বেগম ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ৪-এর আওতায় এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, যেখানে দাসত্ব ও জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আদালতের বিচারকেরা বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, পাচারের শিকার হিসেবে রাষ্ট্রের কোনো ‘ইতিবাচক দায়িত্ব’ ছিল কি না এবং সেটি নাগরিকত্ব বাতিলের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না।

শামিমা বেগমের পক্ষে থাকা আইন প্রতিষ্ঠান বির্নবার্গ পিয়ার্স সলিসিটরস জানিয়েছে, এই মামলাটি যুক্তরাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ—যেখানে রাষ্ট্রকে তার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দায়বদ্ধতা নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে। আইনজীবী গ্যারেথ পিয়ার্স বলেন, একজন ১৫ বছর বয়সী শিশুকে প্রতারণা ও প্রলোভনের মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিয়ে গিয়ে যৌন শোষণের মুখে ফেলা স্পষ্টতই শিশু পাচারের শামিল।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার তাদের অবস্থানে অনড়। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নেওয়া সিদ্ধান্ত আদালতে দৃঢ়ভাবে প্রতিরক্ষা করা হবে এবং শামিমা বেগমকে যুক্তরাজ্যে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এই মামলাকে ঘিরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ নেতারা এবং রিফর্ম পার্টির নেতারা ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের হস্তক্ষেপকে “বিদেশি বিচারকদের চাপ” হিসেবে আখ্যা দিয়ে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার দাবি পুনরায় তুলেছেন।

মামলাটি এখন ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের বিবেচনায় রয়েছে এবং এর রায় শুধু শামিমা বেগমের ভবিষ্যৎ নয়, বরং যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আইন, জাতীয় নিরাপত্তা নীতি এবং মানবাধিকার দায়বদ্ধতার ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে স্কুল হলিডেকে সামনে রেখে অস্বাভাবিক যানজটের শঙ্কা

ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রিটিশ অভিনেতা ও গায়ক

জনগণের ট্যাক্সের অর্থে পররাষ্ট্র সচিবের বিলাসবহুল প্রাইভেট জেট ভ্রমণ!

অনলাইন ডেস্ক