TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইরানের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে তদন্তাধীন চ্যারিটির ভিসা ক্ষমতা বাতিলের দাবি

লন্ডনভিত্তিক ইসলামিক সেন্টার অব ইংল্যান্ড নামের একটি দাতব্য সংস্থাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানি সরকারের প্রচারণা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ এবং চ্যারিটি কমিশনের চলমান তদন্তের মধ্যেও সংস্থাটি এখনও যুক্তরাজ্যে বিদেশি ‘স্কিলড ওয়ার্কার’ ও ধর্মীয় মন্ত্রীদের জন্য ভিসা স্পনসর করার অনুমোদন ধরে রেখেছে বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের মাইডা ভেইলে অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার অব ইংল্যান্ড এখনও যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের অনুমোদিত ভিসা স্পনসর প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে। এই লাইসেন্সের মাধ্যমে সংস্থাটি বিদেশি কর্মীদের জন্য সার্টিফিকেট অব স্পন্সরশিপ (CoS) ইস্যু করতে পারে, যা যুক্তরাজ্যের ওয়ার্ক ভিসার আবেদন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংস্থাটির ভিসা স্পনসর করার ক্ষমতা বাতিলের দাবি উঠেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইরানি সরকারের সঙ্গে কথিত সম্পর্ক নিয়ে তদন্তাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে বিদেশি কর্মী আনার সুযোগ থাকা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

 

বর্তমানে চ্যারিটি কমিশন ইসলামিক সেন্টার অব ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত চলাকালে সংস্থাটিকে তাদের পরিচালনা কাঠামোর একটি নিয়ম পরিবর্তন করতে হয়েছে, যেখানে আগে ট্রাস্টি বোর্ডে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা-এর একজন ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান ছিল।

চলতি বছরের শুরুতে সংস্থাটি আরও সমালোচনার মুখে পড়ে, যখন তাদের আয়োজিত একটি ‘কমিউনিটি বাজারে’ ইরানপন্থী কী-রিং, হিজবুল্লাহ-থিমযুক্ত মোবাইল ফোন কভার এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নিহত কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ছবি সংবলিত স্টিকার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর সংস্থাটি তার স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিরও আয়োজন করেছিল।

সংস্থাটির বর্তমান পরিচালক ও ইমাম সৈয়দ হাশেম মুসাভি অতীতে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ‘শয়তানের সৈনিক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হুমকি এবং ছোট নৌকায় ইরানপন্থী ব্যক্তিদের যুক্তরাজ্যে পাঠানোর আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে ভিসা স্পনসর করার ক্ষমতা থাকা উদ্বেগজনক।

 

রাজনৈতিক সহিংসতা বিষয়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা লর্ড ওয়ালনি বলেন, তদন্তাধীন ও বিতর্কিত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ইসলামিক সেন্টার অব ইংল্যান্ডের নিবন্ধিত ভিসা স্পনসর হিসেবে থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত দ্রুত সংস্থাটির লাইসেন্স পুনর্বিবেচনা করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্পনসর লাইসেন্স দেওয়ার নীতিমালা আরও কঠোর করা।

তবে ইসলামিক সেন্টার অব ইংল্যান্ড এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বলেছেন, তারা কোনো সরকার, রাজনৈতিক সংগঠন বা ব্যক্তির সরকারি প্রতিনিধি নয়। যুক্তরাজ্যের অন্যান্য ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মতো তারাও হোম অফিসের নিয়ম মেনে স্পনসর লাইসেন্স পেয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের আইন ও তাদের দাতব্য উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ থাকা আরেকটি প্রতিষ্ঠান ইসলামিক কলেজ, উত্তর লন্ডনের উইলেসডেনে অবস্থিত, সেটিও সরকারি ভিসা স্পনসর তালিকায় রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের আল-মুস্তাফা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এদিকে দ্য টেলিগ্রাফ এর আগে আরও দাবি করেছিল, যুক্তরাজ্যের কয়েকটি ইসলামিক বইয়ের দোকানকেও বিদেশি ‘স্কিলড’ কর্মী আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব দোকানে বিক্রি হওয়া কিছু বইয়ে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য এবং উগ্রবাদে উৎসাহিত করতে পারে—এমন বিষয়বস্তু পাওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।

রিফর্ম ইউকের এমপি লি অ্যান্ডারসন এ ঘটনাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাজ্যের উচিত ডাক্তার ও প্রকৌশলীর মতো দক্ষ পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়া, বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর্মী আনার সুযোগ সৃষ্টি করা নয়।

 

অন্যদিকে হোম অফিস জানিয়েছে, ইসলামিক সেন্টার অব ইংল্যান্ড ২০২২ সালের পর থেকে আর কোনো কর্মীকে স্পনসর করেনি এবং প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে চ্যারিটি কমিশনের তদন্তাধীন রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ইরানি সরকারের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সে কারণেই IRGC-কে সমর্থন নিষিদ্ধ করতে আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিতে পারে। তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে হোম অফিস।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে উপনির্বাচন ও মেয়র পদে লেবারকে হারিয়ে জিতল ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে

যুক্তরাজ্যে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে ইসলামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুত তাহরির

যুক্তরাজ্যে কোভিড টেস্টের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষায় ভ্রমণকারীরা

নিউজ ডেস্ক