ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইইউ লিডারস সামিট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম–এ ইউরোপীয় ইউনিয়ন অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন অনুমোদন করেছে। নতুন ডাবলিন রেগুলেশন আপডেট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ইউরোপের যেকোনো দেশে একবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক ডাটা দিলে, অন্য কোনো ইইউ কান্ট্রিতে গিয়ে আর নতুন করে অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশন করতে পারবে না।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কাউকে যদি সেকেন্ড কান্ট্রিতে ধরা হয় এবং তার ডাটা আগে থেকেই ইইউ সিস্টেমে থাকে, তাহলে তাকে ইমিডিয়েটলি ফার্স্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট কান্ট্রিতে রিটার্ন করা হবে। এই প্রক্রিয়াটি ২০২৬ সালের মাঝামাঝি থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই আপডেটের আওতায় পুরো ইউরোপে একটি সেন্ট্রাল ডিজিটাল বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ চালু করা হবে। কোনো কান্ট্রিতে ফিঙ্গার নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই তথ্য রিয়েল-টাইমে অন্যান্য ইইউ মেম্বার স্টেট, পুলিশ এবং ইউরোপিয়ান এজেন্সিগুলোর কাছে দৃশ্যমান হবে। ফলে আগের মতো তথ্য লুকিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
ইইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নিয়ম ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে ফুললি ইমপ্লিমেন্ট করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে একটি ইউনিফর্ম অ্যাসাইলাম সিস্টেম চালু হবে, যেখানে প্রতিটি কান্ট্রির দায়িত্ব ও সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকবে।
ইইউর ভাষ্য অনুযায়ী, এই আপডেটের মূল উদ্দেশ্য হলো
— ইররেগুলার মাইগ্রেশন কমানো
— এক কান্ট্রি থেকে আরেক কান্ট্রিতে অবৈধভাবে যাওয়ার প্রবণতা বা সেকেন্ডারি মুভমেন্ট বন্ধ করা
— অ্যাসাইলাম প্রসেসকে আরও ফাস্ট, ট্রান্সপারেন্ট ও কন্ট্রোলড করা
এই সিদ্ধান্তের ফলে যারা ইতালি হয়ে ফ্রান্স, জার্মানি বা অন্য কোনো ইইউ কান্ট্রিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় ওয়ার্নিং। নতুন রুল কার্যকর হওয়ার পর ভ্যালিড ভিসা বা লিগ্যাল রুট ছাড়া বর্ডার ক্রস করা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন থেকে ইউরোপে থাকতে হলে অবশ্যই লিগ্যাল স্ট্যাটাস, সঠিক ডকুমেন্টেশন এবং অনুমোদিত প্রসিডিউরের ওপর নির্ভর করতে হবে। অন্যথায়, ফার্স্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট কান্ট্রিতে ফেরত পাঠানো প্রায় নিশ্চিত।
সূত্রঃ পলিটিকো ইউরোপ
এম.কে

