7 C
London
March 4, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

স্থায়ী বসবাসের সময় ১০ বছর করার পরিকল্পনায় বিপাকে যুক্তরাজ্যের স্কিল্ড ওয়ার্কাররা

যুক্তরাজ্যে কর্মসংস্থান ও স্থায়ী ভবিষ্যতের আশায় আসা হাজারো দক্ষ অভিবাসী নতুন অভিবাসন নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ব্রিটিশ সরকারের বিবেচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, স্কিলড ওয়ার্কার ভিসাধারীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন—আইএলআর পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হতে পারে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় আইন মেনে কাজ করার পর অভিবাসীরা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত এবং স্থায়ী হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া বহু কর্মী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে চলমান প্রক্রিয়ার মাঝপথে নিয়ম পরিবর্তনের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

শ্রীলঙ্কা থেকে যুক্তরাজ্যে আসা সিনিয়র কেয়ার কর্মী কুশানি সুরাওয়েরা ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান পাঁচ বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ অনুসরণ করে। তার সন্তানরা যুক্তরাজ্যে স্কুলে ভর্তি হলেও স্বামী শ্রীলঙ্কায় থেকে পরে পরিবারের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তার স্বামীর আকস্মিক মৃত্যু হলে তিনি ভিসা নবায়ন প্রক্রিয়ার কারণে দেশে ফিরতে পারেননি। এতে স্বামীর শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, অভিবাসন সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যক্তিগত শোকও দূর থেকে বহন করতে হয়েছে।

একই ধরনের অনিশ্চয়তায় রয়েছেন দীপা নাটারাজান ও তার স্বামী বিনোথ সেকার। তারা প্রায় আট মাসের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারতেন। তবে বর্তমান অভিবাসন অবস্থার কারণে প্রয়োজনীয় কিছু ফার্টিলিটি চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন না। সময়সীমা বাড়ানো হলে পরিবার গঠনের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এই দম্পতিসহ অনেক অভিবাসী স্কিল মাইগ্র্যান্টস অ্যালায়েন্স নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে সরকারের সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘদিন বৈধভাবে কাজ করা অভিবাসীদের জন্য নীতির হঠাৎ পরিবর্তন গুরুতর মানবিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের উপনির্বাচনী রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ-এর ওপর কঠোর অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন আনার চাপ তৈরি হলেও সরকার এখনো পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি। সরকারি সূত্র বলছে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং শ্রমবাজারে ভারসাম্য আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বিবেচনা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কা থেকে আসা আরেক অভিবাসী জেমস থেজে গুনাতিলাকে বলেন, পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে নতুন জীবন শুরু করতে তারা সঞ্চয়ের প্রায় সব অর্থ ব্যয় করেছেন। পাঁচ বছর পর স্থায়ী হওয়ার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছিলেন।

তার বক্তব্য, তারা বিশেষ সুবিধা চান না; বরং আইন মেনে বসবাস ও কাজ করার পর একটি স্থিতিশীল ও ন্যায্য ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার সুযোগ প্রত্যাশা করেন।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং মোট অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে। দক্ষ কর্মীদের বেতন ও যোগ্যতার মান বাড়ানোসহ অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাজ্যে কর্মরত বহু দক্ষ বিদেশি কর্মী ও তাদের পরিবার দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারেন, যা শ্রমবাজার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য-সুইজারল্যান্ড বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক সংঘাত চায় ডিপ স্টেটঃ তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাজ্য লুটন কাউন্সিলে দেখা দিয়েছে ছাড়পোকা আতঙ্ক