TV3 BANGLA
ফিচার

‘সারা জীবন মুসলিম ছিলাম, অথচ জানতামই না’—ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন তরুণী

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায় বেড়ে ওঠা তরুণী অ্যাঞ্জেলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। শৈশব থেকে আধ্যাত্মিক পরিবেশে বড় হলেও দীর্ঘদিন নিজের ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছিল না তার। ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে অনুসন্ধানের পর ইসলামের শিক্ষায় নিজের দীর্ঘদিনের আত্মিক জিজ্ঞাসার উত্তর খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ইসলামবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘এবাউট ইসলাম’-কে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের ইসলাম গ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন অ্যাঞ্জেলা। সেখানে তিনি জানান, তার শৈশব কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নেটিভ আমেরিকান আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকায়। তার পরিবার ছিল অত্যন্ত আধ্যাত্মিক। বিশেষ করে দাদা-দাদি ছোটবেলা থেকেই তাকে সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে বিভিন্ন গল্প শোনাতেন।

অ্যাঞ্জেলার ভাষ্য অনুযায়ী, ১০ বছর বয়সে তাকে অন্যান্য আদিবাসী শিশুর সঙ্গে একটি ক্যাথলিক আবাসিক বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় দুই বছর কাটালেও ক্যাথলিক ধর্মীয় শিক্ষা তার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি। বরং ওই অভিজ্ঞতার পর তিনি বুঝতে পারেন, ক্যাথলিক ধর্মের সঙ্গে তার বিশ্বাসের মিল নেই।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন মানুষ তার ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাইতেন। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো ধর্মের নাম বলতে পারতেন না তিনি। কারণ, তাদের পারিবারিক জীবনযাপনে সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস ও প্রার্থনা ছিল গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও সেই বিশ্বাসের কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয় ছিল না।

তিনি জানান, তার পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা সব সময় বলতেন, জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ যেন প্রার্থনার মতো হয়। প্রতিদিনের কাজকর্ম ও চলাফেরার মধ্য দিয়েও সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস প্রকাশ করতে শেখানো হয়েছিল তাকে। এই শিক্ষা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয় অ্যাঞ্জেলার। তিনি একে একে নানা ধর্মের বিশ্বাস ও মতবাদ সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন। তবে কোনো ধর্মের শিক্ষাই তার কাছে পুরোপুরি বোধগম্য মনে হয়নি। সৃষ্টিকর্তা ও মানুষের সম্পর্ক নিয়ে তার মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে থাকে।

এরই মধ্যে একজন মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ওই ব্যক্তির ধর্মীয় অনুশীলন ও জীবনযাপনের সঙ্গে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পান অ্যাঞ্জেলা। বিষয়টি তাকে ইসলাম সম্পর্কে আরও জানার আগ্রহী করে তোলে।

এরপর ইন্টারনেটে ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। অ্যাঞ্জেলা বলেন, ইসলামের অনেক শিক্ষা তার কাছে অর্থবহ মনে হয়েছিল। বিশেষ করে এসব শিক্ষার বেশ কিছু বিষয় তার দাদা-দাদির কাছ থেকে শোনা বিশ্বাস ও জীবনবোধের সঙ্গে মিলে যায়।

ইসলাম সম্পর্কে জানার আগ্রহ আরও বাড়লে একটি মুদি দোকানে পুরোনো বইয়ের একটি সংগ্রহ দেখতে পান তিনি। সেখানে ইসলামবিষয়ক কয়েকটি বইও ছিল। বইগুলো কিনে বাড়িতে নিয়ে পড়তে শুরু করেন অ্যাঞ্জেলা। পরে পবিত্র কোরআন পড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

কোরআন পড়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি জানান, শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল। কারণ, কোরআনের কিছু বিষয় তার দাদার কাছ থেকে শোনা ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি মিলছিল না। তবে ভিন্নতা সত্ত্বেও তিনি পড়া চালিয়ে যান।

একপর্যায়ে কোরআনের শিক্ষা ও ইসলামের বিশ্বাস তার কাছে আরও পরিষ্কার হয়ে ওঠে। নিজের দীর্ঘদিনের আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার মিল খুঁজে পান তিনি।

সাক্ষাৎকারে অ্যাঞ্জেলা তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি তো সারা জীবন ধরেই এসব করে আসছি। অথচ কখনো জানতামই না।’ তার মতে, ইসলাম সম্পর্কে জানার পর নিজের জীবন ও বিশ্বাসের অনেক বিষয় নতুনভাবে বুঝতে পেরেছেন তিনি।

আদিবাসী সংস্কৃতি, পারিবারিক আধ্যাত্মিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে দীর্ঘ অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এই অভিজ্ঞতাই সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন মার্কিন তরুণী অ্যাঞ্জেলা।

সূত্রঃ এবাউট ইসলাম

এমকে

আরো পড়ুন

‘আমলনামা’ নিয়ে তোলপাড়, রাফির বিরুদ্ধে মামলার ঘোষণা সেই একরামুলের স্ত্রীর

নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপঃ যুক্তরাজ্যে শিশু-কিশোরদের মধ্যেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ঝুঁকি

আট মিনিটের ক্লিনিক্যাল ডেথঃ ফিরে এসে মৃত্যুর অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্ময়কর দাবি নারীর