14.8 C
London
October 16, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অনিয়মিত অভিবাসী ফেরত না নিলে ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের জন্য সব ভিসা বন্ধের হুমকি ব্রিটেনের

পশ্চিম আফ্রিকা নয়, পূর্ব আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে অভিবাসন ইস্যুতে কূটনৈতিক বিরোধ তীব্র হওয়ায় দেশটির নাগরিকদের জন্য যুক্তরাজ্যের সব ধরনের ভিসা বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। যুক্তরাজ্য থেকে যেসব ইরিত্রীয় নাগরিকের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়েছে এবং যেসব বিদেশি অপরাধীর দেশটিতে থাকার অধিকার নেই, তাদের ফিরিয়ে নিতে ইরিত্রিয়া সরকার রাজি না হওয়ায় এই পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছে ব্রিটিশ সরকার।

ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরিত্রিয়া সরকার অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়ার সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। বিরোধের সমাধান না হলে ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে প্রবেশে সম্পূর্ণ ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

শাবানা মাহমুদ বলেন, ইরিত্রিয়াকে অপরাধী এবং যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই এমন নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য দেশগুলোর মতো সহযোগিতা না করে ইরিত্রিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তার ভাষায়, ইরিত্রিয়া সরকারকে এখন নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে হবে, অন্যথায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। সহযোগিতা না করা অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধেও আরও ব্যবস্থা নিতে তিনি দ্বিধা করবেন না বলে জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার হুমকির মুখে থাকা আরও তিনটি দেশ—অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র—এরই মধ্যে অভিবাসীদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে।

কূটনৈতিক বিরোধের জেরে ইরিত্রিয়ার কূটনীতিকদের পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতি ছাড়া লন্ডনের বাইরে ৬০ কিলোমিটারের বেশি ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারায় ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের জন্যও একই ধরনের ভ্রমণ বিধিনিষেধ রয়েছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ইরিত্রিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীর সংখ্যা বেড়েছে। গত জুন পর্যন্ত ১২ মাসে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের প্রায় ১৮ শতাংশ ছিলেন ইরিত্রিয়ার নাগরিক। একই সময়ে সুদানের নাগরিক ছিলেন ১৩ শতাংশ, আফগানিস্তান ও সোমালিয়ার নাগরিক ১২ শতাংশ করে এবং ইরানের নাগরিক ১১ শতাংশ।

তবে সরকারের এই পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার ও শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের স্টিভ ভালদেজ-সাইমন্ডস বলেন, ইরিত্রিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দেশে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের যথেচ্ছ আটক, অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এবং কিছু ক্ষেত্রে দাসত্বের মতো পরিস্থিতির ঝুঁকি রয়েছে। তার মতে, আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে ন্যায়সংগত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে।

শরণার্থী কাউন্সিলের জন ফিটনবি বলেন, ইরিত্রিয়ায় রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বহু মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নিজস্ব নির্দেশনাতেও ইরিত্রিয়ার কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে নাগরিকদের বিভিন্ন ঝুঁকির কথা উল্লেখ রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভিসা নিষেধাজ্ঞা বা অন্য কোনো পদক্ষেপ যেন শুধু ইরিত্রিয়ার কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয় এবং প্রকৃত সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের আশ্রয় পাওয়ার আইনি ও নৈতিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করে।

ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতার পর থেকে প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকির নেতৃত্বাধীন কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে রয়েছে। দেশটিতে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করার পাশাপাশি অনির্দিষ্টকালের সামরিক বা জাতীয় সেবায় বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

‘ঝগড়া’ মিটমাট করতে একান্তে সাক্ষাত করবেন ডায়ানার দুই ছেলে

অনলাইন ডেস্ক

আচরণবিধি লঙ্ঘনে ক্ষমা চাইলেন নাইজেল ফারাজ, ১৭টি লঙ্ঘনের দায় স্বীকার

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন একজন নারী