5.5 C
London
March 26, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

সম্ভাব্য ইরান-আমেরিকা শান্তি আলোচনার আশঙ্কায় যুদ্ধ তীব্র করছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ইরানের ওপর সামরিক হামলা দ্রুততর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সেনাবাহিনীকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের অস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতাকে যতটা সম্ভব দুর্বল করে দেওয়া।

 

ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার উদ্যোগ যে কোনো সময় শুরু হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই তড়িঘড়ি এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করছে, আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ থেমে গেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক লক্ষ্য অপূর্ণ থেকে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে, যা ইসরায়েল সরকার হাতে পেয়েছে। তবে এই পরিকল্পনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি যথেষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণের নিশ্চয়তা নেই বলে ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি নির্মূল করা, দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বন্ধ করা এবং অভ্যন্তরীণভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেষোক্ত লক্ষ্য অর্জন বাস্তবে অত্যন্ত কঠিন।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে এ নিয়ে বিভক্ত মতামত দেখা যাচ্ছে। কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, এখনো ইরানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু বাকি রয়েছে এবং যুদ্ধ আরও কিছুদিন চলা উচিত। অন্যদিকে, অনেকেই দ্রুত যুদ্ধের সমাপ্তি চান, কারণ দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে অর্থনৈতিক চাপ, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং জনসাধারণের ওপর মানসিক ও শারীরিক প্রভাব বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রথম দিকে ইসরায়েল উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেলেও পরবর্তীতে সেই অগ্রগতি ধীর হয়ে গেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুদ্ধ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বাড়ছে।

এদিকে, সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা ক্ষয়যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তারা আরও বলেন, সম্ভাব্য আলোচনায় ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি নাও হতে পারে। ফলে শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে।

সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া বা বন্ধ করা—দুটোরই ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কোনো পক্ষের জন্যই সহজ বা ইতিবাচক সমাধান দৃশ্যমান নয়।

সূত্রঃ দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রেসিডেন্টের তিন শর্ত

শ্রীমঙ্গলের তৈরি পুতুল যাচ্ছে ইউরোপ আমেরিকায়

নিজ দেশে ফিরে গেলে অভিবাসীদের ৩৪ হাজার ডলার দেবে সুইডেন