17.1 C
London
August 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শুধু কর্মজীবী শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাজ্যে নতুন সিভিল সার্ভিস ইন্টার্নশিপ চালু

যুক্তরাজ্য সরকার কর্মজীবী শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সিভিল সার্ভিস ইন্টার্নশিপ স্কিম চালুর ঘোষণা দিয়েছে। হোয়াইটহলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং নিম্ন আয়ের পরিবারের তরুণদের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুই মাসের এই বেতনভুক্ত ইন্টার্নশিপ আগামী বছর থেকে শুরু হবে, যেখানে ২০০ জন স্নাতক শিক্ষার্থীকে সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন বিভাগে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। আবেদন গ্রহণ শুরু হবে আগামী অক্টোবর থেকে। ইন্টার্নশিপ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ইভেন্ট পরিকল্পনা, মন্ত্রীদের জন্য ব্রিফিং প্রস্তুত, নীতি উন্নয়নের গবেষণা এবং সিনিয়র সিভিল সার্ভেন্টদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন।
এই স্কিমের আওতায় নির্বাচিত ইন্টার্নরা সফলভাবে কাজ সম্পন্ন করলে ফাস্ট স্ট্রিমের চূড়ান্ত পর্যায়ে সরাসরি অগ্রসর হওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মজীবী শ্রেণির সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের মানদণ্ড অনুযায়ী, যেখানে আবেদনকারীর ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সর্বোচ্চ আয়কারী ব্যক্তির পেশা বিবেচনা করা হবে। রিসেপশনিস্ট, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার বা ভ্যান ড্রাইভারের মতো পেশা থাকলে শিক্ষার্থীকে কর্মজীবী শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ধরা হবে।
ক্যাবিনেট অফিসের মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেন বলেছেন, নিম্ন আয়ের পরিবারের আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে ফাস্ট স্ট্রিম প্রোগ্রামে পিছিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, “সরকার তখনই ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যখন এটি যাদের সেবা করে তাদের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বোঝে। তাই দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে তরুণদের হোয়াইটহলের কেন্দ্রে নেতৃত্বের ভূমিকা নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।”
সামাজিক সংগঠনগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সোশ্যাল মোবিলিটি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী সারা অ্যাটকিনসন বলেছেন, “আমরা জানি প্রতিভা সর্বত্র রয়েছে, কিন্তু সুযোগ নয়। কখনও কখনও প্রকৃত সমতল ক্ষেত্র তৈরি করতে সাহসী পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
FDA ইউনিয়নের মহাসচিব ডেভ পেনম্যানও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন, তবে কর্মজীবী শ্রেণির মানুষের ক্যারিয়ার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সরকারের মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে কনজারভেটিভ দল এ সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট। কেমি বাডেনক মন্তব্য করেছেন, “আমার নেতৃত্বে, একটি কনজারভেটিভ সরকার এই ধরনের নীতিকে বাতিল করবে এবং শুধুমাত্র যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেবে।”
সরকার ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, সিভিল সার্ভিসের আকার আগামী কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। বর্তমানে এই খাতে কর্মীর সংখ্যা ২০ বছরের সর্বোচ্চ প্রায় ৫,৫০,০০০-এ পৌঁছেছে। যদিও নতুন স্কিমটি সীমিত পরিসরে চালু হচ্ছে, তবুও এটি নিম্ন আয়ের তরুণদের জন্য নীতি নির্ধারণের কেন্দ্রে প্রবেশের এক অনন্য সুযোগ তৈরি করবে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে
০২ আগস্ট ২০২৫

আরো পড়ুন

শরণার্থী বিতর্কের জেরে ডেলিভারি রাইডারদের ‘নিষিদ্ধ’ করল লন্ডনের বিলাসবহুল কমপ্লেক্স

কেট মিডলটনের ছবি বিতর্ক, নীরবতা ভাঙল রাজপরিবার

যুক্তরাজ্যে নবজাতকদের চিকিৎসা পদ্ধতি চলছে মান্ধাতার আমলের ব্যবস্থায়