15.4 C
London
June 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

“১০ বছর আগের কাবুলের চেয়েও খারাপ লন্ডনের মোবাইল নেটওয়ার্ক”— বিস্ফোরক দাবি সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মোবাইল নেটওয়ার্কের অবস্থা ১০ বছর আগের আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের চেয়েও খারাপ বলে দাবি করেছেন দেশটির সাবেক নিরাপত্তা মন্ত্রী টম টুগেনডহ্যাট। তিনি অভিযোগ করেছেন, জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে বর্তমান লেবার সরকার “লোক দেখানো প্রকল্পে” অর্থ ব্যয় করায় মোবাইল নেটওয়ার্ক সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক এই কনজারভেটিভ এমপি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ডালউইচ এলাকায় অবস্থান করেও তিনি নির্ভরযোগ্য মোবাইল সেবা পাচ্ছেন না। O2 এবং EE—দুটি ভিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্কের গ্রাহক হওয়া সত্ত্বেও তিনি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছেন না বলে দাবি করেন।

টম টুগেনডহ্যাট, যিনি ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, লিখেছেন, “আমি এক দশক আগে কাবুলে যে মোবাইল সেবা পেয়েছিলাম, এখন লন্ডনে তার চেয়েও খারাপ সিগন্যাল পাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “ব্রিটেনের বিশাল অংশে মোবাইল ফোন প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। ফ্রান্সের মতো ট্রেনে বসে কাজ করাও এখানে সম্ভব নয়। অথচ সরকার সাইকেল লেন ও পথচারী পারাপার প্রকল্পে ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করছে।”

টুগেনডহ্যাটের অভিযোগ, বর্তমান সরকার জরুরি ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের পরিবর্তে “ভার্চু সিগন্যালিং” বা রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তবে শুধু সরকারের সমালোচনাতেই থেমে থাকেননি তিনি। EE, O2 এবং Vodafone-এর মতো শীর্ষ মোবাইল অপারেটরগুলোকেও একহাত নেন এই সাবেক মন্ত্রী। তার দাবি, বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠান সেবার মান উন্নয়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না।

O2-কে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “সিগন্যালের মান খারাপ হয়েছে, কিন্তু দাম বেড়েছে। O2-এর সেবা সবচেয়ে হতাশাজনক।”

অন্যদিকে EE-এর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “আপনারা O2 ও Vodafone-এর সঙ্গে প্রায় একচেটিয়া বাজার গড়ে তুলেছেন। ফলে সেবার উন্নয়নের কোনো তাগিদ নেই।”

মোবাইল নেটওয়ার্ক বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান Ookla-এর গত বছরের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১১টি বড় শহরের মধ্যে লন্ডনের ৫জি পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে নিচে। এমনকি শেফিল্ড ও কার্ডিফের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট শহরও লন্ডনের চেয়ে ভালো অবস্থানে ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে পরিকল্পনা অনুমোদনের জটিলতা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে পর্যাপ্ত সংখ্যক মোবাইল অ্যান্টেনা স্থাপন করা যাচ্ছে না। ফলে জনবহুল এলাকাগুলোতে নেটওয়ার্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন মোবাইল ইউকের প্রধান নির্বাহী হামিশ ম্যাকলিয়ড সম্প্রতি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, পরিকল্পনা অনুমোদনের জটিলতার কারণে লন্ডনের প্রায় ৭ শতাংশ মোবাইল সাইট যেকোনো সময় অকার্যকর অবস্থায় থাকতে পারে।

এদিকে টম টুগেনডহ্যাটের অভিযোগের জবাবে O2 জানিয়েছে, নির্ভরযোগ্য সংযোগ নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তবে পুরোনো পরিকল্পনা নীতিমালার কারণে নতুন অবকাঠামো স্থাপন ও বিদ্যমান অবকাঠামো আধুনিকায়নে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

O2-এর এক মুখপাত্র বলেন, “কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প সাইট অনুমোদনের আগেই পুরোনো মোবাইল সাইট অপসারণ করা হচ্ছে, যা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”

অন্যদিকে EE দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ৫জি নেটওয়ার্ক বর্তমানে তাদেরই রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, “Ofcom-এর তথ্য অনুযায়ী, অন্য যেকোনো অপারেটরের তুলনায় EE-এর গ্রাহকেরা বেশি সময় ৫জি সংযোগ ব্যবহার করছেন।”

তবে তিনি স্বীকার করেন যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কিছু এলাকায় গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন হতে পারে এবং সিগন্যাল সীমিত থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্রমবর্ধমান মোবাইল নির্ভরতার এই যুগে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো উন্নয়ন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং অর্থনীতি, উৎপাদনশীলতা এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য একটি মৌলিক প্রয়োজন। ফলে লন্ডনের মতো বিশ্বনগরীতে মোবাইল সেবার মান নিয়ে ওঠা প্রশ্ন ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল সক্ষমতা নিয়ে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ভিসা রিনিউয়ের ক্ষেত্রে নতুন বেতনের প্রান্তিকতা প্রদর্শন কর‍তে হবে নাঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে মর্টগেজ নীতিতে শিথিলতা, বাড়ির স্বপ্ন পূরণে নতুন আশার আলো

ঋণে জর্জরিত যুক্তরাজ্যের ক্রয়ডন কাউন্সিল, আবর্জনা ও অপরাধে নাজেহাল শহরবাসী