19.7 C
London
October 1, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

৩০ নভেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যে পড়তে বাড়তি অর্থ দেখাতে হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার খরচ বহনের সক্ষমতা প্রমাণে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যাংক হিসাবে দেখাতে হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, ভিসা ফি এবং স্বাস্থ্যসেবা সারচার্জের বাইরে দেশটিতে অবস্থানকালে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর মতো পর্যাপ্ত অর্থ থাকার প্রমাণ দিতে হবে।

নতুন নির্ধারিত হারে লন্ডনে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড হিসাবে অর্থ দেখাতে হবে। সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড।

অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে পড়াশোনা ও অবস্থান করতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড হিসাবে অর্থ দেখাতে হবে। সর্বোচ্চ নয় মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড।

নতুন আর্থিক শর্ত ৩০ নভেম্বর ২০২৬ বা তার পর জমা দেওয়া স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, কেউ যদি ৩০ নভেম্বরের আগে আবেদন জমা দেন, তাহলে তার আবেদন পুরোনো আর্থিক সীমার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।

এ কারণে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের আবেদন জমা দেওয়ার সময়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে।

স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ২৮ দিনের নিয়ম। আবেদনকারীকে ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন ধরে রাখতে হবে।

অর্থাৎ, ভিসা আবেদনের ঠিক আগে ব্যাংক হিসাবে প্রয়োজনীয় অর্থ জমা করলেই হবে না। নির্ধারিত অর্থ ২৮ দিনের ধারাবাহিক সময় ধরে অ্যাকাউন্টে থাকার প্রমাণও দিতে হবে।

নতুন নিয়মে লন্ডনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতার শর্ত তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ রাজধানী লন্ডনে জীবনযাত্রার ব্যয় যুক্তরাজ্যের অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি হওয়ায় সেখানে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার পরিকল্পনা করার সময় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নয়, ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় জীবনযাত্রার খরচের অর্থও আগে থেকেই প্রস্তুত রাখতে হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই আর্থিক শর্ত টিউশন ফি-এর বিকল্প নয়। একইভাবে ভিসা আবেদন ফি বা ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জও এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থীকে তার কোর্সের টিউশন ফি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচের পাশাপাশি নির্ধারিত জীবনযাত্রার ব্যয় বহনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রমাণ দিতে হবে।

যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতার এই শর্ত মূলত নিশ্চিত করতে চায় যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থানকালে নিজেদের দৈনন্দিন খরচ বহন করতে সক্ষম।

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর তাদেরও ভিসা আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং ২৮ দিনের সময়সীমা যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষ করে ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর কাছাকাছি সময়ে আবেদন করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংক হিসাবে না থাকলে ভিসা আবেদনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন Statement of Changes to the Immigration Rules, HC 584-এ স্টুডেন্ট ভিসার আর্থিক শর্তে এই পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও নিজেদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ যাচাই করে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ ইউকে.গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ইমামের ছদ্মবেশে জিনের খপ্পরঃ ভয় দেখিয়ে ৭ নারী-শিশুকে ধর্ষণ

নিউজ ডেস্ক

ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

হিটওয়েভে আইটি সিস্টেম বিধ্বস্ত, রোগীদের অপারেশন বাতিল করলো এনএইচএস