যুক্তরাজ্যের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বেসরকারি ভাড়া দেওয়া বাড়ির মালিকদের জন্য জ্বালানি দক্ষতা সংক্রান্ত নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০৩০ সালের মধ্যে অধিকাংশ বেসরকারি ভাড়া দেওয়া বাড়িকে এনার্জি পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট বা ইপিসি-তে ব্যান্ড সি অথবা সমমানের পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বৈধ অব্যাহতি বা ছাড় থাকতে পারে।
সরকারের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো বাড়ির জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানো, ভাড়াটিয়াদের জ্বালানি বিল কমাতে সহায়তা করা এবং পুরোনো ও কম-দক্ষ বাড়িগুলোকে আধুনিকায়ন করা।
নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার সময়সীমা এখনো কয়েক বছর দূরে থাকলেও বাড়িওয়ালাদের আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব সম্পত্তির বর্তমান ইপিসি মান ব্যান্ড সি-এর নিচে, সেসব বাড়িতে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নকাজ করতে সময় লাগতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বাড়ি যদি নির্ধারিত জ্বালানি দক্ষতার মান পূরণ না করে, তাহলে বাড়িওয়ালাকে সম্পত্তিতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করতে হতে পারে। এর মধ্যে বাড়ির দেয়াল, ছাদ, জানালা, তাপ নিরোধক ব্যবস্থা এবং গরম রাখার প্রযুক্তির উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘ফ্যাব্রিক ফার্স্ট’ পদ্ধতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রথমে বাড়ির কাঠামোগত জ্বালানি দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সম্পত্তি প্রয়োজনীয় কাঠামোগত মানে পৌঁছানোর পর অথবা বৈধ অব্যাহতি পাওয়ার পর বাড়িওয়ালা পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।
পরবর্তী ধাপে বাড়িওয়ালাদের জন্য বিভিন্ন বিকল্প থাকতে পারে। এর মধ্যে হিট পাম্প স্থাপন করে বাড়ির গরম রাখার ব্যবস্থা উন্নত করা অথবা সোলার প্যানেল ও স্মার্ট মিটার স্থাপনের মাধ্যমে বাড়ির জ্বালানি ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করার মতো পদক্ষেপ রয়েছে।
তবে শুধু পুরোনো ধরনের গ্যাস বয়লার ব্যবহার করলেই নির্ধারিত ব্যান্ড সি মান অর্জন করা সম্ভব হবে না—এমন ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে।
ইপিসি ব্যান্ড সি তুলনামূলকভাবে জ্বালানি-সাশ্রয়ী বাড়ির নির্দেশক। সাধারণভাবে এ ধরনের বাড়িতে তাপ ধরে রাখার সক্ষমতা, জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা এবং গরম করার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বেশি থাকে।
সরকার জানিয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে বেসরকারি ভাড়া দেওয়া বাড়ির জ্বালানি দক্ষতার মান দীর্ঘমেয়াদে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে যত বেশি সম্ভব বাড়িকে ব্যান্ড সি বা সমমানের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারের নীতিমালার কিছু অংশ এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালের পরামর্শ প্রক্রিয়ার পর বিভিন্ন নীতিগত বিকল্প নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন নিয়মের ফলে বাড়িওয়ালাদের ওপর সংস্কার ব্যয়ের চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে পুরোনো বাড়িগুলোকে ইপিসি ব্যান্ড সি-তে উন্নীত করতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন হলে বাড়িওয়ালাদের উল্লেখযোগ্য অর্থ বিনিয়োগ করতে হতে পারে। সম্পত্তির ধরন ও প্রয়োজনীয় কাজের ওপর এই ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে।
অন্যদিকে ভাড়াটিয়াদের জন্য এই পরিবর্তনের সম্ভাব্য সুবিধাও রয়েছে। বাড়ির জ্বালানি দক্ষতা বাড়লে শীতকালে ঘর গরম রাখতে তুলনামূলক কম জ্বালানি প্রয়োজন হতে পারে, ফলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি বিল কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বাড়িওয়ালাদের অতিরিক্ত সংস্কার ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভাড়ার ওপর প্রভাব ফেলবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে নতুন জ্বালানি দক্ষতার নিয়ম বাস্তবায়নের সঙ্গে ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা—উভয় পক্ষের স্বার্থের ভারসাম্য রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
বাড়িওয়ালাদের জন্য মূল বার্তা হলো—২০৩০ সালের সময়সীমার জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে এখন থেকেই সম্পত্তির ইপিসি মান যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরিকল্পনা করা। বিশেষ করে যেসব বাড়ির ইপিসি ব্যান্ড সি-এর নিচে, সেগুলোর মালিকদের সম্ভাব্য ব্যয়, সংস্কারের সময় এবং ভবিষ্যৎ সরকারি নির্দেশনা বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
সরকারের চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশের পর কোন সম্পত্তির ক্ষেত্রে ঠিক কী ধরনের উন্নয়ন বাধ্যতামূলক হবে, কত টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে অব্যাহতি দেওয়া হবে—এসব বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।
ফলে ২০৩০ সালের সময়সীমা এখনো কয়েক বছর দূরে থাকলেও ব্রিটেনের বেসরকারি ভাড়া-বাড়ির বাজারে জ্বালানি দক্ষতার মান বাড়ানোর চাপ ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি শুধু নতুন নিয়ম মানার বিষয় নয়; বরং ভবিষ্যতে সম্পত্তির মূল্য, ভাড়া এবং বিনিয়োগের সিদ্ধান্তের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে

