মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধজনিত ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কঠোর হুমকি দিয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মেহদি তাবাতাবায়ি এক বিবৃতিতে জানান, একটি নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করা হবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রানজিট ফি থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ ব্যবহার করে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।
তাবাতাবায়ি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ এনে বলেন, এই সংঘাতের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে হতাশা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু—ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
এর আগে সামাজিক মাধ্যমেও ট্রাম্প একই ধরনের হুমকি দিয়ে বলেন, সময়সীমা অতিক্রম হলে ইরানকে “নরকসম পরিস্থিতি”র মুখোমুখি হতে হবে। তিনি “মঙ্গলবার রাত ৮টা (পূর্বাঞ্চলীয় সময়)” উল্লেখ করে একটি রহস্যজনক বার্তাও প্রকাশ করেন, যা নতুন সময়সীমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ নিয়ে যে কোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ইরানের শর্ত ও যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে এটি বড় আকারের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়ার আশঙ্কা জোরালো হয়ে
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

