লন্ডনের পরিবহন, আবাসন ও স্থানীয় পরিষেবায় অর্থায়ন বাড়াতে শহরে সংগৃহীত আয়করের আরও বড় অংশ মেয়র সাদিক খানের নেতৃত্বাধীন গ্রেটার লন্ডন অথরিটির হাতে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে থিংকট্যাংক সেন্টার ফর সিটিজ। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুদাননির্ভর বর্তমান অর্থায়ন ব্যবস্থা পরিবর্তন করে আয়কর ও করপোরেশন করের একটি অংশ মেয়রদের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
মাই লন্ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের ১৪ জন মেয়রের মধ্যে সাতজন বর্তমানে ‘ইন্টিগ্রেটেড সেটেলমেন্ট’ পান। এই একক অনুদানের মাধ্যমে পরিবহন, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সহায়তা ও আবাসনের মতো বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতির খাতে অর্থায়ন করা হয়।
বর্তমান ব্যবস্থায় মেয়রভিত্তিক কর্তৃপক্ষগুলো বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড কেন্দ্রীয় সরকারি অনুদান পায়। এর মধ্যে গ্রেটার লন্ডন অথরিটির জন্য বরাদ্দ প্রায় ২.১৬ বিলিয়ন পাউন্ড, যা লন্ডনের প্রতিটি বাসিন্দার হিসাবে বছরে প্রায় ২৩৭ পাউন্ডের সমান।
সরকার ইতোমধ্যে মেয়রভিত্তিক কৌশলগত কর্তৃপক্ষগুলোকে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত আয়করের একটি অংশ নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ব্যবসায়িক হারের রাজস্ব আরও বেশি স্থানীয়ভাবে ধরে রাখার বিষয়েও সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সেন্টার ফর সিটিজ অবশ্য আরও বেশি আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তরের সুপারিশ করেছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, লন্ডনে সংগৃহীত আয়করের ২.৩ শতাংশ এবং করপোরেশন করের ০.৮ শতাংশ গ্রেটার লন্ডন অথরিটির হাতে দেওয়া উচিত। থিংকট্যাংকটির হিসাবে, এতে বর্তমান কেন্দ্রীয় অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে এবং সিটি হলের বাজেটের ওপর মেয়রের নিয়ন্ত্রণও বাড়বে।
প্রতিবেদনে আয়করকে মেয়রভিত্তিক কর্তৃপক্ষগুলোর অর্থায়নের প্রধান ভিত্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে ‘ইকুয়ালাইজেশন’ ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। কোনো এলাকায় নির্ধারিত সীমার বেশি আয়কর রাজস্ব সংগ্রহ হলে অতিরিক্ত অর্থ অন্য মেয়রভিত্তিক কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হতে পারে।
করপোরেশন করকে স্থানীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রণোদনা হিসেবে ব্যবহারেরও প্রস্তাব দিয়েছে সেন্টার ফর সিটিজ। তাদের মতে, করপোরেশন করের একটি ছোট অংশ স্থানীয়ভাবে রাখা হলেও এর ক্ষেত্রে ইকুয়ালাইজেশন না থাকলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য আরও বেশি উৎসাহ পাবে।
সেন্টার ফর সিটিজের বিশ্লেষক অস্কার সেলবি বলেছেন, প্রস্তাবিত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে মেয়রের সিটি হলের অর্থব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকবে। স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ফলে করভিত্তি বাড়লে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি অতিরিক্ত অর্থ পাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেলবির মতে, এর ফলে গণপরিবহন, আবাসন এবং স্থানীয় পরিষেবায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয়ভাবে পাওয়া রাজস্ব ঋণের নিশ্চয়তা হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
লন্ডন অ্যাসেম্বলির লেবার সদস্য ও ওভারসাইট স্পোকসপারসন বাসাম মাহফুজও লন্ডনের জন্য আরও বেশি আর্থিক ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, লন্ডনে সংগৃহীত অর্থের ওপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন এবং নতুন ডিভল্যুশন চুক্তিতে আর্থিক ক্ষমতা হস্তান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা উচিত।
মাহফুজ আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের সঙ্গে সেই ক্ষমতা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতাও থাকতে হবে। লন্ডনকে নিজস্ব রাজস্ব সংগ্রহের আরও ক্ষমতা এবং শহরে সংগৃহীত করের বড় অংশ নিজেদের কাছে রাখার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
সেন্টার ফর সিটিজের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চার বছরে মেয়রভিত্তিক কর্তৃপক্ষগুলোর হাতে আনুমানিক ২১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত রাজস্বের ক্ষমতা হস্তান্তর হতে পারে। এই হিসাব ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ধরে করা হয়েছে।
লন্ডনের আয়কর রাজস্বের আরও বড় অংশ রাজধানীতে রাখার দাবি মেয়র সাদিক খান দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। ২০১৯ সালের একটি সিটি হল প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, লন্ডনবাসী ও ব্যবসাগুলোর কাছ থেকে সংগৃহীত মোট করের মাত্র প্রায় ৬ শতাংশ লন্ডনে থেকে যায়। একই প্রতিবেদনে নিউইয়র্কের ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ শতাংশ এবং টোকিওর ক্ষেত্রে প্রায় ৭০ শতাংশ রাজস্ব স্থানীয়ভাবে থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
বর্তমানে ইংল্যান্ডে সংগৃহীত মোট করের প্রায় ৫ শতাংশ মেয়র ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে থাকে এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ সরাসরি ওয়েস্টমিনস্টারের নিয়ন্ত্রণে যায়। লন্ডন থেকে সরকারের মোট রাজস্বের প্রতি ১০ পাউন্ডের মধ্যে প্রায় ৪ পাউন্ড আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বর্তমান সরকারের অধীনে মেয়রভিত্তিক কৌশলগত কর্তৃপক্ষগুলো শিগগিরই সরাসরি কর বাড়ানোর ক্ষমতা পাবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক ডিভল্যুশনের পক্ষে অবস্থান নিলেও মেয়রদের কর-রাজস্বের ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রস্তাবগুলো এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
এর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন রাজস্বের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে রাতযাপনের ওপর ‘ভিজিটর লেভি’ বা পর্যটন কর চালুর পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় নেতারা হোটেল, বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্টসহ বিভিন্ন আবাসন ব্যবস্থার খরচের ওপর শতাংশ হিসেবে এই লেভি আরোপ করতে পারবেন। লন্ডনে এই হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি হবে না বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এম.কে
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নার অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক দিন আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পলিটিক্সহোমের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বৈঠকে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’-এর প্রভাব মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের পরামর্শ চান।
বৈঠকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ রজার্সও উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা লন্ডনে অ্যালায়েন্স ফর রেসপনসিবল সিটিজেনশিপের অনুষ্ঠানে রজার্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বলে পলিটিক্সহোম জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রজার্স ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সরকারি কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও সততার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।
আলোচনায় যুক্তরাজ্যের পরিত্যক্ত রুয়ান্ডা প্রকল্পের বিষয়টিও উঠে আসে। পলিটিক্সহোমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রজার্স রুয়ান্ডা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তোলেন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিদেশে প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনাকে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’-এর মোকাবিলার আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার কোনো পরামর্শ তিনি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে স্বতন্ত্র এমপি রুপার্ট লোয়ের অর্থায়নে পরিচালিত গ্রুমিং গ্যাং-সংক্রান্ত তদন্তের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পলিটিক্সহোম জানিয়েছে, রজার্স এই তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রুমিং গ্যাং মামলাগুলোর সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট ও নথি প্রকাশের আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আলোচনায় রুপার্ট লোয়েকে নিজে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’-এর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
ঐতিহাসিক মামলাগুলোর ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশের ব্যয়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মার্কিন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এসব নথি প্রকাশে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোগগুলোর উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার বিনামূল্যে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করতে পারে বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে পলিটিক্সহোম জানিয়েছে।
এদিকে রুপার্ট লোয়ে পলিটিক্সহোমকে বলেছেন, তার পরিচালিত তদন্তের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক লাভ নয়; বরং সংগঠিত যৌন নির্যাতনের বিষয়ে তথ্য সামনে আনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ হাজারের বেশি মানুষ ওই উদ্যোগে অর্থায়ন করেছেন।
ব্রিটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) একজন মুখপাত্র বলেছেন, ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন। বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা দুই দেশের মানুষের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনার বিষয়েও যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে জিবি নিউজের প্রকাশিত মতামতধর্মী নিবন্ধে এই বৈঠককে লেবার সরকারের রাজনৈতিক কৌশল ও সীমান্ত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গ্রুমিং গ্যাং ইস্যু মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করা হয়েছে। তবে এসব মূল্যায়ন লেখকের মতামত; বৈঠকটির বিষয়ে পলিটিক্সহোমের প্রতিবেদনে মূলত সংশ্লিষ্ট সূত্র, ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য এবং বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ কি না, তা নিয়ে ফরেন অফিসের বক্তব্যও এসেছে। একই সঙ্গে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’ মোকাবিলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
সূত্রঃ পলিটিক্সহোম\জিবি নিউজ
এম.কে
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার সদ্য প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এর আগে একইদিন সকালে মোহাম্মদ রাকিবকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাতে তাকে ডিবিতে নেওয়া হয় বলে গগণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, মোহাম্মদ রাকিবকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডিবিতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাকে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ওই কর্মকর্তা জানাননি।
এদিকে বিষয়টি জানতে ডিবিপ্রধান মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ওসি রাকিবুলের নামে প্রচারিত একটি অডিও নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাগোনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অডিওতে এক ব্যক্তিকে রাস্তায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের দুর্বল অবস্থায় থাকার কথা বলতে শোনা যায়। একই ব্যক্তিকে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরে এলে পুলিশ কিছু করতে পারবে না—এমন বক্তব্যও দিতে শোনা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অডিওতে আরও দাবি করা হয়েছে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি অংশ বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, যদিও মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। পাশাপাশি পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও ওই ব্যক্তিকে কথা বলতে শোনা যায় বলে জাগোনিউজ২৪ জানিয়েছে।
বর্তমানে মোহাম্মদ রাকিবকে ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
সূত্রঃ জাগোনিউজ২৪
এম.কে
সিলেট পুরাতন কারাগারের জায়গায় পার্ক ও মাহবুব আলী খান মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পুরাতন কারাগারের জায়গা সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
সভায় সিলেটের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পুরাতন কারাগারের জায়গাটি কীভাবে জনসাধারণের জন্য ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে সেখানে একটি পার্ক এবং মাহবুব আলী খান মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কারাগারের জায়গাটি সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পার্ক ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।
সিলেট শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত পুরাতন কারাগারের জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে জায়গাটি পার্ক ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্রঃ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
এম.কে
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কির উর্দু ভাষায় প্রকাশ করা নির্বাচনী প্রচারণার ভিডিও নিয়ে সিটি হলে তাকে উর্দু ভাষায় জবাব দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার লন্ডন অ্যাসেম্বলিতে মেয়রের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে।
জ্যাক পোলানস্কি আগামী ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির প্রার্থী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এমপি পদ ছাড়ার পর আসনটিতে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পোলানস্কি সম্প্রতি ভোটারদের উদ্দেশে উর্দু ভাষায় একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভিডিওতে পোলানস্কি নিজের পরিচয় দিয়ে হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানান এবং গ্রিন পার্টিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভিডিওটি প্রকাশের পর নির্বাচনী এলাকায় উর্দু ভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
এরপর পোলানস্কি ফরাসি ভাষাতেও একটি প্রচারণামূলক ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি জানান, হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস এলাকায় ফরাসি ভাষায় কথা বলা মানুষের সংখ্যা বেশি—এমন মন্তব্যের পর তিনি ফরাসি ভাষায়ও ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ওই ভিডিওর ফরাসি সাবটাইটেল নিয়েও সমালোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার লন্ডন অ্যাসেম্বলির মেয়রের প্রশ্নোত্তর পর্বে পোলানস্কি ডেটা সেন্টার নিয়ে সাদিক খানকে প্রশ্ন করেন। তিনি জানতে চান, কোনো নতুন ডেটা সেন্টার যদি লন্ডনের জন্য পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে সেটি অনুমোদনের ক্ষেত্রে মেয়র আপত্তি করবেন কি না।
প্রথমে সাদিক খান ইংরেজিতে প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে পোলানস্কি অতিরিক্ত প্রশ্ন করলে লন্ডনের মেয়র উর্দু ভাষায় উত্তর দেওয়া শুরু করেন। তার এই বক্তব্যে অ্যাসেম্বলিতে উপস্থিত অন্য রাজনীতিকদের মধ্যে হাসির প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
সাদিক খানের দপ্তরের দেওয়া অনুবাদ অনুযায়ী তিনি বলেন, “আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমি চিন্তিত ছিলাম যে আপনি উর্দু ভাষায় প্রশ্ন করবেন, কিন্তু আপনি ইংরেজিতে প্রশ্ন করেছেন।”
এরপর তিনি বলেন, “এই সপ্তাহে আমি হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসে সময় কাটাব এবং সেখানে থাকব। হয়তো সেখানে আমাদের দেখা হবে।” পরে ইংরেজিতে তিনি বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, যেহেতু সদস্য উর্দু ভাষায় এতটা দক্ষ, তাই আমি উর্দু ভাষায় কথা বলব।”
সাদিক খানের বাবা-মা পাকিস্তান থেকে ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডে আসেন। উর্দু পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা। সাদিক খান এর আগে তার পাকিস্তানি ঐতিহ্য নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।
পোলানস্কির উর্দু ভাষার প্রচারণা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির স্থানীয় সরকারবিষয়ক মুখপাত্র কেটি ল্যাম অভিযোগ করেন, বিদেশি ভাষায় প্রচারণার মাধ্যমে পোলানস্কি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষের কাছে আবেদন করার চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে গ্রিন পার্টি এই সমালোচনার জবাবে বলেছে, গণতন্ত্র কোনো নির্দিষ্ট ভাষায় কথা বলা মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করে না। দলটির বক্তব্য, যারা উর্দু ভাষায় কথা বলেন তাদের কাছে পৌঁছাতে উর্দুতে কথা বলা স্বাভাবিক এবং তারা যত বেশি ভাষায় ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে পারে, সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখে।
লেবার এমপি নাজ শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সাদিক খানের জবাবকে “পুরোপুরি দুর্দান্ত” বলে মন্তব্য করেন। কনজারভেটিভ এমপি স্যার জেমস ক্লেভারলিও ঘটনাটিকে মজার বলে মন্তব্য করেছেন বলে ডেইলি এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
পোলানস্কি একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তার আন্দোলন বাড়ছে এবং হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাসের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে তারা একসঙ্গে কাজ করছেন। ৮ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তার প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।
সাদিক খান বর্তমানে লন্ডনের মেয়র এবং জ্যাক পোলানস্কি লন্ডন অ্যাসেম্বলির সদস্য ও হলবর্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির প্রার্থী। উর্দু ভাষায় পোলানস্কির প্রচারণা এবং তার জবাবে সাদিক খানের উর্দু বক্তব্যকে ঘিরেই বৃহস্পতিবারের এই রাজনৈতিক ঘটনা সামনে আসে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে
যুক্তরাজ্যে ডিজেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় গাড়িচালকদের জন্য নতুন সতর্কতা জারি হয়েছে। দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবের তেল সরবরাহে বিঘ্নের কারণে আগামী দিনগুলোতে ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ডিজেলের গড় দাম বর্তমানে প্রতি লিটারে ১৯৩.৫ পেনিতে পৌঁছেছে। সুপারমার্কেটগুলোর গড় দামও প্রতি লিটারে ১৯০ পেনি। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে দেশজুড়ে ডিজেলের দামে প্রায় ৩৫ হাজারবার মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যের ২৩৬টি পেট্রোল স্টেশনে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ২ পাউন্ড ছাড়িয়ে গেছে। আরও ৬৩৩টি স্টেশনে দাম প্রতি লিটারে ১৯৯.৯ পেনি রাখা হয়েছে। পেট্রোলপ্রাইসেসের হিসাবে, এই স্টেশনগুলো যুক্তরাজ্যের মোট ফোরকোর্ট নেটওয়ার্কের প্রায় ১০ শতাংশ।
এর অর্থ হলো, দেশের প্রায় এক-দশমাংশ ফোরকোর্টে ডিজেলের দাম হয় ইতোমধ্যে ২ পাউন্ডে পৌঁছেছে, অথবা সামান্য আরেক দফা মূল্যবৃদ্ধি হলেই ওই সীমা অতিক্রম করতে পারে।
জ্বালানির পাইকারি বাজারেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে পাইকারি ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১২ পেনিরও বেশি বেড়েছে। সরবরাহ সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে ডিজেলের প্রধান উপাদান মধ্যম-পাতনজাত জ্বালানির দামও বেড়েছে।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানি আরামকো ইউরোপের কয়েকটি রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাতিল অথবা পিছিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসব চালান জাহাজে তোলার কথা ছিল।
সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত তিনটি ইউরোপীয় রিফাইনারির তেলবাহী চালান বাতিল হয়েছে অথবা সেপ্টেম্বরের শেষ ১০ দিনের নির্ধারিত সময় থেকে পিছিয়ে নভেম্বর পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। আরও দুটি রিফাইনারি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাদের সেপ্টেম্বরের চালান বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ার বিষয়ে নোটিশ পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।
একটি সূত্র দাবি করেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ ১০ দিনে সৌদি আরব থেকে জাহাজে তোলার কথা থাকা সব অপরিশোধিত তেলের চালান বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে সৌদি আরবের প্রায় পাঁচ দিনের তেল মজুত রয়েছে। তবে এই তথ্য সরাসরি নিশ্চিত করা হয়নি এবং আরামকো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর আরও চাপ তৈরি হয়েছে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি তেল রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, পাইপলাইনটি কয়েক সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পাইপলাইনটি আরও হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ইউরোপের বিভিন্ন সরকারও জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় গাড়িচালকদের ওপর চাপ কমাতে পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। পোল্যান্ড অতিরিক্ত মুনাফার ওপর ৬০ শতাংশ উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সময় তেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত আয়ের অর্থ জ্বালানির দাম কমানোর পদক্ষেপে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক দেশটির তেল কোম্পানি অরলেনের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফলাফলকে এই প্রস্তাবের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অরলেনের রাজস্ব ২৬ শতাংশ বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে পোল্যান্ড মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪.৭ বিলিয়ন জ্লোটি ব্যয় করেছিল। আগস্টে দেশটি জ্বালানির ওপর ভ্যাটও কমিয়েছে।
জার্মানিও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস বলেছেন, সরকার এখনো কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তা চূড়ান্ত করেনি। তবে গাড়িচালকদের ওপর বাড়তে থাকা চাপের কথা স্বীকার করে তিনি খুব শিগগিরই প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যে খুচরা জ্বালানি বিক্রেতারাও বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। ডিজেলের খুচরা মুনাফা গত ছয় মাসের গড়ের নিচে রয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম আরও বাড়লে সেই অতিরিক্ত খরচ নিজেদের মুনাফা থেকে সামাল দেওয়ার সুযোগ খুচরা বিক্রেতাদের সীমিত হয়ে পড়ছে।
ফলে পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই গাড়িচালকদের দিতে হচ্ছে। পেট্রোলপ্রাইসেসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পাইকারি দাম দ্রুত কমে না এলে এবং সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী কয়েক দিনে আরও বেশি সংখ্যক পেট্রোল স্টেশনে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৯৯.৯ পেনি বা তার বেশি হতে পারে।
এর ফলে যুক্তরাজ্যে ডিজেলের জাতীয় গড় দামও প্রতি লিটারে ২ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এম.কে
যুক্তরাজ্যে অভিবাসী কর্মীদের স্পনসর করা একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের জন্য হোম অফিস কোনো বাধ্যতামূলক আইনি কারণ প্রযোজ্য মনে করলেও, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগের বিষয়ে জানানো এবং ব্যাখ্যা দেওয়ার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দেওয়া সাধারণত প্রয়োজন।
মামলাটি হলো R (Moon Fish Ltd) v Secretary of State for the Home Department, [2026] EWHC 2289 (Admin)। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের হাইকোর্টের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কোর্ট এই রায় দেয়।
মুন ফিশ লিমিটেডের স্পনসর লাইসেন্সের আওতায় তিনজন বিদেশি কর্মী কাজ করছিলেন। ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর হোম অফিস প্রতিষ্ঠানটির কাছে কর্মীদের চাকরি ও বেতনসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি চায়। হোম অফিসের উদ্বেগ ছিল, কর্মীরা তাদের সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপে উল্লেখ করা বেতন অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাচ্ছেন কি না।
মুন ফিশ ৩ নভেম্বর চাওয়া নথিপত্র জমা দেয়। নথি বিশ্লেষণের পর হোম অফিস দেখতে পায়, একজন কর্মী মে ও জুন ২০২৫ সময়ে তার নির্ধারিত বেতনের তুলনায় কম অর্থ পেয়েছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কম পাওয়ার কারণ ছিল ওই কর্মীর ২৭ এপ্রিল থেকে ২২ জুন পর্যন্ত অনুমোদিত বিনা বেতনের ‘কমপ্যাশনেট লিভ’ বা বিশেষ পারিবারিক কারণে ছুটি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ওই ছুটি নেওয়া এবং সেই কারণে কম বেতন পাওয়া নিজের মধ্যে কর্মসংস্থান আইন বা স্পনসরশিপ ব্যবস্থার নিয়ম লঙ্ঘন ছিল না।
তবে ওই বেতন হ্রাসের বিষয়টি হোম অফিসকে জানানো হয়নি। মুন ফিশ পরে স্বীকার করে যে রিপোর্টিংয়ের ক্ষেত্রে ভুল হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য ছিল, এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ভুল।
হোম অফিস অবশ্য কর্মীর কম বেতন পাওয়ার কারণ জানতে মুন ফিশকে আর কোনো প্রশ্ন করেনি। ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে কোনো অতিরিক্ত যোগাযোগ ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটির স্পনসর লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়। হোম অফিস অ্যানেক্স সি১(এএ)-এর ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়। এই বিধানে সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপে উল্লেখ করা বেতনের চেয়ে কম বেতন দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সেই পরিবর্তন হোম অফিসকে না জানানোর বিষয়টি স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের বাধ্যতামূলক কারণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
লাইসেন্স বাতিলের পর মুন ফিশ আইনি পদক্ষেপ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তি দেয়, লাইসেন্স বাতিলের আগে হোম অফিস তাদের উদ্বেগের বিষয়টি যথেষ্ট স্পষ্টভাবে জানায়নি এবং কম বেতন দেওয়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করার সুযোগও দেয়নি।
হাইকোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করে। আদালত বলেছে, স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি ও গুরুতর প্রভাব ফেলে। তাই সাধারণ আইনের অধীনে প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার দায়িত্ব প্রযোজ্য। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অসততা বা গুরুতর নিন্দনীয় আচরণের অভিযোগ না থাকলেও এই ন্যায্যতার দায়িত্ব বাতিল হয়ে যায় না।
আদালতের মতে, সাধারণভাবে হোম অফিসকে স্পনসরকে তাদের উদ্বেগের মূল বিষয় জানাতে হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দেওয়ার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ দিতে হবে। শুধু কোনো বিষয়কে ‘বাধ্যতামূলক’ লাইসেন্স বাতিলের কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে—এমন অবস্থাও এই প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার প্রয়োজনীয়তা দূর করে না।
রায়ে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ কোনো ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক লাইসেন্স বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে যেখানে লঙ্ঘন এতটাই স্পষ্ট যে ব্যাখ্যা চাওয়ার কোনো বাস্তব উদ্দেশ্য নেই। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি বিরল হওয়া উচিত এবং এমন ব্যতিক্রম দেখিয়ে সাধারণভাবে প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার নিয়ম বাদ দেওয়া যায় না।
মুন ফিশের মামলায় আদালত দেখতে পায়, হোম অফিস যদি আগে কর্মীর কম বেতন পাওয়ার কারণ জানতে চাইত, তাহলে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাখ্যা করতে পারত যে ওই কর্মী অনুমোদিত বিনা বেতনের ছুটিতে ছিলেন। আদালতের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই ব্যাখ্যা জানা থাকলে বিষয়টি শুধু একটি রিপোর্টিং লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারত এবং স্পনসর লাইসেন্স বাতিল করা উচিত কি না, সে বিষয়ে হোম অফিসের সামনে ভিন্ন সিদ্ধান্তের সুযোগ থাকত।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের পরিণতি শুধু কোম্পানির ওপর পড়ে না; সংশ্লিষ্ট অভিবাসী কর্মীদের ওপরও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। লাইসেন্স বাতিল হলে স্পনসর কর্তৃক দেওয়া সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপ বাতিল হতে পারে এবং কর্মীদের যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতিও পরবর্তী সময়ে শেষ হয়ে যেতে পারে।
রায়ের ফলে মুন ফিশের বিরুদ্ধে হোম অফিসের আগের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে ফেরত যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ফ্রি মুভমেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের সিদ্ধান্তটি স্পনসর লাইসেন্স বাতিলের ক্ষেত্রে হোম অফিসের প্রক্রিয়াগত ন্যায্যতার দায়িত্বের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে।
তবে এই রায়ের অর্থ স্পনসরদের রিপোর্টিংয়ের দায়িত্ব বাতিল বা শিথিল হয়ে যাওয়া নয়। স্পনসরদের কর্মীদের বেতন, চাকরির শর্ত এবং স্পনসরশিপ-সংক্রান্ত পরিবর্তন সম্পর্কে হোম অফিসকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব বহাল রয়েছে। মুন ফিশের মামলাতেও প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছিল যে অনুমোদিত দীর্ঘ ছুটির বিষয়টি যথাযথভাবে রিপোর্ট করা হয়নি।
যুক্তরাজ্যের স্পনসরশিপ ব্যবস্থায় হোম অফিসের অ্যানেক্স সি১-এ কিছু পরিস্থিতিকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স বাতিলের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে অ্যানেক্স সি২-এ এমন কিছু পরিস্থিতি রয়েছে, যেগুলো সাধারণত লাইসেন্স বাতিলের দিকে নিয়ে যেতে পারে, আর অ্যানেক্স সি৩-এ এমন পরিস্থিতি রয়েছে যেখানে লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
মুন ফিশ মামলার রায়ে তাই একদিকে স্পনসরদের নিয়ম মেনে রিপোর্টিংয়ের গুরুত্ব বহাল রাখা হয়েছে, অন্যদিকে লাইসেন্স বাতিলের মতো গুরুতর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগ সম্পর্কে জানানো ও জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এম.কে
অপ্রত্যাশিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের পরিবারগুলোকে এখন থেকেই ১০টি বিনামূল্যের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। আগুন, বন্যা, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা কিংবা পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে—এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের অফিসিয়াল ‘প্রিপেয়ার’ ক্যাম্পেইনের আওতায় প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিতে সবসময় নতুন কোনো সামগ্রী কেনার প্রয়োজন নেই। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আগাম আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরীক্ষা করা, জরুরি যোগাযোগের তথ্য প্রস্তুত রাখা এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখার মতো অনেক প্রস্তুতি বিনামূল্যেই নেওয়া সম্ভব।
সরকারের নির্দেশনায় প্রথমেই প্রতি মাসে স্মোক অ্যালার্ম পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। পরিবারের শিশুদেরও এই পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা অ্যালার্মের শব্দ চিনতে পারে এবং বুঝতে পারে কখন এটি বিপদের সংকেত দিচ্ছে।
বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কেও আগাম তথ্য জানার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো বাড়িতে অতীতে কখনো বন্যা না হলেও ভবিষ্যতে সেই এলাকার বন্যার ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যা ও আবহাওয়া-সংক্রান্ত সতর্কবার্তার জন্য নিবন্ধন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলে আগেভাগে সতর্ক হওয়া যায়।
জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে কোথায় সবাই একত্রিত হবে, সেটিও আগে থেকে নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। বাড়িতে ফিরতে না পারলে বিকল্প মিলনস্থল কী হবে এবং জরুরি অবস্থায় কোন পথে নিরাপদে বের হওয়া যাবে, তা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বন্যার মতো পরিস্থিতিতে বিকল্প পথ নির্ধারণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাড়ির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল সংযোগ কোথায় এবং কীভাবে বন্ধ করতে হয়, তা পরিবারের সদস্যদের জানা থাকা উচিত বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যা, পানির লিকেজ বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এসব সংযোগ বন্ধ করার প্রয়োজন হতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগের জন্য শুধু মোবাইল ফোনের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ফোন নম্বর কাগজে লিখে সহজে পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখার কথা বলা হয়েছে। ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর জানানোর জন্য ব্যবহৃত ১০৫ নম্বরসহ পরিবারের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নম্বরগুলো লিখে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের স্কুল, চাইল্ডকেয়ার এবং তাদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিবারের বর্তমান জরুরি যোগাযোগের তথ্য রয়েছে কি না, সেটিও নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। পুরোনো বা ভুল ফোন নম্বরের কারণে জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে এসব তথ্য হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিশুদের জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে কখন এবং কীভাবে ফোন করতে হবে, তা শেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভব হলে শিশুদের নিজেদের বাড়ির ঠিকানা এবং বাবা-মা বা অভিভাবকের মোবাইল নম্বর মনে রাখতে শেখাতে বলা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়মিত অনুশীলনের কথাও বলা হয়েছে।
প্রতিবেশীদের সঙ্গেও যোগাযোগ তৈরি রাখার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। রাস্তা বা ভবনের বাসিন্দাদের নিয়ে একটি মেসেজিং গ্রুপ তৈরি করে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আশপাশে এমন কেউ আছেন কি না, যাদের জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে, সেদিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।
যেসব গ্রাহকের জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে, তারা বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রায়োরিটি সার্ভিসেস রেজিস্টার-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন গ্রাহকদের শনাক্ত করতে পারে, যাদের বিদ্যুৎ, পানি বা অন্যান্য সেবা বিঘ্নিত হলে বাড়তি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া পরিবারগুলোর অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক জ্ঞান অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পেশাদার জরুরি সেবা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আহত বা অসুস্থ ব্যক্তিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের ‘প্রিপেয়ার’ ক্যাম্পেইনে বলা হয়েছে, জরুরি পরিস্থিতি খুব অল্প সময়ের সতর্কতায় কিংবা কোনো সতর্কতা ছাড়াই তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবা কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন কিংবা তারও বেশি সময় ব্যাহত হতে পারে।
সরকারি নির্দেশনায় পরিবারগুলোকে তাই জরুরি পরিস্থিতির জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিকল্পনা, নিরাপদে বের হওয়ার পথ, জরুরি নম্বর, স্থানীয় ঝুঁকি সম্পর্কে তথ্য এবং প্রয়োজনের সময় কারও অতিরিক্ত সহায়তা দরকার হতে পারে কি না—এসব বিষয় আগে থেকেই বিবেচনায় রাখা।
সূত্রঃ ব্রিটিশ সরকারের অফিসিয়াল ‘প্রিপেয়ার’ ক্যাম্পেইন ও সারি লাইভ
এম.কে
