TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

৭ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরোপ ভ্রমণে ব্রিটিশদের নতুন নিয়মঃ বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের আশঙ্কা

ইউরোপে ছুটি কাটাতে যাওয়া ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম—ইইএস—পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা। এর ফলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের শেনজেন এলাকায় প্রবেশের সময় নতুন সীমান্ত যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

নতুন ব্যবস্থায় ব্রিটিশ নাগরিকদের সীমান্তে আঙুলের ছাপ নিবন্ধন এবং ছবি তোলার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে। এই ব্যবস্থা শেনজেন এলাকার ২৯টি দেশে প্রযোজ্য হবে, যার অধিকাংশই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য।

নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এপ্রিল থেকেই শুরু হয়েছিল। তবে চালুর পর বিভিন্ন ইউরোপীয় বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার লাইন তৈরি হওয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এমনকি কিছু যাত্রী দীর্ঘ সীমান্ত যাচাইয়ের কারণে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটও মিস করেছেন।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ‘ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে’ এই ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে সীমান্তে অপেক্ষার লাইন অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই নমনীয়তা ব্যবহার করতে পারছে।

কিন্তু ৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেই সাময়িক অব্যাহতির সুযোগ আর থাকবে না। অর্থাৎ বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইন তৈরি হলেও দেশগুলো পরিস্থিতি সামাল দিতে সাময়িকভাবে এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম বন্ধ করতে পারবে না। ফলে ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্পেন, ফ্রান্স ও গ্রিসের মতো ব্রিটিশদের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলো এরই মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী এই নমনীয়তার সুযোগ ব্যবহার করেছে।

জুলাই মাসে বেলজিয়াম, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, ইতালি, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল ও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের কাছে চিঠি দিয়ে দীর্ঘ যানজট বা অপেক্ষার ক্ষেত্রে এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম থেকে সাময়িক অব্যাহতির সুযোগ অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেছিল।

দেশগুলো নতুন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পক্ষে থাকলেও বড়দিনের আগে হঠাৎ করে কোনো প্রস্তুতির সুযোগ ছাড়া কঠোরভাবে নিয়ম কার্যকর করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।

এরই মধ্যে চলতি গ্রীষ্মে নতুন সীমান্ত ব্যবস্থার কারণে ইউরোপ ভ্রমণকারী অনেক ব্রিটিশ নাগরিক ভোগান্তিতে পড়েছেন। কিছু পর্যটক জানিয়েছেন, তাদের বিমানবন্দরে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবার দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে কয়েকজন যাত্রী তাদের ফ্লাইটও হারিয়েছেন।

এখন নতুন ব্যবস্থার প্রয়োগ আরও কঠোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ ভ্রমণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে যাদের সামনে ইউরোপে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের বিমানবন্দরে অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেমের আওতায় শেনজেন এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার তথ্য ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের সীমান্ত পারাপার আরও আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

তবে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যদি দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমে বিমানবন্দরে বড় ধরনের ভিড় তৈরি হতে পারে।

ব্রিটিশ পর্যটকদের জন্য তাই মূল সতর্কতা হলো—৭ সেপ্টেম্বরের পর স্পেন, ফ্রান্স, গ্রিস, ইতালিসহ শেনজেনভুক্ত ইউরোপীয় দেশে ভ্রমণের সময় সীমান্ত যাচাইয়ে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে। ভ্রমণ পরিকল্পনার সময় এ বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

ট্যাক্স ফাঁকি দিতেই কী নিজেকে ‘নন-ডমিসাইল’ দাবি করলেন সুনাকের স্ত্রী?

ইন্ডিভিজুয়াল সেভিং অ্যাকাউন্ট (ISA)

নিউজ ডেস্ক

বিবি স্টকহোম থেকে পোর্টসমাউথঃ এক আশ্রয়প্রার্থীর অনিশ্চিত জীবনযাত্রা