আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাজ্যে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন হোম অফিস সীমান্ত বিধি। নতুন ক্ষমতার আওতায় কেবল একটি ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের নিশ্চয়তা আর থাকবে না বলে জানানো হয়েছে। নিয়মগুলো ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, নতুন বিধির মাধ্যমে বর্ডার ফোর্স কর্মকর্তাদের ক্ষমতা আরও জোরদার করা হচ্ছে। তারা কোনো ব্যক্তির যুক্তরাজ্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক ও বসবাসের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত প্রমাণ চাইতে পারবেন।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—যেমন Heathrow Airport, Gatwick Airport এবং Manchester Airport—এ আগত যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাড়তি যাচাই হতে পারে। কর্মকর্তারা দেশের সঙ্গে আর্থিক, পারিবারিক বা স্থায়ী বসবাসের সম্পর্কের প্রমাণ চাইতে পারেন। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যানও করা হতে পারে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আইন মেনে চলা অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিকের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি নজরদারি করা হবে। বিশেষ করে দ্বৈত নাগরিকত্বধারী এবং টানা তিন বছর বা তার বেশি সময় বিদেশে বসবাসকারী ব্যক্তিরা অতিরিক্ত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন।
এছাড়া যেসব ব্রিটিশ নাগরিকের কাউন্সিল ট্যাক্স বকেয়া রয়েছে, অনাদায়ী জরিমানা আছে অথবা অমীমাংসিত করসংক্রান্ত বিষয় রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও জিজ্ঞাসাবাদ কঠোর হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। যদিও সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার অংশ হিসেবেই নেওয়া হচ্ছে।
নতুন এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের প্রবেশাধিকারে শর্ত আরোপের বিষয়টি নজিরবিহীন না হলেও এটি বাস্তবায়নের ধরন ও প্রয়োগের মাত্রা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

