Categories
আন্তর্জাতিক

ইউরোপ-রাশিয়ায় যুদ্ধ হবে ‘খুবই স্বল্পস্থায়ী’: লাভরভের হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইউরোপ রাশিয়ার ওপর হামলা চালালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ ‘খুবই স্বল্পস্থায়ী’ হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমা দেশগুলোকে আক্রমণ করার কোনো আগ্রহ রাশিয়ার নেই। তবে রাশিয়া আক্রান্ত হলে মস্কো পাল্টা জবাব দেবে।

বুধবার ইয়েকাতেরিনবার্গে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ফেস্টিভ্যালে দেওয়া বক্তব্যে লাভরভ এসব মন্তব্য করেন। তার বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নিরাপত্তা ও সামরিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

লাভরভ বলেন, রাশিয়া বারবার স্পষ্ট করেছে যে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে ইউরোপ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো অনেক আগেই রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখার নীতি গ্রহণ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি রাশিয়ার সীমান্তের দিকে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিষয়টি উল্লেখ করেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের কারণ ব্যাখ্যা করতে মস্কো দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর সম্প্রসারণের বিষয়টি তুলে ধরে আসছে।

লাভরভের বক্তব্যের আগে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেছিলেন, রাশিয়া হামলা চালালে পোল্যান্ড দ্রুত রাশিয়াকে পরাজিত করতে পারবে। তিনি পোল্যান্ডের বিমানশক্তির সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার তুলনায় দেশটির বিমানশক্তিকে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে দাবি করেন।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি একটি ইউরোপীয় সিকিউরিটি কাউন্সিল গঠনের পাশাপাশি হাইব্রিড হামলা মোকাবিলায় একটি জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকল তৈরির কথা বলেছেন।

ফন ডার লায়েনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি ব্রিটেন, কানাডা, নরওয়ে ও ইউক্রেনের মতো অংশীদারদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। তার মতে, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র হাইব্রিড হামলার শিকার হলে সমন্বিতভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে এই ব্যবস্থা ব্যবহার করা যেতে পারে।

ইউরোপে সম্ভাব্য হাইব্রিড হামলার বিষয়টিও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। নাশকতা, অগ্নিসংযোগ ও ড্রোন অনুপ্রবেশের মতো ঘটনাকে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা নিরাপত্তার জন্য বাড়তে থাকা হুমকি হিসেবে দেখছেন।

এর মধ্যেই রাশিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনার আরও কিছু ঘটনা সামনে এসেছে। ডেনমার্ক অভিযোগ করেছে, একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ কোনো ধরনের সতর্কতা ছাড়াই তাদের একটি সামরিক হেলিকপ্টারের দিকে ফ্লেয়ার ছুড়েছে। মস্কো পাল্টা দাবি করেছে, ডেনমার্কের বিমানগুলো রুশ নৌবহরের কাছে বিপজ্জনকভাবে উড্ডয়ন ও কৌশল প্রদর্শন করছিল।

এদিকে গত মাসে সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ মস্কো সফর করেন। সিবিএস নিউজ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর উদ্ধৃত সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, ন্যাটোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করতে ওই সফর করা হয়েছিল। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ ধরনের খবরকে ‘ভয় দেখানোর গল্প’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

পেসকভের দাবি, রাশিয়া ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে ‘অত্যন্ত আগ্রাসী নীতির’ মুখোমুখি হচ্ছে। মস্কো এর আগে ইউরোপ ও ন্যাটোর সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ইউরোপের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে সতর্কতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ইউক্রেন-সমর্থনের প্রসঙ্গেও তিনি সতর্কবার্তা দেন। যুক্তরাজ্য রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পুতিন বিষয়টিকে ‘সামরিক গোপনীয়তা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

পুতিন আরও বলেন, ইউক্রেনের যেকোনো সামরিক স্থাপনা রাশিয়ার বৈধ লক্ষ্যবস্তু—সেটি ব্রিটিশ হোক বা অন্য কোনো দেশের।

রাশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে লাভরভের সর্বশেষ বক্তব্য নতুন করে সংঘাতের সম্ভাবনা ও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাকে সামনে এনেছে। তবে লাভরভ একই বক্তব্যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলার কোনো আগ্রহ নেই বলেও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, রয়টার্স

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির রেসিডেন্সি ও ওয়ার্ক ভিসা বাতিল

প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের রেসিডেন্সি ও ওয়ার্ক ভিসা সংযুক্ত আরব আমিরাত বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও রয়েছেন।

ফার্স্টপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক বাংলাদেশি নিয়মিত ছুটি কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে বাংলাদেশে আসার পর জানতে পারেন, তাদের অনুপস্থিতির সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে রেসিডেন্সি অথবা ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে। ফলে অনেকেই বর্তমানে দেশটিতে ফিরে যেতে পারছেন না।

ভিসা বাতিলের বিষয়টি কেউ ই-মেইল, কেউ মোবাইল ফোনে পাওয়া বার্তা এবং কেউ সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা স্পনসরের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনের দাবি, ভিসা বাতিলের আগে তাদের কোনো ধরনের আগাম নোটিশ দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে অনেককে বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণও জানানো হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েক বছর এমনকি কয়েক দশক ধরে বসবাস করছেন। তাদের কেউ দেশটিতে ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, কেউ সম্পত্তি কিনেছেন এবং অনেকে পরিবার নিয়ে দুবাই ও আবুধাবির মতো শহরে বসবাস করছেন।

ভিসা বাতিলের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের চাকরি ও ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা তাদের পরিবারের সদস্যদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও কমিউনিটি প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিরাপত্তা যাচাই ও ভেটিং প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার বিষয়টি এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নথিপত্রের সমস্যা, ভিসা নবায়নে বিলম্ব এবং ব্যক্তিদের অনলাইন কর্মকাণ্ড-সংক্রান্ত যাচাইয়ের বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলো সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভিসা বাতিলের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ-সংক্রান্ত কর্মকর্তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ এসব ঘটনা পর্যালোচনার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে এবং যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত লঙ্ঘনের অভিযোগ নেই, তাদের ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য একটি প্রক্রিয়া চালুর বিষয়েও কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেউ কেউ বিক্ষোভও করেছেন এবং ভিসা বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

প্রবাসীরা একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে যোগ্য ব্যক্তিদের রেসিডেন্সি ও কাজের অনুমতি পুনর্বহালের সুযোগ তৈরি হয়।

যেসব বাংলাদেশি ভিসা বাতিলের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরতে পারছেন না, তারা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জীবিকা পুনর্গঠনে সহায়তার দাবিও জানিয়েছেন।

সূত্রঃ ফার্স্টপোস্ট

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবার আনার সুযোগ বন্ধ করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে অস্থায়ী অভিবাসীদের ভিসা পরিবর্তনের নিয়মও আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেশটির অভিবাসন নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য দেবেন। এর আগেই এসব পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক দেশটির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্তে তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সঙ্গীকে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে পারেন। শিক্ষার্থীর কোর্সের ধরন অনুযায়ী তাদের সঙ্গীর কাজের সময়ের ওপরও আলাদা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সী নির্ভরশীল সন্তানদেরও সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নেওয়ার এই সুযোগ আর থাকবে না। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

অস্ট্রেলিয়া একই সঙ্গে সামগ্রিক অভিবাসন প্রবাহ কমানোর লক্ষ্যও নির্ধারণ করছে। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে নিট বিদেশি অভিবাসন ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখের কাছাকাছি।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষ হওয়া বছরে অস্ট্রেলিয়ার নিট বিদেশি অভিবাসন ছিল ৩ লাখ ৬ হাজার। এর অর্ধেকেরও বেশি ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে নিট বিদেশি অভিবাসনের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার।

২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নিট বিদেশি অভিবাসন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে প্রায় ৫ লাখ ১৮ হাজারে দাঁড়ায়। পরবর্তী দুই বছরে এই সংখ্যা কমতে শুরু করলেও অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার এবং অস্থায়ী দক্ষ কর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধিকে দেশটির সাম্প্রতিক অভিবাসন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় দুই বছর পর কোভিড-১৯ মহামারির সীমান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর দেশটিতে বিদেশি প্রবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

অভিবাসন কমানোর দাবির পেছনে আবাসন ও অবকাঠামোর ওপর চাপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, বেশি সংখ্যক অভিবাসীর কারণে আবাসন সংকট ও অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। সামাজিক সংহতির ওপরও এর প্রভাব পড়ছে বলে তারা দাবি করছেন।

অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী ওয়ান নেশন পার্টিও অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা আরও কমানোর দাবি জানিয়েছে। দলটি তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসীর সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য প্রকাশ করেছে।

তবে সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিট অভিবাসন ইতোমধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কমেছে। এখন সরকার ২০২৮ সালের মধ্যে অভিবাসনের সংখ্যা আরও কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবার আনার সুযোগ এবং অস্থায়ী অভিবাসীদের ভিসা পরিবর্তনের নিয়মে কী ধরনের পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই নতুন নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের বক্তব্যের পর অস্ট্রেলিয়ার নতুন অভিবাসন নীতির বিস্তারিত দিক আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স \ এবিসি নিউজ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ভয়াবহ ‘গডজিলা এল নিনো’ আসছেঃ বড় বন্যা ও ঝড়ের ঝুঁকিতে যুক্তরাজ্য

হাজার হাজার মাইল দূরে প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী এল নিনো। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এটি রেকর্ডের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। ইতোমধ্যে এর সম্ভাব্য তীব্রতার কারণে একে ‘গডজিলা এল নিনো’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এর প্রভাবে যুক্তরাজ্য ও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে চলতি শরৎ ও শীত মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি ও ঝড়ো আবহাওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেট অফিস।

এল নিনো হলো ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া। এর ফলে স্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন ঘটে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যেই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের প্রভাব মোকাবিলা করছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে প্রতি শীতে যুক্তরাজ্যে যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তার পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুল পূর্ণ করার সমান।

 

এই পরিস্থিতিতে বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে লন্ডন। শহরটি তিন দিক থেকে বন্যার ঝুঁকির মুখে রয়েছে—উত্তর সাগর থেকে ঝড়ের জলোচ্ছ্বাস টেমস নদীর জোয়ারের পানি বাড়িয়ে দিতে পারে, নদী ও উপনদীগুলোতে পানি বেড়ে যেতে পারে এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ঘনবসতিপূর্ণ শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়তে পারে।

২০২১ সালের আকস্মিক বন্যা এবং ২০২২ সালের ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পর লন্ডনের জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে লন্ডন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স রিভিউ কমিশন করা হয়। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ওই পর্যালোচনায় সতর্ক করা হয়েছিল, বড় ধরনের আরেকটি ভূপৃষ্ঠীয় বন্যা মোকাবিলার জন্য রাজধানী যথেষ্ট প্রস্তুত নয় এবং মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

ঝুঁকি মোকাবিলায় সমুদ্র পর্যবেক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন বিজ্ঞানীরা। স্যাটেলাইটের পাশাপাশি সমুদ্রে থাকা হাজার হাজার সেন্সরযুক্ত ভাসমান বয়া থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব বয়া সমুদ্রের তাপমাত্রা, স্রোত এবং তাপের গতিবিধি পরিমাপ করছে।

 

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গণিতবিদ ড. অ্যাডাম সিকুলস্কি দক্ষিণ কেনসিংটনে বসেই প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। নিনো ৩.৪ নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া বয়াগুলোর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সংগৃহীত প্রায় ৫ লাখ তাপমাত্রা রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বছরের শুরুতে স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য কম থাকা তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে শক্তিশালী এল নিনোর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজের হাইড্রোডায়নামিক্স ল্যাবরেটরিতেও চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি পুনর্নির্মাণ করে গবেষণা চলছে। দক্ষিণ কেনসিংটনের একটি বেসমেন্টে তৈরি করা হয়েছে প্রায় ৩ হাজার বর্গমিটার আয়তনের কৃত্রিম সমুদ্র। পুরো ব্যবস্থা চালু হলে এতে প্রায় ১২ লাখ লিটার পানি থাকে।

দুটি বড় ওয়েভ বেসিন ও ছয়টি ফ্লুমের মাধ্যমে গবেষকরা গভীর সমুদ্রের ঢেউ, স্রোত এবং বাতাসের প্রভাবে সৃষ্ট সমুদ্রের বিভিন্ন পরিস্থিতি কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে পারেন। ৫৬টি প্যাডেলের সাহায্যে উত্তর সাগরের ঝড়ের মতো পরিস্থিতিও ছোট আকারে পুনর্নির্মাণ করা হয়। গবেষকরা জানান, বাস্তবে উত্তর সাগরের সবচেয়ে বড় ঢেউ প্রায় ১০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে।

সমুদ্র পর্যবেক্ষণের পরিধি বাড়াতে ছোট আকারের রোবট নৌকাও ব্যবহার করা হচ্ছে। ওশেনের তৈরি ‘সিয়া স্টারস’ নামে এক মিটার দীর্ঘ বাতাস ও সৌরশক্তিচালিত রোবট নৌকাগুলো বহর আকারে সমুদ্রে পাঠানো হয়। এগুলো আবহাওয়া ও সমুদ্রের পরিস্থিতি পরিমাপ করে সরাসরি তথ্য পাঠাতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্য এলাকায় পাঠানো সম্ভব।

 

 

বর্তমানে ৩২টি সিয়া স্টার সমুদ্রে রয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি আটলান্টিক হারিকেন বেল্টে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে।

লন্ডনের ঝুঁকি শুধু বন্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ন্যাশনাল হিট রিস্ক কমিশনের চেয়ার এবং লন্ডন ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স রিভিউয়ের প্রধান এমা হাওয়ার্ড বয়ড বলেছেন, বন্যা, অতিরিক্ত তাপ এবং ভূমি বসে যাওয়ার মতো বিভিন্ন ঝুঁকির ক্ষেত্রে লন্ডনের অবস্থান অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় লন্ডনে বিভিন্ন প্রকল্পও নেওয়া হয়েছে। টলওয়ার্থ রাউন্ডঅ্যাবাউটের একটি এলাকা বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা দেখতে বুনো ফুলের বাগানের মতো। রাস্তার পাশে তৈরি রেইন গার্ডেন অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি শোষণ করার পাশাপাশি ছায়া তৈরি করে। বিভিন্ন পার্কের নিচে তৈরি করা হয়েছে ঝড়ের পানি সংরক্ষণের ট্যাংক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে সড়ক, রেলপথ, হাসপাতাল ও বাড়িঘর নির্মাণ বা সংস্কারের সময় আগামী কয়েক দশকে প্রত্যাশিত আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন হবে।

এল নিনোর প্রভাব ঠিক কতটা হবে তা নিয়ে পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে। তবে সমুদ্রের তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম তথ্য সংগ্রহ এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্রঃ ইভিনিং স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে বৃদ্ধ দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যুর পর পাশে দাঁড়ানো প্রতিবেশীদের ধন্যবাদ জানাল ব্ল্যাকবার্নের মসজিদ

ইংল্যান্ডের ব্ল্যাকবার্নে ৮০ বছর বয়সী ইসমাইল আহমেদ লেলি ও ৭৮ বছর বয়সী ফাতমা লেলির মৃত্যুর পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সমর্থন ও সহমর্মিতার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছে মসজিদ, পরিবার ও একটি দাতব্য সংস্থা। ধর্ম, সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরিচয়ের ভিন্নতা সত্ত্বেও কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা তুলে ধরতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সেন্টান্সফেল্ড স্ট্রিটের মসজিদ-ই-কুওয়াতুল ইসলাম দম্পতির মৃত্যুর পর স্থানীয় মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। হার্ডম্যান স্ট্রিটের কাছেই মসজিদটির অবস্থান, যেখানে গত সপ্তাহে ওই দম্পতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

মঙ্গলবার পরিবারের সদস্য, বেনিফিট ম্যানকাইন্ড দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিরা, মসজিদের সদস্য এবং স্থানীয় শিশুরা আশপাশের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করেন। দম্পতির মৃত্যুর পর স্থানীয়রা যে সমর্থন, সংহতি ও সহমর্মিতা দেখিয়েছেন, তার জন্য তাদের ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়।

 

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুঃখ ও কঠিন পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারেন—এই বিষয়টি তুলে ধরাই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে প্রতিবেশীদের মধ্যে ঐক্য, বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সহমর্মিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়।

এই কর্মসূচিতে সেন্ট লুকসের ভিকার রেভারেন্ড জেসন গার্ডনার, র‍্যাচেল গার্ডনার এবং সহকারী যাজক জন লাইলস অংশ নেন। তারা বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পাশাপাশি দাঁড়ানো এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও সহমর্মিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

স্থানীয় শিশুদেরও উদ্যোগটিতে যুক্ত করা হয়। তারা বাসিন্দাদের মধ্যে উপহার বিতরণ করে। এসব উপহার সরবরাহ করেছে ব্ল্যাকবার্নের মরিসনস।

মসজিদ-ই-কুওয়াতুল ইসলামের এক মুখপাত্র বলেন, স্থানীয় প্রতিবেশী ও বৃহত্তর সম্প্রদায়ের মানুষ যে ভালোবাসা ও সমর্থন দেখিয়েছেন, তার জন্য তাদের ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কঠিন সময়ে মানুষের সহমর্মিতার প্রকাশ একটি সম্প্রদায়ের প্রকৃত অর্থকে সামনে নিয়ে আসে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মুখপাত্র আরও বলেন, মানুষ বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও পটভূমি থেকে এলেও তারা প্রথমত প্রতিবেশী। শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সম্মানের মতো মূল্যবোধ সবাইকে একত্রিত করে।

 

মসজিদের কাছাকাছি বসবাসকারী কোলেট চারনক দম্পতির মৃত্যুর ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বিস্ময়কর। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দম্পতি ভালো মানুষ ছিলেন এবং বহু বছর ধরে ওই সড়কে বসবাস করতেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে চারনক বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তিনি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজনের পরিবর্তে একসঙ্গে থাকার বিষয়টির ওপরও গুরুত্ব দেন।

বেনিফিট ম্যানকাইন্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. হাফিজ আবদুস সামাদ মুল্লা বলেন, দুঃখ ও কঠিন সময়ে মানুষের বিভক্ত না হয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি বলেন, ব্ল্যাকবার্নে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও পটভূমির মানুষ বসবাস করেন। তবে ভালোবাসা, শান্তি, দয়া ও সহমর্মিতার মতো মূল্যবোধ সবার জন্যই প্রযোজ্য।

ড. মুল্লা আরও বলেন, ঐক্য শুধু ভালো সময়ে একসঙ্গে থাকার বিষয় নয়; প্রতিবেশীরা যখন কষ্টের মধ্যে থাকেন, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোও ঐক্যের অংশ। গত এক সপ্তাহে স্থানীয় সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থন তাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি এই উদ্যোগের মাধ্যমে সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মানুষকে বিভক্ত করার বিষয়গুলোর তুলনায় তাদের একত্রিত করার মতো বিষয় অনেক বেশি।

এদিকে, হাজি ইসমাইল আহমেদ লেলি ও হাজিয়ানি ফাতমা ইসমাইল লেলির স্মরণে বেনিফিট ম্যানকাইন্ডের উদ্যোগে খোলা জাস্টগিভিং তহবিলে ৫ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।

স্থানীয় সম্প্রদায়ের এই উদ্যোগে মসজিদ, পরিবার, দাতব্য সংস্থা, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। দম্পতির মৃত্যুর পর তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও পরিবারের প্রতি সমর্থন জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

সূত্রঃ ল্যাঙ্কাশায়ার টেলিগ্রাফ

এম.কে

Categories
বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জুতার চাহিদা বাড়ছেঃ রপ্তানিতে ৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের জুতা রপ্তানি কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে জুতা আমদানি বাড়ায় দেশের জুতা শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটসহ উৎপাদন খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে জুতা রপ্তানি থেকে বাংলাদেশের আয় ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে চামড়ার ও চামড়াবিহীন জুতা রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ২৫ কোটি ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় জুতা রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চামড়ার ও চামড়াবিহীন জুতা রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ আয় করেছে ১২২ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের আয়ও যুক্ত করলে গত অর্থবছরে এ খাত থেকে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ১৭৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের হিসাবেও চামড়ার ও চামড়াবিহীন—দুই ধরনের জুতাতেই প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এ সময়ে চামড়ার জুতা রপ্তানি থেকে এসেছে ১৫ কোটি ১০ লাখ ৩০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৯১ শতাংশ বেশি। আর চামড়াবিহীন জুতা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৭৪ লাখ ২০ হাজার ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ।

বাংলাদেশের জুতা রপ্তানির সবচেয়ে বড় একক বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য বিভাগের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের জুতা আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই আমদানি বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের জুতা রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ। কয়েক বছর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের জুতা বাজারে চীনের হিস্যা ছিল ৬০ শতাংশের বেশি। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য বিরোধ এবং চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে সেই অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে।

চীনের কমে যাওয়া বাজারের একটি অংশ এখন ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া ও ভারত দখল করছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্যও নতুন ক্রয়াদেশ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি নাসির খান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের অবস্থান দুর্বল হওয়ায় বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নাসির খান বলেন, বাংলাদেশের জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের মোট রপ্তানি আয়ের ৩০ শতাংশের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে আসে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের কারণে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার ব্যবধান কিছু ক্ষেত্রে কমেছে। চীনের হারানো বাজারের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ বাংলাদেশ দখল করতে পারলেও আগামী দুই বছরের মধ্যে জুতা রপ্তানি থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

বিশ্ববাজারে চামড়াবিহীন জুতার চাহিদা বাড়ায় এই খাতেও বাংলাদেশের বিনিয়োগ বাড়ছে। ময়মনসিংহের ভালুকায় ন্যাশনাল পলিমার গ্রুপের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ‘শুনিভার্স ফুটওয়্যার’। কারখানাটিতে প্রতি মাসে প্রায় ৪ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদন হয়। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়াদ মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মাসে গড়ে ৩০ লাখ ডলারের বেশি জুতা রপ্তানি হয় এবং প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।

রপ্তানির সম্ভাবনা বিবেচনায় গত বছরের শুরুতে কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। রিয়াদ মাহমুদ জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কারখানাটির পুরো সক্ষমতার বিপরীতে ক্রয়াদেশ রয়েছে। চীন থেকে কিছু বড় কোম্পানি বিকল্প উৎপাদন উৎসের দিকে ঝুঁকছে এবং বাংলাদেশের দিকে তাদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি। এই চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত কাঁচামাল ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শুধু বড় শিল্পাঞ্চলেই নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও রপ্তানিমুখী জুতা কারখানা গড়ে উঠছে। রংপুরের তারাগঞ্জে ২০১৭ সালে দুই ভাই মো. হাসানুজ্জামান ও মো. সেলিম প্রায় সাড়ে ৯ একর জমির ওপর ব্লিং লেদার প্রতিষ্ঠা করেন। পরে সেলিম মারা গেলেও প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কারখানাটি শতভাগ রপ্তানিমুখী এবং পোল্যান্ড, তুরস্ক, জার্মানি, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে জুতা রপ্তানি করে।

প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান জানান, গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। এখন উৎপাদন আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। দৈনিক ৫০ হাজার জোড়া জুতা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারেও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

জুতা শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা কমাতেও দেশে বিনিয়োগ হচ্ছে। গাজীপুরের মৌচাকে ৩৫ একর জমির ওপর জেনিস গ্রুপ গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ শু সিটি লিমিটেড নামে একটি শিল্পপার্ক। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান নাসির খান জানান, সেখানে জুতা উৎপাদনের প্রায় ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরি করা হচ্ছে। চামড়ার পাশাপাশি চামড়াবিহীন জুতা তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ দেশেই সরবরাহ করার লক্ষ্য নিয়ে এই শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে।

বিশ্ববাজারে জুতা রপ্তানিতে এখনো চীন প্রায় ৬০ শতাংশ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি, তুরস্ক ও ভারত। এই বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের রপ্তানি কমে যাওয়া এবং বাংলাদেশি জুতার চাহিদা বাড়ার বিষয়টি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, কাঁচামালের জোগান বাড়ানো, দক্ষ জনবল তৈরি, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়া গেলে এই সুযোগ আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এতে জুতা ও চামড়াজাত পণ্য বাংলাদেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি আয় ৫ বিলিয়ন ডলারে নেওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ তৈরি হতে পারে।

সূত্রঃ ওটেক্সা\ বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

এমকে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে কট্টর ডানপন্থী প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধের দাবিঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান

ব্রিটেনে অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থী সংগঠন প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের মতো সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যারোনেস শামি চক্রবর্তী। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে সংগঠনটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে ভাবার আহ্বান জানান।

১৬ সেপ্টেম্বরের এক বক্তব্যে লেবার দলের পিয়ার ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারোনেস চক্রবর্তী বলেন, প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের পর সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অন্তত বিবেচনা করা উচিত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একই ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মানুষের মধ্যে দ্বৈত মানদণ্ড প্রয়োগের ধারণা তৈরি হতে পারে।

ড্যানি ‘টমো’ থমাসের নেতৃত্বাধীন প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম চলতি মাসে ডোভার ও পোর্টসমাউথে বিক্ষোভের মাধ্যমে আলোচনায় আসে। সংগঠনটির মুখোশধারী সমর্থকদের একটি বড় দল ডোভার বন্দরের প্রবেশপথ অবরোধ করে। তারা দাবি করে, ছোট নৌকায় করে অভিবাসীদের ব্রিটেনে প্রবেশ ঠেকাতেই এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়েছে।

ড্যানি থমাস ভবিষ্যতে আরও বিক্ষোভ আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। টমি রবিনসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্ম একটি নিরাপদ অ্যাপের মাধ্যমে একটি বার্তা পাঠিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোনো একটি স্থানে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার মানুষকে জড়ো করতে সক্ষম হবে।

অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটনকেও সম্ভাব্য বিক্ষোভস্থল হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন থমাস। সেখানে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি স্থাপনায় ১ হাজার ২০০ জনের বেশি পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ওই স্থাপনার আশপাশে বিক্ষোভকারীরা কয়েক দিন অবস্থান করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ব্যারোনেস চক্রবর্তী তার বক্তব্যে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি আগে থেকেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ নয় বলে মনে করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেত।

প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সংগঠনটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা হুদা আমোরি কোর্ট অব আপিলের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন।

এর আগে জুন মাসে কোর্ট অব আপিল সরকারের প্যালেস্টাইন অ্যাকশন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে রায় দেয়। সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ করার অভিযোগে ৩ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এপ্রিল মাসে একটি বিক্ষোভে মেট্রোপলিটন পুলিশ ১৬ থেকে ৮৭ বছর বয়সী ৫২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

এদিকে প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মের কর্মকাণ্ডের পর বিক্ষোভে মুখ ঢাকার ওপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞার দাবিও উঠেছে। বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট এলাকায় বিক্ষোভ চলাকালে মুখ ঢেকে রাখলে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারে।

তবে ব্যারোনেস চক্রবর্তী সার্বিকভাবে বিক্ষোভে মুখ ঢাকার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন মানুষ এবং কোনো দমনমূলক রাষ্ট্রের দূতাবাস বা কোনো নিয়োগকর্তার কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে প্রতিশোধের আশঙ্কা করা ব্যক্তিদের সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

তিনি ১৯৩৬ সালের পাবলিক অর্ডার অ্যাক্টের ধারা ১-এর কথাও উল্লেখ করেন। ওই আইনের মাধ্যমে জনসমক্ষে রাজনৈতিক পোশাক বা ইউনিফর্ম ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি তিনি বর্তমান আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেন।

ব্যারোনেস চক্রবর্তী বলেন, সাম্প্রতিক দক্ষিণ উপকূলীয় ঘটনাগুলোর পর তথাকথিত প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অন্তত বিবেচনা করার সময় এসেছে কি না, তা দেখা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করেন, ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং কথিত দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগের মুখে আইনপ্রণেতাদের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টিও জনমনে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। হোম অফিস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ঘটনাগুলো এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ব্রিটেনে অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থী ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা এবং বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। প্যাট্রিয়ট প্ল্যাটফর্মের কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনজুড়ে রুশ নাশকতার আশঙ্কাঃ ৩টির বেশি কেবল কাটা পড়লে ‘সম্পূর্ণ অচলাবস্থা’!

ব্রিটেনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় যোগাযোগ কেবল বা সাবসি কেবলে রাশিয়ার সমন্বিত হামলা হলে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে শুরু করে লন্ডনের আর্থিক কেন্দ্র পর্যন্ত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী টোবিয়াস এলউড।

টোবিয়াস এলউডের দাবি, সম্ভাব্য উচ্চমাত্রার নাশকতার প্রস্তুতি হিসেবে মস্কো ব্রিটেন ও ইউরোপজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় অবকাঠামোর অবস্থান ও কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার মতে, এসব অবকাঠামোর ওপর হামলা হলে এর প্রভাব শুধু উপকূলীয় কেবল ল্যান্ডিং স্টেশনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সমুদ্রতলীয় যোগাযোগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং লন্ডনের ‘সিটি’ বা ‘সিটি অব লন্ডন’ তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিকল্প রুটে থাকা ব্যাকআপ সক্ষমতা দ্রুত অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এলউডের বক্তব্য অনুযায়ী, একই সময়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেবল কেটে দেওয়া হলে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের মেরামত জট তৈরি হতে পারে। তার ভাষায়, তিনটির বেশি কেবল একই সময়ে বিচ্ছিন্ন হলে ‘সম্পূর্ণ অচলাবস্থা’ তৈরি হতে পারে।

এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে ব্রিটেনের সীমিত কেবল মেরামত সক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তার দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত সমুদ্রতলীয় কেবল মেরামতের জন্য ব্রিটেনের কাছে মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক মেরামতকারী জাহাজ রয়েছে। এসব জাহাজকে কাজ করার সময় প্রতিটির জন্য নৌবাহিনীর নিরাপত্তা পাহারা প্রয়োজন হয়।

টোবিয়াস এলউড বলেন, “একই সময়ে তিনটির বেশি কেবল কেটে দেওয়া হলে সম্পূর্ণ জট তৈরি হবে। রাশিয়া এসব বিষয় জানে।”

তার মতে, রাশিয়ার সম্ভাব্য কৌশলের একটি উদ্দেশ্য হতে পারে ব্রিটিশ নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে ধারাবাহিকভাবে এমন মাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা, যাতে বিদেশে সহায়তা দেওয়া নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

এলউড বলেন, মস্কোর মূল লক্ষ্য হতে পারে ব্রিটিশ জনগণকে এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তারা মনে করবে ইউক্রেনকে সমর্থন করা আর মূল্যবান নয়।

ব্রিটেনের উপকূলীয় বেশ কয়েকটি শহর ও এলাকা সমুদ্রতলীয় কেবল নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে কর্নওয়ালের বুড এবং সাফোকের লোওয়েস্টফট উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া হলিহেড, নিউক্যাসল, পোর্টসমাউথ, ব্রডস্টেয়ার্স এবং অক্সউইচ বে দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতলীয় যোগাযোগ সংযোগ ব্রিটেনের উপকূলে এসে পৌঁছেছে।

সমুদ্রের নিচে থাকা এসব কেবল আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগ, তথ্য আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প রুটের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এলউড আরও বলেছেন, ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে প্রচলিত সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি জাতীয় অবকাঠামোর সুরক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে তিনি সাইবার ব্যবস্থা ও জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখতে ফিনল্যান্ডের জাতীয় সেবা ও জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার মডেলের দিকে নজর দেওয়ার কথা বলেছেন।

তার সতর্কতার মূল বিষয় হলো, সমুদ্রতলীয় কেবলগুলোর ওপর একযোগে একাধিক হামলা হলে শুধু টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, আর্থিক পরিষেবা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইউস্টনগামী ট্রেনে প্রকাশ্যে হস্তমৈথুনের অভিযোগঃ ব্যক্তির খোঁজে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ

লন্ডনের একটি চলন্ত ট্রেনে প্রকাশ্যে হস্তমৈথুন করার অভিযোগে এক ব্যক্তির খোঁজে নেমেছে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ বা বিটিপি। তদন্তের স্বার্থে সন্দেহভাজন ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করে তার পরিচয় শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ।

 

ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার কিছু আগে। ইউস্টন স্টেশন থেকে বাসি যাওয়ার পথে একটি ট্রেনে এক যাত্রী ওই ব্যক্তিকে হস্তমৈথুন করতে দেখেন বলে পুলিশকে জানান।

অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করে বিটিপি। তদন্তকারীরা এখন এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন, যিনি ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন।

ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ জানিয়েছে, প্রকাশ করা ছবিতে থাকা ব্যক্তির কাছে তাদের তদন্তে সহায়ক তথ্য থাকতে পারে বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন।

ছবিতে থাকা ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩০-এর কোঠায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার ছোট বাদামি চুল ও দাড়ি রয়েছে। ঘটনার সময় তার পরনে ছিল সাদা ছোট হাতার টি-শার্ট ও খাকি রঙের ট্রাউজার। তার সঙ্গে একটি কালো ব্যাকপ্যাকও ছিল।

পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রেনটি বন্ড স্ট্রিটে পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তি তার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভিড়ের মধ্যে তা আড়াল করার চেষ্টা করেন। পরে তিনি ইলিং ব্রডওয়ে স্টেশনে ট্রেন থেকে নেমে যান।

বিটিপি জানিয়েছে, প্রকাশিত ছবির ব্যক্তিকে কেউ চিনতে পারলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তদন্তে সহায়ক যেকোনো তথ্য পুলিশের কাছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তথ্য দিতে বিটিপির ৬১০১৬ নম্বরে টেক্সট মেসেজ পাঠানো যাবে। এছাড়া ০৮০০ ৪০৫০ ৪০ নম্বরে ফোন করেও তথ্য দেওয়া যাবে। যোগাযোগের সময় ৬০০ of 19 August রেফারেন্স নম্বরটি উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।

পরিচয় গোপন রেখে তথ্য দিতে চাইলে ক্রাইমস্টপার্স-এর সঙ্গে ০৮০০ ৫৫৫ ১১১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

এদিকে লন্ডনের আরেকটি ঘটনায়ও পুলিশ একজন ব্যক্তির সন্ধান করছে। এপ্রিল মাসে এলিজাবেথ লাইনে এক নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ওই ব্যক্তিকে খুঁজছে পুলিশ।

যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সহায়তাকারী সংস্থাগুলো। ভুক্তভোগীরা চিকিৎসক বা জিপি, রেপ ক্রাইসিস, উইমেন’স এইড, ভিকটিম সাপোর্ট, দ্য সারভাইভার্স ট্রাস্ট এবং মেল সারভাইভার্স পার্টনারশিপের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারেন।

জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশে ৯৯৯ নম্বরে এবং জরুরি নয় এমন ক্ষেত্রে ১০১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, যৌন অপরাধের অভিযোগ তদন্তে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকেন।

ঘটনায় এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা ছবির ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে প্রত্যক্ষদর্শী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন, ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ (বিটিপি)

এম.কে

Categories
আমেরিকা

ভারতীয় পণ্যে ১০০% শুল্কের খড়গঃ রাশিয়ার তেল কেনায় দিল্লির ওপর বাড়ছে মার্কিন চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এমন একটি বিল আরও এক ধাপ এগিয়েছে, যার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা ভারতসহ অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ বিলটি প্রাথমিক ভোটে ২১৪-২১১ ব্যবধানে অনুমোদন পেয়েছে। বুধবার বিলটির চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে গত আগস্টে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদন করে। প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত ভোটেও বিলটি পাস হলে পরবর্তী ধাপে এটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউজে পাঠানো হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে রাশিয়া থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সম্ভাব্যভাবে এর আওতায় ভারত ও চীনের পাশাপাশি তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সিঙ্গাপুর ও কাজাখস্তানের মতো দেশও পড়তে পারে।

বিলটির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো এবং ইউক্রেনে যুদ্ধ চালানোর জন্য দেশটির রাজস্ব কমানোর উদ্যোগকে আরও জোরদার করা। প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় রুশ নেতৃত্ব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার জ্বালানি পরিবহনে সহায়তা করা জাহাজগুলোকেও আনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর জাহাজও রয়েছে।

একই বিলে ইরানের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ সীমিত করার সঙ্গে সম্পর্কিত ‘ইরান স্যাংশন অ্যাক্ট’-এর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

দক্ষিণ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে বিলটির নামকরণ করা হয়েছে। গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সালে পশ্চিমা দেশগুলো মস্কোর ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে রাশিয়ার তেল রপ্তানির বাজারে বড় পরিবর্তন আসে। পশ্চিমা দেশগুলোর অনেকগুলো রুশ জ্বালানি কেনা কমিয়ে দেওয়ার পর ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বড় পরিমাণে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করে।

ভারতের পক্ষ থেকে রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দেশের ভোক্তাদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, রুশ জ্বালানি বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ মস্কোর অর্থনীতিকে সমর্থন করে এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়নে ভূমিকা রাখে।

বর্তমানে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন এবং দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত। এছাড়া বিভিন্ন পরিমাণে রুশ জ্বালানি আমদানি করে স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, আজারবাইজান ও জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ।

প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনার কারণে এসব দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ তৈরি হবে। তবে বিলটি আইনে পরিণত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে না। বরং আইনটি প্রেসিডেন্টকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে।

ভারতের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য প্রভাব মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির রপ্তানির ওপর পড়তে পারে। ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হলে মার্কিন আমদানিকারকদের জন্য পণ্য আমদানির ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চাপ তৈরি হওয়ার এবং মার্কিন বাজারে কিছু ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিলটি নিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ প্রেসিডেন্টের হাতে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা অতিরিক্ত বিস্তৃত হওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। হাউজ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সিনিয়র ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিক্স বিলটির এমন বিধানের সমালোচনা করেছেন, যা প্রেসিডেন্টকে ব্যাপকভাবে তথাকথিত ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ আরোপের সুযোগ দিতে পারে।

তবে ভোটাভুটিতে দুই ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রিপাবলিকানদের সঙ্গে যোগ দিয়ে বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত ভোটে বিলটি অনুমোদন পেলে সেটি প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউজে যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করলে রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের জন্য নতুন আইনি কাঠামো কার্যকর হবে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে