যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার ক্রিশ্চিয়ান টার্নার অ্যান্ডি বার্নহাম ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কয়েক দিন আগে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পলিটিক্সহোমের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বৈঠকে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা যুক্তরাজ্যে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’-এর প্রভাব মোকাবিলায় কীভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের পরামর্শ চান।
বৈঠকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের আন্ডার সেক্রেটারি সারাহ রজার্সও উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা লন্ডনে অ্যালায়েন্স ফর রেসপনসিবল সিটিজেনশিপের অনুষ্ঠানে রজার্সের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন বলে পলিটিক্সহোম জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রজার্স ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সরকারি কর্মকাণ্ডে আরও স্বচ্ছতা ও সততার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন। তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।
আলোচনায় যুক্তরাজ্যের পরিত্যক্ত রুয়ান্ডা প্রকল্পের বিষয়টিও উঠে আসে। পলিটিক্সহোমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রজার্স রুয়ান্ডা প্রকল্পের প্রসঙ্গ তোলেন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের বিদেশে প্রক্রিয়াকরণের পরিকল্পনাকে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’-এর মোকাবিলার আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার কোনো পরামর্শ তিনি দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বৈঠকে স্বতন্ত্র এমপি রুপার্ট লোয়ের অর্থায়নে পরিচালিত গ্রুমিং গ্যাং-সংক্রান্ত তদন্তের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পলিটিক্সহোম জানিয়েছে, রজার্স এই তদন্ত পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্রুমিং গ্যাং মামলাগুলোর সরকারি ট্রান্সক্রিপ্ট ও নথি প্রকাশের আহ্বান জানান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই আলোচনায় রুপার্ট লোয়েকে নিজে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’-এর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।
ঐতিহাসিক মামলাগুলোর ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশের ব্যয়ের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। মার্কিন কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এসব নথি প্রকাশে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উদ্যোগগুলোর উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকার বিনামূল্যে ট্রান্সক্রিপ্ট প্রকাশ করতে পারে বলেও প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে পলিটিক্সহোম জানিয়েছে।
এদিকে রুপার্ট লোয়ে পলিটিক্সহোমকে বলেছেন, তার পরিচালিত তদন্তের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক লাভ নয়; বরং সংগঠিত যৌন নির্যাতনের বিষয়ে তথ্য সামনে আনা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ হাজারের বেশি মানুষ ওই উদ্যোগে অর্থায়ন করেছেন।
ব্রিটিশ ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) একজন মুখপাত্র বলেছেন, ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করেন। বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা দুই দেশের মানুষের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনার বিষয়েও যুক্তরাজ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে জিবি নিউজের প্রকাশিত মতামতধর্মী নিবন্ধে এই বৈঠককে লেবার সরকারের রাজনৈতিক কৌশল ও সীমান্ত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গ্রুমিং গ্যাং ইস্যু মোকাবিলার সঙ্গে যুক্ত করে সমালোচনা করা হয়েছে। তবে এসব মূল্যায়ন লেখকের মতামত; বৈঠকটির বিষয়ে পলিটিক্সহোমের প্রতিবেদনে মূলত সংশ্লিষ্ট সূত্র, ব্রিটিশ সরকারের বক্তব্য এবং বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে এ ধরনের বৈঠক নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ কি না, তা নিয়ে ফরেন অফিসের বক্তব্যও এসেছে। একই সঙ্গে ‘র্যাডিক্যাল রাইট’ মোকাবিলার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
সূত্রঃ পলিটিক্সহোম\জিবি নিউজ
এম.কে
