12.1 C
London
June 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুমৃত্যু নিয়ে হামের থাবায় ইংল্যান্ডঃ নতুন আক্রান্ত শতাধিক

ইংল্যান্ডে হামের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। চলতি বছরে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও টিকাদান কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে শিশুমৃত্যু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গভীর সতর্কবার্তা।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, এ বছর দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের কারণে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে তীব্র হামের সংক্রমণে, অপরজন মারা গেছে রোগটির দীর্ঘমেয়াদি জটিলতায়।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে একই বছরে হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে ইংল্যান্ডে আরও ১০৬ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জুন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩৬ জনে। অথচ পুরো ২০২৫ সালজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯৫৯ জন। অর্থাৎ বছরের অর্ধেক সময় পার হওয়ার আগেই আগের বছরের মোট সংক্রমণের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আক্রান্তের সংখ্যা।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের বড় অংশই টিকা না নেওয়া ১০ বছর বা তার কম বয়সী শিশু। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে লন্ডন, ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চল এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস এলাকায়।

ইউকেএইচএসএর পরামর্শক মহামারিবিদ ডা. ভ্যানেসা সালিবা বলেন, হামের সংক্রমণ এখনও বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে এবং এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের এমএমআর অথবা এমএমআরভি টিকার নির্ধারিত ডোজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

তার ভাষায়, “যারা টিকা নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তারা যেকোনো বয়সে জিপি চিকিৎসকের মাধ্যমে টিকা নিতে পারেন। টিকাদান শুধু ব্যক্তিকে নয়, সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকেও সুরক্ষা দেয়।”

তবে এই পরিস্থিতিতে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা এনএইচএসের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছিলেন, শিশুদের এমএমআর টিকা নিশ্চিত করতে এনএইচএস স্পষ্টভাবেই ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলে তারা হামের ঝুঁকিতে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, সচেতনতার ঘাটতি এবং কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার অসম প্রাপ্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে টিকাদানের হার আফগানিস্তান ও মালাউইয়ের মতো দেশের সমপর্যায়ে নেমে এসেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা টিকা না নেওয়া মানুষের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠলেও নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে এটি স্থায়ী অক্ষমতা কিংবা মৃত্যুর কারণও হতে পারে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা দেয়, টিকাদানের হার কমে যাওয়া এবং সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাজ্যকে আর হাম নির্মূলকারী দেশের তালিকায় রাখা হচ্ছে না।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ইংল্যান্ডে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকার অন্তত এক ডোজ গ্রহণের হার ছিল ৯১ দশমিক ৮ শতাংশ। এটি আগের বছরের সমান এবং ২০১০-১১ সালের পর সর্বনিম্ন।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সচিব জেমস মারে শোকাহত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “এই মৃত্যুগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে হাম কোনো সাধারণ শৈশবকালীন রোগ নয়। এমএমআর টিকাই এই রোগের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।”

তিনি অভিভাবকদের প্রতি সন্তানদের টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে কি না তা যাচাই করার আহ্বান জানান এবং বলেন, কোনো ডোজ বাদ পড়লেও পরে তা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার সীমাবদ্ধতারও প্রতিফলন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউক্রেনকে ২০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তার ঘোষণা ঋষি সুনাকের

যুক্তরাজ্যে বাবা-চাচা ও সৎ মা মিলে ১০ বছরের শিশুকে হত্যা

পিতার পরিচয় নিয়ে নানা কথার মুখে প্রিন্স হ্যারির আক্ষেপ