যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ভ্যাপিংয়ের উদ্বেগজনক বিস্তার নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। ৮১টি গবেষণার সমন্বয়ে করা এক বিস্তৃত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভ্যাপ ব্যবহারের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, কাশি, অ্যালার্জি, ঘুমের সমস্যা, চোখের উপসর্গ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা, মুখের আলসার এবং মুখ শুকিয়ে যাওয়ার মতো একাধিক স্বাস্থ্যসমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্যাপিংকে আর নিরীহ অভ্যাস হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
রয়্যাল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে অল্প বয়সে ভ্যাপ ব্যবহারকারীদের পরবর্তীতে সিগারেটে আসক্ত হওয়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। ৮১টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
গবেষণার সহলেখক অধ্যাপক উইল ক্যারল বলেন, ভ্যাপিংকে “বড় হয়ে ওঠার নিরীহ অংশ” হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, প্রমাণগুলো স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে এটি শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, নিকোটিনের ওপর নির্ভরশীলতা এবং ভবিষ্যতে সিগারেট ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত। তিনি শিশুদের কাছে ভ্যাপকে কম আকর্ষণীয় ও কম সহজলভ্য করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ব্রিটেনে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১৯ শতাংশ শিশু-কিশোর অন্তত একবার ভ্যাপ ব্যবহার করেছে। অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথের জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী হেজেল চিজম্যান বলেন, শিশুদের লক্ষ্য করে ভ্যাপের বিপণন ও প্রচারণার ওপর আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, বাজারে থাকা অনেক রঙিন ও আকর্ষণীয় নকশার ভ্যাপ শিশুদের টানার মতো করেই তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে তারা ভ্যাপের স্বাদের নাম সীমিত করা, সাধারণ মোড়ক বাধ্যতামূলক করা এবং দোকানে এগুলোকে চোখের আড়ালে রাখার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি কেবল স্বাদের নাম নয়, বাজারে কত ধরনের স্বাদ বিক্রি করা যাবে, সেটিও সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে একবার ব্যবহারযোগ্য ভ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে এবং আগামী বছর থেকে ভ্যাপের বিজ্ঞাপন ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে শিশুদের আকৃষ্ট করে এমন মোড়ক ও বিপণনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে ১২ সপ্তাহের জনমত গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও ভ্যাপের দোকান নিয়ন্ত্রণে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ভ্যাপের দোকানকে আলাদা পরিকল্পনা শ্রেণিতে আনা হবে, যাতে প্রতিটি নতুন দোকান খোলার আবেদন স্থানীয় কাউন্সিল পৃথকভাবে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, শিশু-কিশোরদের নিকোটিনে আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে

