মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন, শান্তি রক্ষা ও গণতন্ত্রের প্রসারে কাজ করা ৬৬টি গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক প্রেসিডেনশিয়াল মেমোরেন্ডামে তিনি জানান, পর্যালোচনার পর এই সংস্থাগুলোকে মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্র উক্ত সংস্থাগুলোতে অংশগ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর যাবতীয় তহবিল বা অর্থায়নও বাতিল করে দেবে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে দ্বিতীয় মেয়াদে তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকা প্রথম নীতির চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের তালিকায় জাতিসংঘের বাইরে থাকা ৩৫টি সংস্থার নাম রয়েছে, যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। যদিও এটি জলবায়ু বিজ্ঞানের শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক সংস্থা, তবুও একে ত্যাগের তালিকায় রাখা হয়েছে।
এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকটোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা ইউএনএফপিএ-র মতো ৩১টি জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকেও নাম প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। এই তালিকায় যুদ্ধকবলিত শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির কার্যালয়ও রয়েছে, যা ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে।
প্রকাশ্যে এসব সংস্থা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ট্রাম্প তার প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগই ছাড়ছেন না। জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত জ্বালানির ওপর কর আরোপের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার হুমকি এবং গাজায় গণহত্যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশকারী জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এর বড় উদাহরণ।
এছাড়া ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য নিয়োজিত সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-তে অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্তও বহাল রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অনেক উদ্যোগকেই আটকে দিচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প একের পর এক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিচ্ছেন। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল উল্লেখযোগ্য। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, যক্ষ্মা ও কোভিড-১৯-এর মতো রোগ মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও-র মোট তহবিলের প্রায় ১৮ শতাংশই আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্র এসব সংস্থায় পুনরায় যোগ দিলেও ট্রাম্প তার পুরনো নীতিতে ফিরে গিয়ে বিশ্বব্যবস্থায় এক নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছেন।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

