ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে যাওয়া ঠেকাতে ফরাসি সৈকতে সক্রিয় হওয়া ব্রিটিশ কর্মীদের গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এসব ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বাধাদান ও গুরুতর সহিংসতার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে Raise the Colours নামের একটি ব্রিটিশ আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের পর। সংগঠনটি ইউনিয়ন জ্যাক ও সেন্ট জর্জের ক্রস সম্বলিত পতাকা প্রদর্শনের মাধ্যমে অভিবাসনবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে আসছে এবং নিজেদের তৎপরতাকে “বেসামরিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ” হিসেবে বর্ণনা করছে।
৫ ডিসেম্বর ফরাসি পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, যখন Raise the Colours–এর একটি দল ইংল্যান্ডগামী ছোট নৌকা ঠেকানোর চেষ্টায় জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে কর্মীদের সমুদ্রে নেমে অভিবাসীদের দিকে চিৎকার করতে এবং নৌকা ব্যবহারের অযোগ্য করার অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৪১,৪৭২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে, যা এ ধরনের পারাপারের ক্ষেত্রে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক সংখ্যা। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মোট প্রায় ৬৫ হাজার অভিবাসী চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে।
এই পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। ব্রিটিশ পক্ষ অভিযোগ করে আসছে, ফ্রান্স সমুদ্রে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেরি করছে, বিশেষ করে সৈকতের কাছে পৌঁছানো মানবপাচারকারীদের ‘ট্যাক্সি বোট’ ঠেকানোর ক্ষেত্রে।
ফরাসি প্রশাসন জানিয়েছে, ব্রিটিশ কর্মীদের কর্মকাণ্ডের পর কালে অঞ্চলে স্থানীয়, জোনাল ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয়মূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, উপকূলে এসব অননুমোদিত তৎপরতা নিয়ে সরকার সন্তুষ্ট নয়। তাদের মতে, কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে এই ধরনের কর্মকাণ্ড আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বুলোয়েনের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তর জানিয়েছে, সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। একই সঙ্গে কালে ও ডানকার্ক প্রশাসনকে উপকূলে ব্রিটিশ কট্টর ডানপন্থী কর্মীদের উপস্থিতির বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছে।
Raise the Colours–এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফরাসি ও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা নিজেরাই উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে। সংগঠনটির এক সূত্র বলেন, অভিবাসী নৌকা থামাতে সরকারগুলোর আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়া উচিত।
গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত অ্যাংলো-ফরাসি শীর্ষ বৈঠকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রথমবারের মতো সাগরে অভিজাত পুলিশ ইউনিট নামানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও, প্রাণহানির ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ ইউনিয়নের আপত্তিতে সেই কৌশল এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসন সংকট, সীমান্ত নিরাপত্তা ও নাগরিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে ইংলিশ চ্যানেল ঘিরে লন্ডন ও প্যারিসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

