বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন ও বর্তমান ভূরাজনীতির প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের ফেরত পাঠানো নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। মূল বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
-
ভারতের অবস্থানের পরিবর্তন: ৩ মাস আগেও ভারত শেখ হাসিনাকে “সম্মানিত অতিথি” হিসেবে উল্লেখ করলেও বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক হাওয়া বদলে যাওয়ার সাথে সাথে ভারতের সুরও কিছুটা নরম হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত এখন তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে।
-
বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনীতি: বাংলাদেশে নতুন তারেক রহমান সরকারের আমলে চীনের সাথে ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক (যেমন: তিস্তা মহাপরিকল্পনা) আরও মজবুত হচ্ছে। পাশাপাশি ড. ইউনূসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের একদম কাছে এভাবে চীন ও আমেরিকার প্রভাব বাড়তে থাকায় ভারত কূটনৈতিকভাবে কিছুটা একা হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
-
কেন ভারতকে ফেরত দেওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে: বাংলাদেশের সরকারি ও বিরোধী দল সবারই মূল দাবি শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা। ভারতের জন্য ১৭ কোটি মানুষের একটি দেশকে দূরে ঠেলে শুধু একজন সাবেক নেত্রীর পক্ষ নেওয়া কূটনৈতিকভাবে বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই এই অঞ্চলে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ভারত এখন গুরুত্ব দিচ্ছে।
-
বন্দী বিনিময় চুক্তি ও আইনি জটিলতা: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১৩ সালের একটি প্রত্যর্পণ (বন্দী বিনিময়) চুক্তি রয়েছে। তবে চুক্তিতে “পলিটিক্যাল ক্যারেক্টার” বা রাজনৈতিক অপরাধের একটি ধারা থাকায় ভারত চাইলে আইনি পথ ব্যবহার করে এটি ঠেকাতেও পারে। কিন্তু ভারত এখন এমন একটি “মুখরক্ষার রাস্তা” খুঁজছে যাতে মনে হয় তারা জোর করে তাড়িয়ে দেয়নি, বরং আইনি প্রক্রিয়া মেনেই তাকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
-
শেখ হাসিনার বক্তব্য ও বিচার: অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেছেন যে চুক্তি অনুযায়ী তাকে ফেরত পাওয়া যাবে। শেখ হাসিনাও জানিয়েছেন তিনি দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হতে চান। বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু অন্য কোনো দেশে যাওয়ার সুযোগ কম, তাই শেখ হাসিনা বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরতে চাচ্ছেন যেন তিনি নিজের ইচ্ছায় এবং দেশের মানুষের জন্য ফিরছেন, বাধ্য হয়ে নয়।
ভিডিওর লিংক(Banglanews24): এখানে ক্লিক করে ভিডিওটি দেখতে পারেন

