ভিসা ও ভ্রমণ অনুমোদনের নিয়ম সম্পর্কে বিভ্রান্তির কারণে বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন হাজারো ব্রিটিশ নাগরিক। প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সঙ্গে না থাকা বা নির্ধারিত অনুমোদন না নেওয়ার কারণে সীমান্তে তাদের আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফ্লাইটে উঠতেও দেওয়া হচ্ছে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান-এর ৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠান কনফিউজড ডটকম-এর নতুন গবেষণায় ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মাত্র দুটি গন্তব্যে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ২ হাজার ৮০০ জনের বেশি ব্রিটিশ নাগরিককে সীমান্তে প্রবেশে বাধার মুখে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৪ সালে ২৪২ জন ব্রিটিশ নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। গত বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫১ জনে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ইলেকট্রনিক সিস্টেম ফর ট্রাভেল অথরাইজেশন—ইএসটিএ প্রয়োজন। ২০০৮ সালে চালু হওয়া এই ব্যবস্থা ভিসা-মওকুফ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারীদের জন্য প্রযোজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রে শুধু বিমান পরিবর্তনের জন্য যাওয়া হলেও ইএসটিএ প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, কোনো ব্রিটিশ যাত্রী যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ঘণ্টার জন্য অবস্থান করেন এবং বিমানবন্দর থেকে বের না হয়েও অন্য দেশে যাওয়ার সংযোগকারী ফ্লাইট ধরেন, তবুও প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া ভ্রমণে সমস্যা হতে পারে।
বর্তমানে ইএসটিএ-এর আবেদন ফি ৪০ দশমিক ২৭ মার্কিন ডলার, যা প্রায় ৩০ পাউন্ড। গত বছর এই ফি ছিল ২১ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৫ দশমিক ৩৮ পাউন্ড।
অস্ট্রেলিয়াতেও ভ্রমণ নথি সংক্রান্ত সমস্যায় ব্রিটিশ নাগরিকদের প্রবেশে বাধার ঘটনা ঘটেছে। কনফিউজড ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ভ্রমণ নথির সমস্যার কারণে ৩০০ জনের বেশি ব্রিটিশ নাগরিককে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ছুটির উদ্দেশ্যে অস্ট্রেলিয়া যেতে ব্রিটিশ নাগরিকদের ই-ভিসা প্রয়োজন। এই অনুমোদনের মাধ্যমে ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করা যায়। ই-ভিসার জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। তবে ভ্রমণের আগে আবেদন করা বাধ্যতামূলক।
এদিকে কিছু দেশের ভ্রমণ নিয়ম সম্প্রতি পরিবর্তন হয়েছে। চীন ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছে, যা ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কাও ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন—ইটিএ-এর আবেদন ফি বাতিল করেছে। আগে এর জন্য ৫০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ পাউন্ড দিতে হতো। বর্তমানে আবেদনটি বিনামূল্যে হলেও ভ্রমণের আগে ইটিএ-এর জন্য আবেদন করতে হবে।
ইউরোপ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। আগামী বছর থেকে ইউরোপের নির্দিষ্ট দেশগুলোতে ভ্রমণের জন্য ব্রিটিশ নাগরিকদের ইটিআইএএস প্রয়োজন হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ইটিআইএএস যুক্তরাষ্ট্রের ইএসটিএ-এর মতো একটি ভ্রমণ অনুমোদন ব্যবস্থা। এর খরচ হবে ১৮ পাউন্ড এবং অনুমোদনটি তিন বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভ্রমণকারীদের প্রয়োজনীয় ভিসা ও ভ্রমণ অনুমোদন সম্পর্কে তথ্য দিতে কনফিউজড ডটকম একটি নতুন ভিসা চেকার টুল চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা যাবে।
কনফিউজড ডটকমের ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বিশেষজ্ঞ টম ভন বলেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে গিয়ে প্রবেশে প্রত্যাখ্যাত হওয়া কোনো ভ্রমণকারীই প্রত্যাশা করেন না। তবে গন্তব্য দেশের প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নিশ্চিত না থাকলে এটি বাস্তব ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের ভিসা ও প্রবেশের নিয়ম জটিল এবং একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সামান্য ভুলের কারণেও কাউকে প্রবেশে প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে এবং এর ফলে তার ছুটির পরিকল্পনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
টম ভন আরও বলেন, কোনো দেশে প্রবেশে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঘটনা সাধারণ ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্সের আওতায় নাও পড়তে পারে।
সূত্রঃ দ্য সান \ কনফিউজড ডটকম
এম.কে

