Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

‘ভদ্রভাবে কথা বলুন’ বলায় চাকরি গেল ওয়েটারেরঃ ব্রিটেনে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মিলল ক্ষতিপূরণ

স্কটল্যান্ডের ডানব্লেনের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁয় ম্যানেজারকে ভদ্রভাবে কথা বলার অনুরোধ করার পর চাকরি হারানো এক ওয়েটারকে মোট ৭ হাজার ১৮৫ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এমপ্লয়মেন্ট ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল রায়ে ঘটনাটিকে অন্যায্য বরখাস্ত হিসেবে বিবেচনা করেছে।

মামলার বাদী আসিফ আব্বাস ডানব্লেনের ইন্ডিয়া গেট তান্দুরি রেস্তোরাঁয়, ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে সেখানে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট একটি কাজকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে ম্যানেজার রাজিন্দর সিংয়ের বিরোধের সূত্রপাত হয়।

ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে আব্বাস একটি টেবিল থেকে ব্যবহৃত প্লেট ও কাটলারি নিয়ে রান্নাঘরের দিকে যাচ্ছিলেন। রেস্তোরাঁর স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবেই ওয়েটাররা ব্যবহৃত প্লেট ও কাটলারি রান্নাঘরের ধোয়ার জায়গার কাছে নিয়ে যেতেন। কিন্তু ম্যানেজার সিং তাকে এ নিয়ে চিৎকার করে বলেন, ছুরি ও চামচ সেখানে রেখে দিতে তিনি আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এর জবাবে আব্বাস জানান, ম্যানেজার চাইলে তিনি সেভাবেই কাজ করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তাকে একটু ‘ভদ্রভাবে’ জানানো যেতে পারে। এরপর ম্যানেজার তাকে বলেন, “তোমাকে চলে যেতে হবে।”

প্রথমে আব্বাস বিষয়টিকে সাধারণ কর্মক্ষেত্রের একটি তর্ক হিসেবে মনে করেছিলেন। তাই ওই ঘটনার পরও তিনি কাজ চালিয়ে যান। প্রায় রাত ৯টার দিকে ম্যানেজার তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি এখনো সেখানে কেন আছেন। এরপর আবার তাকে বলা হয়, কাজ শেষ করে চলে যেতে হবে এবং তাকে আর প্রয়োজন নেই।

আব্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ওই ঘটনায় অপমানিত বোধ করেন। পরে তিনি স্টার্লিংয়ের সিটিজেন্স অ্যাডভাইস ব্যুরোতে পরামর্শ নেন এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানান যে তাকে কোনো কারণ না দেখিয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি লিখিত চাকরির চুক্তি, বরখাস্তের কারণ, নোটিশ পে ও অন্যান্য কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্যও দাবি করেন।

অন্যদিকে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ দাবি করে, আব্বাসকে বরখাস্ত করা হয়নি; বরং ম্যানেজারের সঙ্গে বিরোধের পর তিনি নিজেই কর্মস্থল ছেড়ে আর কাজে ফেরেননি। ট্রাইব্যুনাল অবশ্য এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি।

এমপ্লয়মেন্ট জাজ রবার্ট ফিলিপসের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ম্যানেজারের পরবর্তী বক্তব্য—‘তোমাকে চলে যেতে হবে’, ‘কাজ শেষ করো’, ‘আমাদের তোমাকে আর প্রয়োজন নেই’—এসব কথা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট ছিল। একজন যুক্তিসঙ্গত পর্যবেক্ষকও এটিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করতেন।

ট্রাইব্যুনাল আরও জানায়, নিয়োগকর্তা আব্বাসকে বরখাস্ত করার কোনো ন্যায্য কারণ উপস্থাপন করতে পারেনি এবং কোনো ন্যায্য বরখাস্ত প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি। ফলে আইনগতভাবে এটি অন্যায্য বরখাস্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

শুধু অন্যায্য বরখাস্তের বিষয়ই নয়, আব্বাসের চাকরির অন্যান্য শর্ত নিয়েও ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তিনি প্রায় তিন বছর কাজ করলেও তাকে যথাযথ লিখিত চাকরির চুক্তি দেওয়া হয়নি এবং তার অর্জিত কিন্তু নেওয়া হয়নি এমন ছুটির অর্থও পুরোপুরি দেওয়া হয়নি।

রায়ের হিসাব অনুযায়ী, আব্বাসকে মোট ৭,১৮৫.৪৬ পাউন্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ৭৩২.৬০ পাউন্ড বেসিক অ্যাওয়ার্ড, ২,২৬৯ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ, ২,৭১৮.৬৬ পাউন্ড জমে থাকা ছুটির অর্থ, ৪৮৮.৪০ পাউন্ড দুই সপ্তাহের নোটিশ পে এবং লিখিত চাকরির শর্ত না দেওয়ার জন্য ৯৭৬.৮০ পাউন্ড।

তবে আব্বাসের সব দাবি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেনি। পেনশন না দেওয়া এবং জাতীয় ন্যূনতম মজুরি না পাওয়ার অভিযোগে তিনি সফল হননি।

স্কটল্যান্ডের এই মামলাটি ২০২৬ সালের এপ্রিলে শুনানি হয়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। স্থানীয় স্কটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য কুরিয়ারও মামলাটি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য কুরিয়ার

এম.কে

Categories
আমেরিকা যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন চাপের আবহঃ প্রথমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় দুই নেতার এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের খবর প্রথমে দ্য টাইমস প্রকাশ করে; রয়টার্সও বিষয়টি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষে ওই সময় পর্যন্ত বৈঠকের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

দুই নেতার মধ্যে এর আগে টেলিফোনে যোগাযোগ হয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বরের সরকারি ব্রিটিশ বিবরণ অনুযায়ী, বার্নহ্যাম ও ট্রাম্প ইউক্রেনের যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আগামী বৈঠকে ইউক্রেন পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সুযোগসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে। ইউক্রেনের জন্য সামরিক সহায়তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের আলোচনাও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রাক্কালে গুরুত্ব পেয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যও সম্ভাব্য আলোচনার অন্যতম বিষয়। ৭ সেপ্টেম্বরের ফোনালাপে বার্নহ্যাম মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্রিটেনের অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

জ্বালানি পরিস্থিতিও দুই নেতার আলোচনায় থাকতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপ অব্যাহত রয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে ট্রাম্পের উদ্যোগের পরও উভয় পক্ষের হামলা অব্যাহত ছিল এবং জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

দুই দেশের সম্পর্কের আরও কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। দ্য টাইমস জানিয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা, ভেনেজুয়েলা, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক অবস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এগুলো বৈঠকের নিশ্চিত আলোচ্যসূচি হিসেবে দুই সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।

আয়ারল্যান্ড ইস্যুতে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যও সামনে এসেছে। ট্রাম্প আয়ারল্যান্ডের ঐক্যের পক্ষে মন্তব্য করার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বার্নহ্যামের কার্যালয় বলেছে, সীমান্ত গণভোটের বিষয়টি নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট আইন ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে।

ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরের বসতি নিয়েও ব্রিটেনের অবস্থান সম্প্রতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বার্নহ্যাম সরকার পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতি থেকে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের পর ইসরায়েল ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ এবং কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিকের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সও ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। ৩ সেপ্টেম্বর বার্নহ্যাম ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বৈঠকে ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের স্থানীয় উৎপাদন, মধ্যপ্রাচ্য এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

নিউইয়র্কে বার্নহ্যাম-ট্রাম্প বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে এটি হবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময়, পূর্ণাঙ্গ আলোচ্যসূচি এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্রঃ রয়টার্স, দ্য টাইমস, ডেইলি মিরর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে যেতে নতুন সুযোগঃ বছরে ৫২,৫০০ পাউন্ড বেতন হলে মিলবে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা

ব্রিটেনে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত ইউকে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় বছরে ন্যূনতম ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ড বেতনের শর্ত রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পেশার নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’ বা প্রচলিত বেতন যদি ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের বেশি হয়, তাহলে আবেদনকারীকে সেই বেশি অঙ্কের বেতন পেতে হবে। যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান ইমিগ্রেশন রুলসে এই শর্ত নির্ধারিত রয়েছে।

এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসা গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি রুটের অন্তর্ভুক্ত। এই ভিসার মাধ্যমে এমন বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের নির্দিষ্ট কর্মীকে যুক্তরাজ্যে পাঠাতে পারে, যারা ব্রিটেনে ওই প্রতিষ্ঠানের নতুন শাখা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে থাকবেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, এই রুট তখনই ব্যবহার করা যায় যখন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা যুক্তরাজ্যে এখনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেনি।

আবেদনকারীর বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় বিবেচনা করা হয়—সাধারণ বেতনসীমা এবং সংশ্লিষ্ট পেশার ‘গোয়িং রেট’। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এক্সপ্যানশন ওয়ার্কারকে বছরে অন্তত ৫২,৫০০ পাউন্ড অথবা তার পেশার জন্য নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’—এই দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেটি পেতে হবে।

‘গোয়িং রেট’ নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট পেশার এসওসি ২০২০ অকুপেশন কোডের ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট পেশায় কাজের সময় সপ্তাহে ৩৭ দশমিক ৫ ঘণ্টার চেয়ে কম বা বেশি হলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী ‘গোয়িং রেট’ আনুপাতিকভাবে হিসাব করা হতে পারে।

বেতন গণনার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। কেউ সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বেতনসীমা পূরণের হিসাবের ক্ষেত্রে প্রথম ৪৮ ঘণ্টার বেতনই বিবেচনা করা হয়। ফলে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার বেতন দেখিয়ে ন্যূনতম বেতনসীমা পূরণ করার সুযোগ সীমিত।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কারসহ গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি রুটের কিছু বেতনসীমা বাড়ানো হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, এক্সপ্যানশন ওয়ার্কারদের সাধারণ বেতনসীমা আগে ৪৮ হাজার ৫০০ পাউন্ড ছিল; বর্তমানে তা ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ড।

এই ভিসার ক্ষেত্রে শুধু বেতনসীমা পূরণ করলেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না। আবেদনকারীকে ভিসা রুটের অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত স্পনসরশিপ ও ব্যবসায়িক শর্ত পূরণ করতে হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ব্যবসা ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে থাকলে এই রুট ব্যবহার করা যায় না।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কোম্পানির যুক্তরাজ্যে সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত সিনিয়র ম্যানেজার ও বিশেষজ্ঞ কর্মীদের জন্য এই ভিসা রুট চালু রয়েছে। একই গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি কাঠামোর অধীনে সিনিয়র বা স্পেশালিস্ট কর্মীদের ক্ষেত্রেও ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ড সাধারণ বেতনসীমা প্রযোজ্য।

ব্রিটিশ সরকারের ২০২৬ সালের গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি নির্দেশনাতেও এক্সপ্যানশন ওয়ার্কারদের জন্য ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সাধারণ বেতনসীমা এবং সংশ্লিষ্ট পেশার ‘গোয়িং রেট’—দুটিই পূরণ করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

ফলে ব্রিটেনে নতুন ব্যবসা বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের শাখা চালুর উদ্দেশ্যে এক্সপ্যানশন ওয়ার্কার ভিসায় আবেদন করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে মূল বেতনসীমা ৫২ হাজার ৫০০ পাউন্ড বছরে। তবে পেশাভেদে নির্ধারিত ‘গোয়িং রেট’ এর চেয়ে বেশি হলে সেই উচ্চতর বেতনসীমাই প্রযোজ্য হবে।

সূত্রঃ যুক্তরাজ্য সরকারের ইমিগ্রেশন রুলস, হোম অফিসের গ্লোবাল বিজনেস মোবিলিটি নির্দেশনা এবং প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট তথ্য

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাঃ রাশিয়ায় শিশুদের গ্যাস মাস্ক কেনার অনুমতি

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাশিয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাস মাস্ক কেনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে সার্টিফায়েড বেসামরিক গ্যাস মাস্ক, শিশুদের জন্য তৈরি মডেল এবং শিশুদের সুরক্ষা চেম্বার খুচরা বাজারে অবাধে বিক্রি করা যাবে।

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বা এমারকম জানিয়েছে, বেসামরিক জনগণের জন্য ব্যক্তিগত শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জাম এখন থেকে নির্ধারিত মান পূরণ করে সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে বাজারজাত করা যাবে।

রুশ সংবাদমাধ্যম মেডুজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সাল থেকে গ্যাস মাস্ক রাশিয়ার এমন পণ্যের তালিকায় ছিল, যেগুলোর অবাধ বিক্রি নিয়ন্ত্রিত ছিল। তবে ২০২৬ সালের আগস্টের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জারি করা ডিক্রির মাধ্যমে গ্যাস মাস্ককে ওই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ডিক্রিটি ২০২৭ সালের মার্চে কার্যকর হবে।

রুশ জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থার আওতায় প্রত্যেক নাগরিক নিজের নিরাপত্তার জন্য সার্টিফায়েড বেসামরিক ফিল্টারিং গ্যাস মাস্ক কিনতে পারবেন। শিশুদের জন্য তৈরি গ্যাস মাস্ক এবং শিশুদের সুরক্ষা চেম্বারও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মন্ত্রণালয় বলছে, এতদিন ব্যক্তিগত শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জামের জন্য পর্যাপ্ত অনুমোদিত মানদণ্ড ছিল না। ফলে বাজারে নিম্নমানের ও নকল পণ্য পাওয়া যেত এবং এর কিছু বিদেশ থেকেও আসত। নতুন ব্যবস্থায় পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

রাশিয়ার সরকারি ব্যাখ্যায় এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে বেসামরিক সুরক্ষা সরঞ্জামের মান নির্ধারণ, পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে রুশ সরকার জনগণের সিভিল ডিফেন্স বা বেসামরিক প্রতিরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের নকশা, উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য যাচাইয়ের নতুন নিয়মও অনুমোদন করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ার সরকারি ব্যাখ্যায় রাসায়নিক, তেজস্ক্রিয় বা অন্যান্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণের সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। রুশ জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাগরিক সুরক্ষা নির্দেশনায় রাসায়নিক বিপদের সংকেতের ক্ষেত্রে গ্যাস মাস্ক ব্যবহারের পদ্ধতিও উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালের মে মাসে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রী আলেকজান্ডার কুরেনকভ জানিয়েছিলেন, দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে জনগণকে সরিয়ে নেওয়া বা এভাকুয়েশনকে স্বতন্ত্র দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ এবং বেসামরিক প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার বিষয়ে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ও রয়েছে।

তবে গ্যাস মাস্কের অবাধ বিক্রির ক্ষেত্রে রুশ সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু হলো সার্টিফায়েড ও মানসম্মত সুরক্ষা সরঞ্জাম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নিম্নমানের বা নকল পণ্য ঠেকানো।

ফলে ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকরা দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো বিশেষ বিক্রয়-নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই অনুমোদিত বেসামরিক গ্যাস মাস্ক কিনতে পারবেন। শিশুদের সুরক্ষা সরঞ্জামও থাকবে এই ব্যবস্থার আওতায়।

সূত্রঃ মেডুজা\ মিরর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেন থেকে ইইউ নাগরিকদের বহিষ্কার নিয়ে নতুন মোড়ঃ সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি

ব্রিটেনে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে অপরাধে জড়িত ইইউ নাগরিকদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ‘অনুপাতিকতা’ বা প্রোপোরশনালিটি বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক কি না—এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্ট। মামলাটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পরও কিছু ইইউ নাগরিকের জন্য বহাল থাকা অধিকার ও সুরক্ষার ব্যাখ্যার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

মামলাটির নাম ভার্গোভা বনাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী— Vargova v Secretary of State for the Home Department—এবং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মলনার বনাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী—Molnar v Secretary of State for the Home Department। ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, দুই মামলাতেই আপিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি ২০২৭।

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ব্রেক্সিটের পর অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর ২০২০-এর পর সংঘটিত অপরাধের ভিত্তিতে কোনো ইইউ নাগরিককে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে সেই বহিষ্কার ‘অনুপাতিক’ কি না, তা বিবেচনা করতে হবে কি না।

মামলার দুই আপিলকারী কাতারিনা ভার্গোভা এবং মলনার—দুজনই ইইউ নাগরিক এবং দুজনেরই ব্রিটেনে আইএলআর (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) রয়েছে। দুজনের অপরাধই ৩১ ডিসেম্বর ২০২০-এর পর সংঘটিত হয় এবং দুজনই ১২ মাসের বেশি কারাদণ্ড পান।

কাতারিনা ভার্গোভা—স্লোভাকিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৭ সালে ২১ বছর বয়সে ব্রিটেনে আসেন। ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি তাকে আইএলআর দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ব্রিটেনে বসবাস করছিলেন। ২০২২ সালে তিনি কোকেন ও হেরোইন সরবরাহের উদ্দেশ্যে রাখার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।

অন্য আপিলকারী মলনার—২০০২ সালে চেক প্রজাতন্ত্রে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১২ সালে মাত্র ১০ বছর বয়সে মায়ের সঙ্গে ব্রিটেনে আসেন। ২০১৯ সালের ১৫ অক্টোবর তাকে আইএলআর দেওয়া হয়। ২০২২ সালে তিনি সরবরাহের উদ্দেশ্যে কোকেন রাখা, অপরাধলব্ধ সম্পত্তি এবং একটি ‘নাকলডাস্টার’ রাখার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।

দুই মামলাতেই ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী তাদের বহিষ্কারের পৃথক সিদ্ধান্ত নেন। তারা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন। ট্রাইব্যুনাল তাদের আপিল মঞ্জুর করে এবং বলে, বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তাদের বহিষ্কার অনুপাতিক কি না, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বিবেচনা করেননি।

পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আপার ট্রাইব্যুনালে আপিল করেন। আপার ট্রাইব্যুনাল সেই আপিল গ্রহণ করে এবং জানায়, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আলাদা কোনো অনুপাতিকতার পরীক্ষা প্রযোজ্য নয়। এরপর ভার্গোভা ও মলনার কোর্ট অব আপিলে যান। কোর্ট অব আপিলও তাদের আপিল খারিজ করে। এরপর তারা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার অনুমতি চান এবং ২৯ জুন ২০২৬ তাদের সেই অনুমতি দেওয়া হয়।

এই মামলায় ব্রেক্সিট-পরবর্তী উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট বা ব্রিটেন-ইইউ বিচ্ছেদ চুক্তির অধীনে থাকা অধিকারগুলোর ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মূল প্রশ্নগুলোর একটি হলো, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে সংঘটিত অপরাধের কারণে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে জাতীয় ব্রিটিশ আইনই কি একমাত্র আইনি কাঠামো হিসেবে প্রযোজ্য হবে, নাকি উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্টের অধীনে থাকা কিছু ইউরোপীয় আইনি সুরক্ষাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

এর আগে নিম্ন আদালতগুলোতে এ নিয়ে ভিন্ন অবস্থান উঠে আসে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক অধিকার সংক্রান্ত নির্দেশিকার কিছু সুরক্ষা উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্টের মাধ্যমে কার্যকর থাকার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

মামলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ইইউ সেটেলমেন্ট স্কিমের অধীনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার। ইমিগ্রেশন (সিটিজেনস’ রাইটস আপিলস) (ইইউ এক্সিট) রেগুলেশনস ২০২০-এর রেগুলেশন ৬-এর অধীনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপিলের সুযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৫ জুন রেগুলেশন ৬-এ নতুন ৬(১এ) ধারা যুক্ত করা হয়, যেখানে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের সংজ্ঞা আরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

আইনি বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় ‘স্টেজ ওয়ান’ এবং ‘স্টেজ টু’ সিদ্ধান্তের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কোনো ইইউ নাগরিককে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর পরবর্তী পর্যায়ে মানবাধিকার দাবি প্রত্যাখ্যানসহ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রেগুলেশন ৬-এর আপিলের অধিকার রয়েছে কি না, তা সঠিকভাবে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তার কথা মামলার আলোচনায় উঠে এসেছে।

এ ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনের সঠিক তারিখও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কারও বিরুদ্ধে পরে সাজা দেওয়া হলেও যদি সংশ্লিষ্ট অপরাধটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২০-এর আগে সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তার ক্ষেত্রে ব্রেক্সিট-পরবর্তী অপরাধের নিয়ম সরাসরি প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তাই মামলায় অপরাধের মূল তারিখ যাচাই করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের সামনে এখন মূল আইনি প্রশ্ন হলো—ব্রেক্সিটের পর সংঘটিত অপরাধের ভিত্তিতে কোনো ইইউ নাগরিককে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অনুপাতিকতার প্রশ্ন বিবেচনা করা আবশ্যক কি না।

সুপ্রিম কোর্টের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি ২০২৭। এই শুনানিতে আদালত কেবল ভার্গোভা ও মলনার ব্যক্তিগত মামলার বিষয়ই নয়, বরং ব্রেক্সিট-পরবর্তী ইইউ নাগরিকদের অধিকার, উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বহিষ্কার আইনের মধ্যে সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে পারে।

তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে ইইউ নাগরিকদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে অনুপাতিকতার পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হবে কি না, কিংবা এই মামলার রায় ভবিষ্যতের অনুরূপ মামলায় কী প্রভাব ফেলবে—তা ২০২৭ সালের শুনানি ও পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসার পুরোনো গ্যাপও হতে পারে বিপদের কারণ

যুক্তরাজ্যে পোস্টগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার জন্য সরকারি স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স বা শিক্ষাঋণের যোগ্যতা নির্ধারণে একজন আবেদনকারীর অতীতের ইমিগ্রেশন ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আবাসিক শর্তের ভিত্তিতে স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে অতীতে আইনসম্মত বসবাসের ধারাবাহিকতায় কোনো বিরতি থাকলে সেটি পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হতে পারে বলে একটি হাইকোর্টের মামলায় উঠে এসেছে।

তবে এই বিষয়টি যুক্তরাজ্যে থাকা সব স্টুডেন্ট ভিসাধারীর জন্য প্রযোজ্য নয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা সাধারণত স্টুডেন্ট ভিসায় নিজস্ব অর্থায়নে পড়াশোনা করেন এবং এই রায়কে তাদের সবার স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স বন্ধ হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলাটি মূলত এমন একজন আবেদনকারীকে নিয়ে, যিনি নির্দিষ্ট আবাসিক যোগ্যতার ভিত্তিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

R (on the application of Glory Osarenren Otabor) v Student Loans Company [2026] EWHC 2168 (Admin) মামলায় হাইকোর্ট একজন শিক্ষার্থীর করা বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন খারিজ করেছে। ওই শিক্ষার্থী তার আইনসম্মত বসবাসের ইতিহাসে একটি বিরতির কারণে পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।

মামলায় আদালত নিশ্চিত করেছে, কোনো ব্যক্তির ফি মওকুফের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর শুধু নতুন করে আরেকটি ফি মওকুফের আবেদন করলেই আইনসম্মত বসবাসের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে না। ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি বৈধ ইমিগ্রেশন আবেদন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে হলে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ফাইন্যান্সের আবাসিক শর্তগুলো দেখা প্রয়োজন। বিভিন্ন ধরনের শিক্ষার্থী অর্থায়নের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট সময় ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়।

Education (Postgraduate Master’s Degree Loans) Regulations 2016-এর Schedule 1-এর Paragraph 13 অনুযায়ী, ‘long residence route’-এর আওতায় কোনো ব্যক্তিকে নির্ধারিত তিন বছরের যোগ্যতামূলক সময়জুড়ে যুক্তরাজ্যে সাধারণভাবে বসবাস করতে হয়।

একই বিধিমালার Schedule 1-এর Paragraph 1(3) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে সাধারণভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী হিসেবে গণ্য করা যাবে না, যদি তিনি সেখানে আইনসম্মতভাবে বসবাস না করেন।

এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আবাসিক শর্তের ভিত্তিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্সের জন্য আবেদন করতে চাইলে তার আগের বসবাসের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যোগ্যতার জন্য নির্ধারিত সময়ে আইনসম্মত বসবাসের ধারাবাহিকতায় কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আবেদনকে প্রভাবিত করতে পারে।

মামলার মূল বিষয় ছিল একটি ফি মওকুফের আবেদন এবং পরবর্তী ইমিগ্রেশন অবস্থানের মধ্যকার সম্পর্ক। আদালতের সামনে প্রশ্ন ছিল, ফি মওকুফের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর আরেকটি ফি মওকুফের আবেদন করা হলে সেটি কি আইনসম্মত বসবাসের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কেবল আরেকটি ফি মওকুফের আবেদন সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট নয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে অতীতে ইমিগ্রেশন আবেদনের ক্ষেত্রে ফি মওকুফ, আবেদন প্রত্যাখ্যান এবং পরবর্তী বৈধ আবেদনের সময়ের মতো বিষয়গুলো ভবিষ্যতে স্টুডেন্ট ফাইন্যান্সের যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, যুক্তরাজ্যে থাকা কোনো আন্তর্জাতিক বা স্টুডেন্ট ভিসাধারী শিক্ষার্থীর অতীতে ভিসা-সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন থাকলেই তার ভবিষ্যৎ স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স বাতিল হয়ে যাবে। প্রথমে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোন স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স রুটে আবেদন করছেন এবং সেই রুটের আবাসিক যোগ্যতা তিনি পূরণ করছেন কি না।

বিশেষ করে যারা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন বসবাসের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট লোন বা অন্য কোনো সরকারি শিক্ষার্থী অর্থায়নের জন্য যোগ্য হতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে আইনসম্মত বসবাসের ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

মামলাটি আরও একটি বিষয় সামনে এনেছে। কোনো ব্যক্তির অতীতের ইমিগ্রেশন সমস্যার পর পরিস্থিতি নিয়মিত হয়ে গেলেও সেই পুরোনো ঘটনা সব ধরনের ভবিষ্যৎ আবেদনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায় না। কোনো নির্দিষ্ট সুবিধা পাওয়ার জন্য যদি অতীতের নির্দিষ্ট সময়ের আইনসম্মত বসবাসের প্রমাণ প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই সময়ের ইমিগ্রেশন ইতিহাস যাচাই করা হতে পারে।

ফলে যুক্তরাজ্যে থাকা অভিবাসী, সাবেক ইমিগ্রেশন আবেদনকারী এবং ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট আবাসিক শর্তের ভিত্তিতে স্টুডেন্ট ফাইন্যান্সের জন্য আবেদন করতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে ফলাফল তার ব্যক্তিগত ইমিগ্রেশন ইতিহাস ও যে অর্থায়নের জন্য আবেদন করা হচ্ছে, তার নির্দিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করবে।

Free Movement-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মামলার গুরুত্ব শুধু পোস্টগ্র্যাজুয়েট লোনের আবেদনেই সীমাবদ্ধ নয়। ইমিগ্রেশন ইতিহাসে থাকা এমন কোনো পুরোনো বিরতি, যা বর্তমানে একজন ব্যক্তির ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসে কোনো সমস্যা তৈরি করছে না, ভবিষ্যতে অন্য কোনো সুবিধার আবেদন করার সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে যুক্তরাজ্যে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সময় কোনো আবেদন কখন করা হয়েছে, আবেদনটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল কি না এবং পরবর্তী বৈধ আবেদন কখন করা হয়েছিল—এসব তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আবাসিক যোগ্যতার ওপর নির্ভরশীল কোনো সুবিধার আবেদন করার ক্ষেত্রে।

হাইকোর্টের এই রায় তাই যুক্তরাজ্যে পোস্টগ্র্যাজুয়েট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্সের জন্য আবেদন করতে পারেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইনসম্মত বসবাসের ধারাবাহিকতার গুরুত্ব সামনে এনেছে। একই সঙ্গে এটি দেখিয়েছে, অতীতের ইমিগ্রেশন ইতিহাসের কোনো বিষয় বর্তমান স্ট্যাটাসে সমস্যা না করলেও নির্দিষ্ট সরকারি সুবিধার যোগ্যতা নির্ধারণের সময় সেটি আলাদাভাবে বিবেচিত হতে পারে।

সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট

এম.কে

Categories
আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলের ‘নৃশংসতা’ ঠেকাতে মালয়েশিয়ার কঠোর পদক্ষেপঃ ইসরায়েলগামী পণ্য জব্দ

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ দেশের অন্যতম বৃহত্তম বন্দর তানজুং পেলেপাসে ইসরায়েলগামী একাধিক কন্টেইনার আটক করেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুসারে, এটি দেশের মধ্য দিয়ে যাওয়া ট্রানজিট পণ্যের ওপর নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে কঠোর করার ইঙ্গিত।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তার এক্স অ্যাকাউন্টে প্রতিবেদনটি শেয়ার করে স্পষ্ট করেছেন যে মালয়েশিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন চালান পরিদর্শন অব্যাহত রাখবে। তিনি লিখেছেন, “মালয়েশিয়ার অবস্থান পরিষ্কার ও দ্ব্যর্থহীন। আমরা আমাদের দেশকে এমন কোনো চালান স্থানান্তরের পথ হিসেবে ব্যবহার করতে দেব না যা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা এবং ফিলিস্তিনিসহ অন্যান্য নির্দোষ মানুষের বিরুদ্ধে তাদের নৃশংসতায় সহায়তা করে বা অবদান রাখে। যেকোনো সন্দেহজনক চালান মালয়েশিয়ার আইন অনুসারে পরিদর্শন ও তদন্তের অধীন হবে। যদি লঙ্ঘন ঘটেছে বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রতিবেদন অনুসারে, মধ্য আগস্টে আশদোদ বন্দরগামী তিনটি কন্টেইনার আটক করা হয়। এগুলোতে চীনা কোম্পানি চোংকিং মোবিম্যাক্স টেকনোলজির পাঠানো বৈদ্যুতিক সাইকেলের যন্ত্রাংশ ছিল। শিপিং কোম্পানি ম্যার্স্কের তথ্য অনুসারে, ১৯ আগস্ট আটকের পর প্রায় এক মাস ধরে চালানগুলো বন্দরেই পড়ে আছে এবং এখনও মুক্তি দেওয়া হয়নি।

এর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে, ৭ আগস্ট আরও একটি কন্টেইনার থামানো হয়। এটি ফিলিপাইন থেকে এসেছিল এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসের জন্য নির্ধারিত ছিল। মালয়েশিয়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সন্দেহ করে যে এতে অস্ত্র রয়েছে। হাপাগ-লয়েডের তথ্য অনুসারে, এই কন্টেইনারও এখনও তানজুং পেলেপাসে আটক অবস্থায় রয়েছে।

মালয়েশিয়ার ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। দেশের শুল্ক আইন ইসরায়েল থেকে আমদানি বা ইসরায়েলে রপ্তানি নিষিদ্ধ করে। তবে আগে ট্রানজিট পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিল। সাম্প্রতিক আটকগুলো আইনের কঠোর ব্যাখ্যা এবং ট্রানজিট কার্গোর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মালয়েশিয়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং এই পর্যায়ে অতিরিক্ত বিবরণ দেওয়া সম্ভব নয়। রয়্যাল মালয়েশিয়ান কাস্টমস ডিপার্টমেন্ট মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। জোহর পোর্ট অথরিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। এলবিট সিস্টেমস, ম্যার্স্ক ও হাপাগ-লয়েডও কোনো মন্তব্য করেনি।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মালয়েশিয়ার ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। সেই বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী ইব্রাহিম ইসরায়েলি শিপিং কোম্পানি জিমকে মালয়েশিয়ার বন্দর ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। গত জুলাইয়ে জোহরে একটি প্রযুক্তি উদ্যোক্তা একাডেমিও বন্ধ করা হয়, কারণ অভিযোগ উঠেছিল যে ইসরায়েলি ছাত্ররা অভিবাসন নিয়ম লঙ্ঘন করে সেখানে পড়াশোনা করেছিল। ইসরায়েলি পাসপোর্টধারীরা বিশেষ অনুমতি ছাড়া মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারে না।

তানজুং পেলেপাস বন্দর মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত এবং এটি মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বন্দর তথা দেশের বৃহত্তম ট্রানজিট কার্গো হাব। এখানে পরিচালিত মোট পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ ট্রানজিট কার্গো।

সূত্রঃ জেরুজালেম পোস্ট

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় ভরসা অভিবাসীরাঃ ILR নিয়ম বদলালে হাজারো কর্মী হারানোর শঙ্কা

ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় অভিবাসী নার্স ও কেয়ার কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে—এমন অবস্থানের মধ্যেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তন কার্যকর হলে বিদেশ থেকে আসা কেয়ার কর্মীদের বর্তমান পাঁচ বছরের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানিয়েছে রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং (RCN)।

বিষয়টি নিয়ে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ চলতি বছরের শেষ দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা কিছু অভিবাসী কর্মীও পড়তে পারেন। ফলে যারা ইতোমধ্যে কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য ও কেয়ার খাতে কাজ করছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের পথও দীর্ঘ হতে পারে।

RCN-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিকোলা রেঞ্জার বলেছেন, অভিবাসী নার্সিং কর্মীরা ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ও কেয়ার ব্যবস্থাকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তারা শুধু কর্মী হিসেবে নয়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিটেনে বসবাস করে স্থানীয় সম্প্রদায়েরও অংশ হয়ে উঠেছেন।

RCN-এর আশঙ্কা, স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতার সময়সীমা বাড়ানো হলে অনেক অভিবাসী স্বাস্থ্য ও কেয়ার কর্মী ব্রিটেনে থাকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। সংগঠনটির বক্তব্য, এমন পরিস্থিতি সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় কর্মী সংকট আরও বাড়াতে পারে।

স্কিলস ফর কেয়ার-এর হিসাব উদ্ধৃত করে ডেইলি মিরর জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক পরিচর্যা খাতে কেয়ার কর্মী ও সিনিয়র কেয়ার কর্মীদের প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং নিবন্ধিত নার্সদের ৪৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক নন। অর্থাৎ এই খাতে অভিবাসী কর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।

চলতি বছরের শুরুতে RCN-এর একটি জরিপেও অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে আসে। জরিপে অংশ নেওয়া ILR না থাকা অভিবাসী কেয়ার কর্মীদের ৬০ শতাংশ জানিয়েছেন, যোগ্যতা অর্জনের সময়সীমা বাড়ানো হলে ব্রিটেনে থাকার সিদ্ধান্তে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। RCN-এর হিসাবে, এর ফলে সর্বোচ্চ ৪৬ হাজার নার্সিং কর্মী ব্রিটেন ছাড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

RCN আরও জানিয়েছে, ব্রিটেনে স্বাস্থ্য ও কেয়ার খাতে কাজ করা ভিসাধারী কর্মীরা বর্তমানে পাবলিক ফান্ডে প্রবেশাধিকার ছাড়া কাজ করেন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা কাজ করতে না পারার মতো পরিস্থিতিতে তারা আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারেন।

স্থায়ী বসবাসের আবেদন খরচ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নার্সিং সংগঠনটি। তাদের হিসাবে, ব্রিটেনে একজন ব্যক্তির ILR আবেদনের খরচ বর্তমানে ৩ হাজার ২৯ পাউন্ড। RCN স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা খাতের অভিবাসী কর্মীদের জন্য দ্রুত ILR দেওয়ার পাশাপাশি আবেদন ফি ৫২৩ পাউন্ডে কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক তুলনাতেও RCN বিষয়টি তুলে ধরেছে। সংগঠনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় নিবন্ধিত নার্সদের জন্য স্থায়ী বসবাসের পথ ব্রিটেনের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার তুলনায় আলাদা। কানাডায় কেয়ার কর্মীদের জন্য প্রায় ১৬ মাসের পথ রয়েছে বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে অপেক্ষার সময় দুই বছর এবং অস্ট্রেলিয়ায় নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে দুই থেকে চার বছর পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য হলো—অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রয়োজন এবং যারা ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছেন, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় তুলনামূলকভাবে কম রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। হোম অফিস জানিয়েছে, গত নভেম্বরে অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য স্থায়ী বসবাসের সাধারণ যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে ১০ বছর করার সংস্কার প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছিল। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা কর্মীদের জন্য পাঁচ বছরের পথ রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে।

শাবানা মাহমুদ বলেছেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে চায় যেখানে ব্রিটেনে কাজ করতে আসা মানুষের প্রতি দায়িত্ব, পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে পাওয়া পরিস্থিতি এবং বর্তমানে ব্রিটেনে থাকা ও দেশের বিভিন্ন ব্যবস্থায় অবদান রাখা মানুষের প্রতি দায়িত্ব—সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রাখা যায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরও বলেছেন, সাধারণ নীতি অনুযায়ী কোনো অভিবাসী যখন ILR-এর জন্য আবেদন করবেন, তখন আবেদনের সময় কার্যকর থাকা নিয়মই তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ কেউ ব্রিটেনে প্রবেশের সময় যে নিয়ম ছিল, সেটিই তার পুরো অভিবাসন যাত্রায় স্থায়ীভাবে প্রযোজ্য থাকবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে ব্রিটেনের নতুন জাতীয় কেয়ার সার্ভিস গড়ে তোলার পরিকল্পনার সঙ্গেও বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। RCN-এর আশঙ্কা, কেয়ার খাতে কর্মরত অভিবাসীদের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বিষয়টি নিশ্চিত না হলে কর্মী ধরে রাখা আরও কঠিন হতে পারে।

RCN-এর বক্তব্য, অভিবাসী নার্স ও কেয়ার কর্মীরা ইতোমধ্যে ব্রিটেনের স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অবদান রেখেছেন। তাই স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাদের অবদান, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা এবং ব্রিটেনে গড়ে তোলা জীবন ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সরকারের পরামর্শ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন শাবানা মাহমুদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে স্বাস্থ্য ও কেয়ার খাত। ফলে আগামী মাসগুলোতে অভিবাসী নার্স, কেয়ার কর্মী এবং ব্রিটেনের সামাজিক পরিচর্যা ব্যবস্থার ওপর প্রস্তাবিত ILR সংস্কারের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এখন লর্ড খান অব টুটিং: উচ্চকক্ষে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান আনুষ্ঠানিকভাবে হাউস অব লর্ডসের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, উচ্চকক্ষে অধিবেশনের শুরুতে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি লেবার পার্টির একজন লাইফ পিয়ার হিসেবে হাউস অব লর্ডসে তার দায়িত্ব শুরু করেন। তার নতুন উপাধি লর্ড খান অব টুটিং।

সাদিক খানের পিয়ারেজ হিসেবে টুটিং নামটি বেছে নেওয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। টুটিং এলাকাতেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং এই এলাকার প্রতিনিধিত্ব করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সে ১১ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শপথ গ্রহণের সময় লর্ডসের গ্যালারি থেকে তার পরিবারের সদস্য এবং প্রায় এক ডজন লন্ডন লেবার এমপি অনুষ্ঠানটি প্রত্যক্ষ করেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ডন বাটলার, টিউলিপ সিদ্দিক ও রূপা হক।

সাদিক খান একই দিনে নতুন লেবার পিয়ার লর্ড রবার্তো নেরির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী শপথ গ্রহণ করেন। শপথের পর দুজনকে লর্ড স্পিকার লর্ড ফোরসাইথ অব ড্রামলিনের সঙ্গে করমর্দনের সময় করতালি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়।

লর্ড খানকে হাউস অব লর্ডসে নিয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক লেবার নেতা লর্ড কিনক এবং মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারনেস হেলেনা কেনেডি অব দ্য শজ। শপথ গ্রহণের পর তিনি লর্ডসের নেতা ব্যারনেস স্মিথ অব বাসিলডন, তার ডেপুটি লর্ড কলিন্স অব হাইবারি এবং সাবেক ‘ইস্টএন্ডার্স’ অভিনেতা লর্ড ক্যাশম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

সাদিক খান ২০১৬ সালে প্রথমবার লন্ডনের মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর তিনি পরপর তিনটি মেয়র নির্বাচনে জয়ী হন। ২০০০ সালে বর্তমান কাঠামোয় লন্ডন মেয়রের পদ চালু হওয়ার পর তিনি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী লন্ডন মেয়র। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

মেয়র হওয়ার আগে সাদিক খান হাউস অব কমন্সে টুটিংয়ের এমপি হিসেবে ১১ বছর দায়িত্ব পালন করেন। গর্ডন ব্রাউনের সরকারের সময় তিনি পরিবহন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি মানবাধিকার আইনে বিশেষায়িত একজন সলিসিটর হিসেবে কাজ করেছেন।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, লর্ড খান অব টুটিং ২০ আগস্ট ২০২৬ থেকে হাউস অব লর্ডসের সদস্য এবং তিনি লেবার পার্টির একজন লাইফ পিয়ার।

সাদিক খানের পিয়ারেজের ঘোষণা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্যার কিয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের শেষ সপ্তাহে করা হয়। সেই সময় মোট ২৬ জনকে হাউস অব লর্ডসের জন্য পিয়ারেজ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছিল।

লন্ডনের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেই হাউস অব লর্ডসে যোগ দিয়েছেন লর্ড খান। আঞ্চলিক মেয়র হিসেবে একই সঙ্গে হাউস অব লর্ডসের সদস্য থাকার ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই।

হাউস অব লর্ডসে তার আনুষ্ঠানিক অন্তর্ভুক্তির দিন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নির্ধারিত কার্যসূচিতে লর্ড খান অব টুটিং এবং লর্ড নেরি—দুজনের পরিচিতি অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

লর্ডসের সদস্য হিসেবে সাদিক খানের নতুন দায়িত্ব এমন সময়ে শুরু হলো, যখন তিনি এখনও লন্ডনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি।

হাউস অব লর্ডসে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে লন্ডনের মেয়র হিসেবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সাদিক খান এখন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন। লর্ড খান অব টুটিং নামে তিনি লেবার পিয়ার হিসেবে উচ্চকক্ষের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

Categories
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রেক্সিটে হতাশ ব্রিটিশ জেলেরাঃ রপ্তানি জটিলতা ও মজুত নিয়ে চাপে মৎস্য খাত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ব্রিটেনের মাছ ধরার খাতকে ঘিরে যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা ও জলসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার সবগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়নি বলে দ্য ইকোনমিস্ট-এর ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। জলসীমায় ইইউর মাছ ধরার নৌযানের উপস্থিতি, প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত কোটা বৃদ্ধি, ইউরোপীয় বাজারে রপ্তানির নতুন প্রশাসনিক জটিলতা এবং মাছের মজুত নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে ব্রিটিশ জেলেদের মধ্যে হতাশার বিষয়টি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণার সময় ব্রিটিশ জলসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এলাকায় ব্রিটিশ জেলেদের জন্য একচেটিয়া প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ব্রেক্সিট বাণিজ্য চুক্তির পরও কিছু ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌযান ব্রিটেনের উপকূলীয় জলসীমায় মাছ ধরার সুযোগ ধরে রাখে। রয়টার্সের প্রতিবেদনেও ব্রিটিশ জেলেদের এ নিয়ে হতাশার কথা উঠে এসেছিল।

মাছ ধরার কোটা নিয়েও ব্রেক্সিট-পূর্ব প্রত্যাশা এবং পরবর্তী বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ব্রিটিশ মৎস্য খাতের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনায় নিজেদের জেলেদের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি মাছ ধরার অধিকার দাবি করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত ব্যবস্থায় কোটা বৃদ্ধির পরিমাণ সেই প্রাথমিক প্রত্যাশার তুলনায় সীমিত ছিল বলে দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য যে নিজস্ব মাছ ধরার সুযোগ পেয়েছে, সেটিও সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার ইইউ ও নরওয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উত্তর সাগর ও আশপাশের জলসীমায় প্রায় ৩ লাখ টন মাছ ধরার সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছিল। এসব কোটার ঐতিহাসিক অবতরণমূল্যের ভিত্তিতে মূল্য প্রায় ৩১০ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলে সরকার জানিয়েছিল।

মাছ ধরার পাশাপাশি রপ্তানি ব্যবস্থাও ব্রিটিশ জেলেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের নৌযানগুলো যেসব মাছ বেশি ধরে, তার মধ্যে মাকারেল ও হেরিংয়ের মতো প্রজাতির ইউরোপীয় বাজারে চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ ভোক্তাদের মধ্যে কডের মতো কিছু মাছের চাহিদা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় দেশীয় বাজার সব ধরনের মাছের জন্য একই মাত্রার বড় বাজার নয়।

ফলে ব্রিটিশ মাছ ধরার শিল্পের একটি অংশ ইউরোপীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল। ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক বাজার থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাস্টমস নথি, স্বাস্থ্য সনদ ও অন্যান্য সীমান্ত-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া যুক্ত হয়েছে। এ কারণে রপ্তানিকারকদের জন্য প্রশাসনিক ব্যয় ও সময় বেড়েছে বলে বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

২০২০ সালের শেষে স্বাক্ষরিত যুক্তরাজ্য-ইইউ ট্রেড অ্যান্ড কো-অপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে। চুক্তিতে পণ্য বাণিজ্যে শুল্ক ও কোটা না থাকার ব্যবস্থা থাকলেও নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে উৎসের নিয়ম এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত শর্ত মানতে হয়। মাছ ধরার বিষয়েও যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে পৃথক ব্যবস্থাপনা কাঠামো রাখা হয়েছে।

মৎস্যসম্পদের স্থায়িত্ব নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মাছ ধরার কোটা নির্ধারণে মাছের মজুত সংরক্ষণ এবং জেলেদের অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তাদের মাছ ধরার সুযোগ নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক গবেষণা পরিষদ বা আইসিইএসের বৈজ্ঞানিক পরামর্শকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয় এবং যেখানে সম্ভব সেই পরামর্শ অনুযায়ী বা তার নিচে ধরার সীমা নির্ধারণ করা হয়।

২০২৫ সালের উত্তর সাগর চুক্তিতে কড, হ্যাডক, হেরিং, প্লেইস, সাইথ ও হোয়াইটিংসহ ছয়টি মাছের মজুতের জন্য ধরার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর সাগরের কডের ক্ষেত্রে ২০২৪ সালের তুলনায় মোট অনুমোদিত ধরার সীমা ২০ শতাংশ কমিয়ে ২৫ হাজার ২৮ টন করা হয়েছিল।

তবে দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে মাছের মজুত নিয়ে আরও বিস্তৃত উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রেক্সিটের পরও যুক্তরাজ্যের জলসীমায় কিছু মাছের প্রজাতি চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সব ক্ষেত্রে মাছের মজুত পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।

ব্রেক্সিটের সময় মাছ ধরার খাতকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার অন্যতম প্রতীকী ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের জলসীমায় ব্রিটিশ নৌযানের জন্য বেশি অধিকার এবং মাছ ধরার খাতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্রেক্সিটের পর বাস্তব ব্যবস্থায় ইইউর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা, কোটা বণ্টন এবং ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যে মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ব্রেক্সিটের পরও দুই পক্ষকে অভিন্ন মাছের মজুত, কোটা ও সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিয়মিত আলোচনা করতে হচ্ছে। যুক্তরাজ্য সরকারও প্রতিবছর ইইউ ও নরওয়ের সঙ্গে মাছ ধরার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে।

ফলে ব্রেক্সিট ব্রিটিশ মৎস্য খাতকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ মৎস্যনীতি থেকে বের করে নিজস্ব নীতি নির্ধারণের সুযোগ দিলেও, বাস্তবে ইউরোপীয় বাজার, অভিন্ন মাছের মজুত এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি।

দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণের মূল বিষয় হলো, ব্রেক্সিটের সময় যে প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল এবং ব্রিটিশ জেলেরা বর্তমানে যে বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন—দুইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জলসীমায় নিয়ন্ত্রণ, মাছ ধরার কোটা, রপ্তানি প্রক্রিয়া এবং মাছের মজুত—প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্রেক্সিট-পরবর্তী ব্যবস্থার বাস্তব প্রভাব নিয়ে মৎস্য খাতে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ইকোনমিস্ট

এম.কে