Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে গঠিত হচ্ছে ‘ব্রিটিশ এফবিআই’, ২০২৯ সালের মধ্যে চালুর লক্ষ্য

ব্রিটেনে জাতীয় পর্যায়ের সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় নতুন ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস বা এনপিএস গঠনের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। নতুন এই বাহিনীকে ‘ব্রিটিশ এফবিআই’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে বাহিনীটির কার্যক্রম চালুর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিসের কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে চান তিনি। পার্লামেন্টে সংশ্লিষ্ট বিল উত্থাপনের পর দ্রুত একজন কমিশনার-ডিজাইনেট নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

হোম অ্যাফেয়ার্স কমিটির এমপিদের সামনে শাবানা মাহমুদ বলেন, বর্তমান পার্লামেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন বাহিনীর অধিকাংশ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করার উদ্দেশ্য রয়েছে।

নতুন বাহিনী গঠনের জন্য পুলিশ রিফর্ম বিলের খসড়া তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী। প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে থাকা ৪৩টি পুলিশ বাহিনীর কাঠামোতেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিসের মূল দায়িত্ব হবে জাতীয় পর্যায়ে সংগঠিত অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের মতো গুরুতর ও জটিল অপরাধ মোকাবিলা করা। এর ফলে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীগুলো নিজেদের এলাকায় অ্যান্টি-সোশ্যাল বিহেভিয়ারসহ স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলায় আরও বেশি সময় দিতে পারবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

জানুয়ারিতে শাবানা মাহমুদ ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন বাহিনী অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ দক্ষতা ব্যবহার করে ব্রিটেনের সবচেয়ে বিপজ্জনক অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রিজিওনাল ক্রাইম হাবস বা আঞ্চলিক অপরাধ কেন্দ্রও গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কেন্দ্র বিভিন্ন অঞ্চল ও সীমান্ত অতিক্রম করে পরিচালিত অপরাধ এবং সবচেয়ে গুরুতর ও জটিল অপরাধের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন জাতীয় বাহিনীর অধীনে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি, কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং, রিজিওনাল অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটস, পুলিশ হেলিকপ্টার এবং ন্যাশনাল রোড পুলিশিংয়ের বিভিন্ন ক্ষমতা ও কার্যক্রম একত্রিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন বাহিনী প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার করবে। এর নেতৃত্বে থাকবেন একজন ন্যাশনাল পুলিশ কমিশনার, যাকে দেশের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে পুলিশ বাহিনীর সংখ্যা কমানোর প্রস্তাব নিয়েও একটি স্বাধীন পর্যালোচনা চলছে। শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর পুলিশ সংস্কার নিয়ে সরকারের অবস্থানে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নেতাদের হাতে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

শাবানা মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪৩টি পুলিশ বাহিনীকে একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের পুলিশিং এবং জাতীয় পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার একটি লক্ষ্য হলো জাতীয় ও স্থানীয় দায়িত্বের মধ্যে আরও স্পষ্ট সমন্বয় তৈরি করা।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস গঠনে প্রায় ৩৪ কোটি পাউন্ড ব্যয় হবে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থ ইতোমধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকি অর্থ পরবর্তী সরকারি ব্যয় পর্যালোচনার মাধ্যমে বরাদ্দ করার কথা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন বাহিনী গঠনের কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত পুলিশ সংস্কারের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনাও অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে কর্মীদের জন্য সুখবরঃ বাড়ি থেকে কাজের আবেদন নাকচ করতে পারবেন না নিয়োগকর্তারা

ব্রিটেনে বাড়ি থেকে কাজসহ ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের জন্য নতুন নিয়ম আনার ঘোষণা দিয়েছে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম সরকার। নতুন ব্যবস্থায় কোনো কর্মীর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করার আগে নিয়োগকর্তাকে তার সঙ্গে বসে বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে এবং প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করতে হবে।

ব্রাইটনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ট্রেড ইউনিয়নস কংগ্রেস বা টিইউসি সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেন ফার্স্ট সেক্রেটারি অব স্টেট লুইস হেইগ। তিনি বলেন, সব ধরনের কাজ বাড়ি থেকে করা সম্ভব নয় এবং সব অনুরোধও অনুমোদন করা যাবে না। তবে প্রতিটি অনুরোধ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

লুইস হেইগ বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা যদি ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে চান, তাহলে তাকে কর্মীর সঙ্গে বসতে হবে, অনুরোধটি যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে এবং কেন তা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করতে হবে।

কর্মীদের সন্তানদের দেখাশোনা, বাবা-মায়ের যত্ন নেওয়া কিংবা পরিবারের জরুরি দায়িত্ব পালনের মতো পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে লুইস হেইগ বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সামান্য নমনীয়তাও কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও তাদের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ব্রিটেনে কর্মীদের কাজের সময় বা কর্মস্থল পরিবর্তনসহ ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংয়ের অনুরোধ জানানোর আইনি অধিকার রয়েছে। নিয়োগকর্তাদের এসব অনুরোধ যুক্তিসংগতভাবে বিবেচনা করতে হয়। নতুন ঘোষণায় প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।

টিইউসি-এর সাধারণ সম্পাদক পল নওয়াক ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিংকে কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থা কর্মীদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের আরও জবাবদিহির আওতায় আনবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় কর্মীদের অবস্থান শক্তিশালী করবে।

লুইস হেইগ তার বক্তব্যে সরকারের এমপ্লয়মেন্ট রাইটস অ্যাক্ট-এর বিভিন্ন পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রথম দিন থেকেই অসুস্থতার বেতন, ‘ফায়ার অ্যান্ড রিহায়ার’-এর ওপর বিধিনিষেধ, মা-বাবার জন্য বাড়তি সুরক্ষা এবং অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে।

সরকার জিরো-আওয়ারস কনট্র্যাক্ট নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। লুইস হেইগের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব চুক্তিতে নিয়োগকর্তাদের নমনীয়তা থাকলেও কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

নতুন ফ্লেক্সিবল ওয়ার্কিং ব্যবস্থার ফলে বাড়ি থেকে কাজ বা কর্মঘণ্টায় পরিবর্তনের অনুরোধ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় আরও আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে। তবে কোন কোন অনুরোধ শেষ পর্যন্ত অনুমোদিত হবে, তা সংশ্লিষ্ট চাকরির ধরন ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

Categories
ফিচার

ইলন মাস্কের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাসঃ ২০২৭ থেকে বদলে যাবে মানুষের কাজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং হিউম্যানয়েড রোবট আগামী এক দশকে মানুষের কর্মজীবন ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন টেসলা ও এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক।

২০২৭ সালের মধ্যে এআই কম্পিউটারভিত্তিক প্রায় সব ধরনের ডিজিটাল কাজে মানুষের চেয়ে বেশি দক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলে মাস্ক পূর্বাভাস দিয়েছেন। সফটওয়্যার, ডেটা বিশ্লেষণ ও অন্যান্য ডিজিটাল কাজেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও কোডিংয়ের ক্ষেত্রেও এআইয়ের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। মাস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মানুষের তুলনায় এআইয়ের গতি ও সক্ষমতার ব্যবধান আগামী কয়েক বছরে আরও বাড়তে পারে।

রোবটিক সার্জারি নিয়েও উচ্চাভিলাষী পূর্বাভাস দিয়েছেন মাস্ক। তার বক্তব্য অনুযায়ী, উন্নত এআই ও রোবট একসময় মানুষের সবচেয়ে দক্ষ সার্জনদের চেয়েও নিখুঁতভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হতে পারে।

২০৩০ সালের মধ্যে এআই মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মাস্ক জানিয়েছেন। এই পর্যায়কে সাধারণভাবে ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

হিউম্যানয়েড রোবটের সংখ্যাও ব্যাপকভাবে বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি। তার হিসাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বে ১০ কোটি বা তারও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট থাকতে পারে। টেসলা ইতোমধ্যে ‘অপটিমাস’ নামে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির কাজ করছে।

অটোমেশনের ফলে বৈশ্বিক উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়তে পারে বলেও মাস্কের পূর্বাভাস রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এআই ও রোবটের ব্যাপক ব্যবহার কয়েক বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

এআই ও রোবটের কারণে ভবিষ্যতে মানুষের অবসর সঞ্চয়ের প্রচলিত ধারণাও বদলে যেতে পারে বলে মাস্ক মন্তব্য করেছেন। তার মতে, প্রযুক্তির কারণে পণ্য ও সেবার উৎপাদন এত বাড়তে পারে যে বর্তমান অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা কমে আসবে।

কাজের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তনের কথা বলেছেন মাস্ক। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে জীবিকা নির্বাহের জন্য মানুষের কাজ করা বাধ্যতামূলক নাও থাকতে পারে; মানুষ নিজের পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী কাজ করতে পারে।

ভবিষ্যতের অর্থব্যবস্থা সম্পর্কে মাস্ক ‘ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম’ বা সবার জন্য উচ্চমাত্রার আয়ের ধারণার কথাও বলেছেন। তার যুক্তি, রোবট ও এআই বিপুল পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদন করলে মানুষের জীবনযাত্রার জন্য প্রচলিত মজুরি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।

২০৩৬ সাল নিয়ে মাস্ক আরও বড় পরিবর্তনের কথা বলেছেন। তার মতে, এআই ও রোবট মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে সক্ষম হলে অর্থের বর্তমান গুরুত্বও অনেক কমে যেতে পারে।

তবে ২০২৭ থেকে ২০৩৬ সালের প্রতিটি বছরের যে নির্দিষ্ট তালিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, সেটি মাস্কের একক কোনো বক্তব্যে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ দশ বছরের সরকারি বা বৈজ্ঞানিক সময়সূচি নয়। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া তার বক্তব্য ও পূর্বাভাসকে বছরভিত্তিক সাজিয়ে এই টাইমলাইন তৈরি করা হয়েছে।

এআই ও রোবটের প্রকৃত অগ্রগতি, উৎপাদনক্ষমতা, সরকারি নীতি এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের ওপর এসব পূর্বাভাস কতটা এবং কখন বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট\ ফোরচুন \ বিজনেস ইনসাইডার

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

অবৈধ অভিবাসন সেবা বিজ্ঞাপনের অভিযোগে বার্মিংহামে ভারতীয় যুবক গ্রেপ্তার

অনলাইনে ভুয়া ভিসা ও আশ্রয় আবেদন সংক্রান্ত সহায়তার বিজ্ঞাপন দেওয়ার অভিযোগে ২৪ বছর বয়সী এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ।

হেম রাজ নামে ওই যুবককে মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের স্মেথউইক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অনলাইনে অবৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের যৌথ তদন্তের অংশ হিসেবে রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে কয়েকটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে এনসিএ জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু পোস্টে ভুয়া ভিসা ও আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এসব পোস্টের সূত্র ধরেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এনসিএ।

রাজের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের বর্ডার সিকিউরিটি, অ্যাসাইলাম অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের সেকশন ১৭ অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এনসিএ জানিয়েছে, তাদের তদন্তের অংশ হিসেবে এই নতুন আইনের অধীনে এ ধরনের অপরাধে অভিযোগ আনার ঘটনা প্রথম।

এনসিএর ব্রাঞ্চ কমান্ডার কেভিন ব্রডহেড বলেন, সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ মোকাবিলা করা সংস্থাটির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। যারা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে, তাদের কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত করতে এনসিএ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

এনসিএর এক মুখপাত্র বলেন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনলাইনে অবৈধ অভিবাসন সেবা দেওয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি ও ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ যৌথভাবে তদন্তটি পরিচালনা করেছে।

এ ঘটনায় রাজের বিরুদ্ধে শুধু নতুন অভিবাসন আইনের অধীনেই নয়, ১৯৯৯ সালের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম অ্যাক্ট লঙ্ঘন করে বেআইনিভাবে অভিবাসন-সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।

রাজকে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর বার্মিংহাম ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা হয়।

এদিকে, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত হেম রাজকে আইনগতভাবে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঘটনাটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাজ্য সরকার সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ এবং অবৈধ অভিবাসনকে সহায়তা করা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ জোরদার করছে। এই মামলায় ২০২৫ সালের নতুন আইনের সেকশন ১৭ প্রয়োগের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি।

সূত্রঃ বার্মিংহাম লাইভ

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ১১৫টিরও বেশি মসজিদের দরজা খুলছে সবার জন্যঃ ‘ভিজিট মাই মস্ক’ ২০২৬

ব্রিটেনে আগামী ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বার্ষিক ‘ভিজিট মাই মস্ক’ কর্মসূচি। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে ১১৫টিরও বেশি মসজিদ সাধারণ মানুষের জন্য তাদের দরজা খুলে দেবে। কর্মসূচিটির আয়োজক মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন—এমসিবি।

‘ভিজিট মাই মস্ক’ হচ্ছে একটি জাতীয় উদ্যোগ, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এবং কোনো ধর্মের সঙ্গে যুক্ত নন—এমন ব্যক্তিদেরও স্থানীয় মসজিদে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। দর্শনার্থীরা মসজিদ ঘুরে দেখতে পারবেন, স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন, ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারবেন এবং মুসলিম কমিউনিটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এমসিবির তথ্য অনুযায়ী, ‘ভিজিট মাই মস্ক’ কর্মসূচিটি ২০১৫ সালে জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয়। শুরুতে প্রায় ২০টি মসজিদ এতে অংশ নিলেও পরবর্তী সময়ে এর পরিধি বেড়েছে এবং বিভিন্ন বছর ২০০টিরও বেশি মসজিদ অংশগ্রহণ করেছে।

২০২৬ সালের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মসজিদগুলোতে সাধারণত দর্শনার্থীদের স্বাগত জানানো হবে। অনেক মসজিদে চা ও অন্যান্য খাবারের মাধ্যমে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে। কোথাও কোথাও মসজিদ পরিদর্শনের পাশাপাশি ইসলাম ও স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটি সম্পর্কে প্রদর্শনী, আলোচনা কিংবা গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থাও থাকবে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে সাধারণত আগাম বুকিংয়ের প্রয়োজন নেই এবং প্রবেশ বিনামূল্যে। তবে স্কুল বা বড় কোনো দল নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মসজিদের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মসজিদে প্রবেশের সময় দর্শনার্থীদের শালীন পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নামাজের স্থানে প্রবেশের আগে জুতা খুলে রাখতে হবে। নারী দর্শনার্থীরা নামাজের স্থানে প্রবেশের সময় মাথা ঢাকার জন্য স্কার্ফ ব্যবহার করতে পারেন, যদিও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয় বলে আয়োজকদের গাইডে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘ভিজিট মাই মস্ক’ কর্মসূচিতে শিশুদেরও প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ চাহিদা বা প্রতিবন্ধিতা-সংক্রান্ত কোনো প্রয়োজন থাকলে সংশ্লিষ্ট মসজিদের সঙ্গে আগে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায়।

মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন জানিয়েছে, কর্মসূচিটির অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় মসজিদ ও বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, মসজিদগুলো শুধু উপাসনালয় নয়, স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত থাকে।

এমসিবির ‘ভিজিট মাই মস্ক ২০২৬’ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যজুড়ে অংশগ্রহণকারী মসজিদ খুঁজে বের করতে পোস্টকোড ব্যবহার করে নিকটবর্তী মসজিদের তথ্য দেখা যাবে। কর্মসূচিটি ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬—এই দুই দিন অনুষ্ঠিত হবে।

অংশগ্রহণকারী মসজিদ ও কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে।

https://vmm.mcb.org.uk/?utm_source=chatgpt.com

সূত্রঃ ফাইভ-পিলারস

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে হাস্যকর কাণ্ডঃ অ্যাসাইলাম সেন্টারের প্রতিবাদে দেশ ছাড়তে চায় অক্সফোর্ডশায়ারের গ্রাম

অ্যাসাইলাম সিকারদের আবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে প্রতীকী গণভোটে যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে অক্সফোর্ডশায়ারের ছোট্ট গ্রাম পিডিংটন। তবে এই ভোটের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই এবং এর মাধ্যমে গ্রামটি বাস্তবে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। 
পিডিংটন প্যারিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে মঙ্গলবার এই প্রতীকী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের প্রশ্ন ছিল—পিডিংটন যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে কি না। মোট ৩১২টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ২৮৫ জন যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে, ২৬ জন বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন এবং একটি ব্যালট বাতিল হয়েছে। ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ।
প্রায় ৩৫০ জন বাসিন্দার এই গ্রামটি অক্সফোর্ডশায়ারের বিসেস্টারের কাছে অবস্থিত। স্থানীয়দের এই প্রতীকী ভোটের পেছনে রয়েছে কাছাকাছি একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক অ্যাসাইলাম সিকারকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেখানে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অ্যাসাইলাম সিকারকে আবাসনের পরিকল্পনা করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একটি অংশের অভিযোগ, এত বড় একটি আবাসন কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে আলোচনা করা হয়নি। স্থানীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও প্রস্তাবিত স্থানের অবকাঠামো ও পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
পিডিংটন প্যারিশ কাউন্সিলের আয়োজিত এই ভোটকে স্থানীয় পর্যায়ের একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কোনো গ্রাম বা স্থানীয় কাউন্সিল একতরফাভাবে যুক্তরাজ্য থেকে বেরিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে যেতে পারে—এমন কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই। ফলে ভোটের ফলাফল সরাসরি দেশের সীমানা বা গ্রামের সাংবিধানিক অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
ভোটের ফল ঘোষণার পর প্যারিশ কাউন্সিলের ভাইস চেয়ার সুসান্নাহ পারডেন পিডিংটনকে এমন একটি গ্রাম হিসেবে উল্লেখ করেন, যারা নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। কাউন্সিলের চেয়ারম্যান টিম ম্যাকনালি এই ভোটকে স্থানীয় গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন।
এদিকে ফলাফল প্রকাশের পর সরকারের পক্ষ থেকেও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। মন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগ শোনা হবে এবং তাদের হতাশা স্পষ্ট। একই সঙ্গে সরকার অ্যাসাইলাম আবাসনের চাপ বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে।
সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যয়বহুল অ্যাসাইলাম হোটেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সাবেক সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে অ্যাসাইলাম সিকারদের আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। হোম অফিসের বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেল ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমে সরকারি ব্যয় কমানোর লক্ষ্য রয়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
পিডিংটনের এই প্রতীকী গণভোট এখন স্থানীয়ভাবে অ্যাসাইলাম সিকারদের আবাসন নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে ভোটের ফলাফল প্রতীকী হওয়ায় এর মাধ্যমে পিডিংটন বাস্তবে যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে না।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এম.কে
Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

বার্নহাম সরকারের ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: ক্যাথলিক ও ইহুদি প্রধানমন্ত্রীদের ওপর আরোপিত বৈষম্যমূলক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিল সংসদে

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম সরকার যুক্তরাজ্যের সংবিধানিক কাঠামোতে বহু শতাব্দী পুরনো ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বিধান বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বিলটি ক্যাথলিক বা ইহুদি ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রীকে চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগ সংক্রান্ত পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ সাংবিধানিক ক্ষমতা ফিরিয়ে দেবে।

অ্যান্ডি বার্নহাম তাঁর সরকারের প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে এমন এক আইন সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করেছেন, যা ব্রিটিশ সংবিধানের দীর্ঘদিনের একটি বৈষম্যমূলক বিধানকে অবশেষে বাতিল করতে যাচ্ছে। রোমান ক্যাথলিক বা ইহুদি ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রী চার্চ অব ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে রাজাকে পরামর্শ দিতে পারবেন না—এমন বিধান বহু বছর ধরে আইন বইয়ে রয়ে গেছে। বার্নহাম এই বিধানকে “অ্যান্টিকুয়েটেড”, “আর্কাইক” এবং আধুনিক গণতন্ত্রের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন।

এই নিষেধাজ্ঞার উৎস ১৮২৯ সালের *Roman Catholic Relief Act* এবং ১৮৫৮ সালের *Jews Relief Act*—যে আইনগুলো ক্যাথলিক ও ইহুদি নাগরিকদের জনজীবনে অংশগ্রহণের বহু বাধা দূর করলেও চার্চ নিয়োগে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছিল। ফলে প্রধানমন্ত্রী যদি ক্যাথলিক বা ইহুদি হন, তবে তিনি চার্চ অব ইংল্যান্ড বা চার্চ অব স্কটল্যান্ডের উচ্চপদে নিয়োগের বিষয়ে রাজাকে পরামর্শ দিতে পারেন না।
অ্যান্ডি বার্নহাম নিজে একজন ক্যাথলিক হওয়ায় এই বিধান প্রথমবার বাস্তব সমস্যার সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে বাধা পড়ায় তিনি আপাতত এই দায়িত্ব লর্ড চ্যান্সেলরকে অর্পণ করেছেন, যাতে চার্চ নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। তবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—একজন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে সাংবিধানিক ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা “অগ্রহণযোগ্য”।

নতুন বিলটির নাম Church Appointments (Repeal of Discriminatory Provision) Bill । এটি পাস হলে ভবিষ্যতে যেকোনো ক্যাথলিক বা ইহুদি প্রধানমন্ত্রীও চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগে রাজাকে পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা পাবেন। সরকার বলছে, এটি একটি “শর্ট, টার্গেটেড” বিল—যার উদ্দেশ্য শুধু বৈষম্যমূলক বিধান অপসারণ করে আইনকে আধুনিক ও সাম্যের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা।
বিলটি প্রথম পাঠ (First Reading) পর্যায়ে সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে কমিটি ও বিতর্কের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হওয়ার পথ এগোবে। বহু বছর ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকা এই বিধান এখন প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক বাস্তবতায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে—কারণ যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথম একজন ক্যাথলিক প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন।
বার্নহাম সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু একটি আইনি সংশোধনী নয়; এটি যুক্তরাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষতা, সমতা ও আধুনিক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতীক। বহু পুরনো বৈষম্যমূলক বিধান অপসারণের মাধ্যমে সরকার দেখাতে চাইছে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনে ধর্মীয় পরিচয় কোনো বাধা হতে পারে না।

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘যুক্তরাজ্য ভাঙতে দেব না’—স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবির বিরুদ্ধে মাঠে ইউনিয়নপন্থিরা

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য দ্বিতীয় গণভোটের দাবিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ তৈরি হয়েছে। ফার্স্ট মিনিস্টার জন সোয়িনির স্বাধীনতার উদ্যোগের জবাবে ইউনিয়নপন্থি নেতারা পাল্টা রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছেন। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক অখণ্ডতা বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান তুলে ধরতে তারা স্কটল্যান্ডে সমবেত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য হেরাল্ড স্কটল্যান্ডের ১৫ সেপ্টেম্বরের এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি—ডিইউপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এডিনবরায় সফর করবেন। সেখানে তারা যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ‘ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি’ তুলে ধরবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইউনিয়নপন্থিরা স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার দাবির বিপরীতে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে স্কটল্যান্ডের বর্তমান সাংবিধানিক সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে তাদের বক্তব্য তুলে ধরার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে দ্বিতীয় গণভোট—যা সাধারণভাবে ইন্ডিরেফ-২ নামে পরিচিত—দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। স্বাধীনতাপন্থিরা স্কটল্যান্ডের জনগণের সামনে ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থান নির্ধারণের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।

অন্যদিকে ইউনিয়নপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো যুক্তরাজ্যের বর্তমান কাঠামোর মধ্যে স্কটল্যান্ডের অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে স্বাধীনতাপন্থি ও ইউনিয়নপন্থিদের মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আবারও প্রকাশ্যে জোরালো হচ্ছে।

এবারের তৎপরতায় উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডিইউপির প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তারা এডিনবরায় গিয়ে যুক্তরাজ্যকে কেন্দ্র করে নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন বলে দ্য হেরাল্ড জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিয়নপন্থি নেতারা জন সোয়িনির স্বাধীনতার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ‘ফাইটব্যাক’ বা পাল্টা রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা সামনে আনা।

স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সোয়িনি স্বাধীনতার প্রশ্নকে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রাখার উদ্যোগ নেওয়ায় বিষয়টি এখন স্কটিশ রাজনীতির পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর সাংবিধানিক বিতর্কেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য হেরাল্ড

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

নাগরিকত্বের পথে নতুন শর্ত আনছে আয়ারল্যান্ডঃ ভাষা ও সিভিক্স পরীক্ষার প্রস্তাব

আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর হলে দেশটিতে ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন করতে প্রয়োজনীয় বসবাসের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা হতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন এখনো চূড়ান্ত আইন হয়নি এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তা কার্যকর হবে।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভাষাজ্ঞান যাচাই। নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ইংরেজি, আইরিশ অথবা আইরিশ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজের দক্ষতা প্রমাণের জন্য একটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হতে পারে। পরীক্ষায় কোন স্তরের ভাষাজ্ঞান প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কাঠামো পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারণ করা হতে পারে।

নাগরিকত্বের জন্য একটি সিভিক্স পরীক্ষার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সমাজ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে আবেদনকারীর জ্ঞান যাচাই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আবেদনকারীর আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধি মেনে চলার বিষয়টি নাগরিকত্বের যোগ্যতা নির্ধারণে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান নাগরিকত্ব ব্যবস্থায় এসব পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এনেছেন। প্রস্তাবগুলো আইরিশ ন্যাশনালিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬-এর মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমান সাধারণ ন্যাচারালাইজেশন ব্যবস্থায় সাধারণত গত নয় বছরের মধ্যে পাঁচ বছর ‘রেকনেবল রেসিডেন্স’ বা গণনাযোগ্য বৈধ বসবাসের প্রমাণ প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে আবেদনের ঠিক আগের এক বছর ধারাবাহিকভাবে আয়ারল্যান্ডে বসবাসের শর্ত রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে।

আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বসবাসের সময় নিয়ে ইতোমধ্যে পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে পাঁচ বছর গণনাযোগ্য বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে।

আইরিশ নাগরিকের বিদেশি স্বামী, স্ত্রী বা সিভিল পার্টনারদের জন্যও নাগরিকত্বের নিয়মে পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাতেও ভবিষ্যতে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে বংশসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি ন্যাচারালাইজেশনের নিয়ম থেকে আলাদা। আইরিশ বাবা-মা বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানির মাধ্যমে নাগরিকত্বের যোগ্যতা অর্জনের নিয়ম এই প্রস্তাবের সঙ্গে সরাসরি এক নয়।

আইরিশ সরকারের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে ভাষা পরীক্ষা, সিভিক্স পরীক্ষা, দীর্ঘতর বসবাসের সময় এবং আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উঠে এসেছে। তবে কোন শর্ত কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা আইন প্রণয়নের পরই চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হবে।

আরটিই নিউজ, আইরিশ টাইমস, আইরিশ এক্সামিনার এবং আইরিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো এখনো আইন হিসেবে চূড়ান্ত হয়নি। তাই বর্তমানে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ম এবং ভবিষ্যতের প্রস্তাবিত নিয়মকে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

সূত্রঃ আরটিই নিউজ, দ্য আইরিশ টাইমস, আইরিশ এক্সামিনার, আইরিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিস এবং ফ্র্যাগোমেন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ধর্ম যার যার, সাংবিধানিক দায়িত্ব সবার—ব্রিটেনে পুরোনো বিধিনিষেধ তুলে নিতে বার্নহ্যামের বিল

ব্রিটেনে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে থাকা ঐতিহাসিক বিধিনিষেধ দূর করতে পার্লামেন্টে নতুন বিল উত্থাপন করেছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে চার্চ অ্যাপয়েন্টমেন্টস (রিপিল অব ডিসক্রিমিনেটরি প্রভিশন) বিল পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়।

প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে এমন পুরোনো বিধান বাতিল করা হবে, যার কারণে কোনো রোমান ক্যাথলিক বা ইহুদি প্রধানমন্ত্রী চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে রাজাকে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ দেওয়ার সাংবিধানিক দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারেন না। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইন কার্যকর হলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব প্রধানমন্ত্রী তাদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস নির্বিশেষে প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

ব্রিটেনের সাংবিধানিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী রাজা বা রানির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চার্চ অব ইংল্যান্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ দেওয়ার ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহাল থাকা কিছু আইনি বিধানের কারণে রোমান ক্যাথলিক ও ইহুদি ধর্মাবলম্বী প্রধানমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধতা ছিল।

এই বিধিনিষেধের ঐতিহাসিক সূত্র রয়েছে ১৮২৯ সালের রোমান ক্যাথলিক রিলিফ অ্যাক্ট এবং ১৮৫৮ সালের জিউজ রিলিফ অ্যাক্ট-এর সময়কার আইনি ব্যবস্থায়। ওই সময় ক্যাথলিক ও ইহুদিদের সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বহু পুরোনো বাধা তুলে দেওয়া হলেও চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগের বিষয়ে রাজা বা কিং’কে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিধান বহাল রাখা হয়েছিল। নতুন বিলের মাধ্যমে সেই অবশিষ্ট বিধানও বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতদিন এই বিধিনিষেধের বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়নি, কারণ এর আগে কোনো রোমান ক্যাথলিক বা ইহুদি প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেননি। তবে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিষয়টি সরাসরি সাংবিধানিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী যেন তার সাংবিধানিক দায়িত্বের কোনো অংশ থেকে বাদ না পড়েন, সেটিই নতুন বিলের মূল উদ্দেশ্য।

সরকার বলেছে, বিলটি সংক্ষিপ্ত ও নির্দিষ্ট পরিসরের। এর মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং ভবিষ্যতে দায়িত্ব নেওয়া যেকোনো রোমান ক্যাথলিক বা ইহুদি প্রধানমন্ত্রী চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগের বিষয়ে রাজাকে পরামর্শ দেওয়ার পূর্ণ অধিকার পাবেন।

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের ফলে প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় আর বাধা হিসেবে থাকবে না। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইনটি আধুনিকায়নের মাধ্যমে সব প্রধানমন্ত্রীর জন্য একই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত চার্চ অব ইংল্যান্ডের নিয়োগসংক্রান্ত দায়িত্ব লর্ড চ্যান্সেলর-এর কাছে হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এর ফলে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মধ্যবর্তী সময়েও চার্চের নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

ব্রিটেনের রিলিজিয়ন মিডিয়া সেন্টার জানিয়েছে, বিলটি আনার আগে বার্নহ্যাম বলেছিলেন, ১৮২৯ সালের আইন থেকে তৈরি এই বিধিনিষেধের কারণে একজন প্রধানমন্ত্রী তার দায়িত্বের সব অংশ পালন করতে না পারা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি এটিকে ‘পুরোনো’ ও ‘সেকেলে’ বিধান হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ২০ জুলাই ২০২৬ ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী, ফার্স্ট লর্ড অব দ্য ট্রেজারি, সিভিল সার্ভিস মন্ত্রী এবং মিনিস্টার ফর দ্য ইউনিয়ন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন বিলটি মূলত ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় বিধিনিষেধের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরিবর্তনের উদ্যোগ। এর লক্ষ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ধর্মীয় পরিচয় যাই হোক না কেন, তিনি যেন প্রধানমন্ত্রীর সব সাংবিধানিক দায়িত্ব সমানভাবে পালন করতে পারেন—এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা।

সূত্রঃ রিলিজিয়ন মিডিয়া সেন্টার, দ্য হেরাল্ড স্কটল্যান্ড এবং দ্য ট্যাবলেট

এম.কে