TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যের আগাম মুক্তি পরিকল্পনায় বড় মোড়ঃ ধর্ষণ মামলার দণ্ডিতদের বাদ দেওয়ার চিন্তা

কারাগারে ধারণক্ষমতার সংকট মোকাবিলায় প্রস্তাবিত আগাম বন্দি মুক্তি পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্যের সরকার। সর্বশেষ আলোচনায় ধর্ষণ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের আগাম মুক্তির সুযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার একটি প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম এবং নতুন বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিসের কাছে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—ধর্ষণের দায়ে দণ্ডিত কোনো বন্দিকেই আগাম মুক্তির আওতায় না রাখা। গত সপ্তাহে সংসদ সদস্য, ভুক্তভোগী এবং বিভিন্ন অধিকারকর্মীর তীব্র চাপের পর সরকার পুরো নীতিমালার জরুরি পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়।

এর আগে সাবেক বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সময় প্রণীত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ছয় হাজার যোগ্য বন্দিকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে আগাম মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনায় গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত কিছু বন্দিও সাজা দুই-তৃতীয়াংশ ভোগের পরিবর্তে অর্ধেক সাজা শেষে মুক্তির সুযোগ পেতে পারতেন। এছাড়া কম গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত কিছু বন্দির ক্ষেত্রে সাজা এক-তৃতীয়াংশ ভোগের পর মুক্তির সুযোগ রাখার প্রস্তাবও ছিল।

তবে নতুন করে শুরু হওয়া পর্যালোচনার কারণে ওই পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রয়েছে। গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শত শত ধর্ষণ মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আগাম মুক্তির সুযোগ থেকে বাদ পড়বেন।

তবে আলোচনায় উঠে এসেছে, ধর্ষণ মামলার আসামিদের বাদ দেওয়া হলেও নরহত্যার মতো কিছু অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আগাম মুক্তির সুযোগ বহাল থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়েও জনমনে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সরকার আরেকটি বিতর্কিত প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনা করছে, যেখানে জুরি বোর্ডের মাধ্যমে বিচার সীমিত করার পরিকল্পনা ছিল। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন, তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে চান এবং তার প্রাথমিক ধারণা হলো, জুরি বোর্ডে বিচার পাওয়ার সুযোগ কমিয়ে দেওয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, আগাম মুক্তি পরিকল্পনার মতোই এই বিষয়েও তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া নীতিগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে চান।

বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেত্রী কেমি ব্যাডেনক এবং ছায়া বিচারমন্ত্রী কিরান মুলান সরকারকে জরুরি আইন এনে আগাম বন্দি মুক্তি পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, যৌন অপরাধ ও গুরুতর সহিংস অপরাধে দণ্ডিতদের আগাম মুক্তি জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এদিকে বিচার মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানো বন্দির সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। সরকারের মতে, আগাম মুক্তি পাওয়া অনেক বন্দিকে পুনরায় কারাগারে ফেরত নিতে হওয়াও এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে সাবেক বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি আগে সতর্ক করেছিলেন, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত কিছু বন্দিকে আগাম মুক্তি না দিলে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই দেশের কারাগারগুলো প্রায় পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তার ভাষায়, কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় শতভাগে পৌঁছে গেলে বিচারব্যবস্থাই বড় সংকটে পড়বে।

তবে বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জননিরাপত্তাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই সেপ্টেম্বরে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা পরিবর্তনগুলো আপাতত স্থগিত রেখে জরুরি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে একদিকে ভুক্তভোগীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে এবং অন্যদিকে কারাগারের ধারণক্ষমতার সংকটও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: নতুন আইন ও অভিযানের ঘোষণা

আবার নিয়মভঙ্গ ঋষির

যুক্তরাজ্য আইআরপি প্রকল্পে নিবে শিক্ষক