13 C
London
October 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

অ্যান্ডি বার্নহাম কি ১০ ডিসেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন দিতে যাচ্ছেন?: সম্ভাবনার পক্ষে ১০টি যুক্তি

অ্যান্ডি বার্নহাম যদি এই বছর আগাম সাধারণ নির্বাচন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে প্রায় নিশ্চিতভাবেই সেটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার, ১০ ডিসেম্বর। এটি নিছক কল্পনা নয়; বরং বাস্তবসম্মত একটি সম্ভাবনা। একজন দক্ষ সেনাপতি তখনই তাঁর সৈন্যদের যুদ্ধক্ষেত্রে নামান, যখন প্রতিপক্ষ সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় থাকে। ব্রিটিশ রাজনীতিতে সেই মুহূর্তটি সম্ভবত এখনই উপস্থিত হয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহামের কেন ১০ ডিসেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচন দেওয়া উচিত, তার পক্ষে ১০টি যুক্তি।

১. জনমত জরিপে লেবার পার্টির বড় ব্যবধান – সর্বশেষ Ipsos MORI জনমত জরিপে লেবার পার্টি আট শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই দলটির সবচেয়ে বড় ব্যবধান। এই পরিমাণ জনসমর্থন একটি শক্তিশালী সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

২. রিফর্ম ইউকের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের পতন – গত এক বছরে রিফর্ম ইউকে তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনসমর্থন হারিয়েছে। দলটির অপেক্ষাকৃত অনিশ্চিত সমর্থকদের একটি অংশ আবার কনজারভেটিভ পার্টির দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে বিভিন্ন অনুদানসংক্রান্ত কেলেঙ্কারি অনেক ভোটারের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে। বর্তমানে মাত্র ১৯ শতাংশ ব্রিটিশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক মনে করেন, রিফর্ম ইউকে পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত। গত মাসে এই হার ছিল ২২ শতাংশ এবং গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছিল ২৯%। অন্যদিকে, ৬২% মানুষ মনে করেন, রিফর্ম ইউকে এখনো সরকার পরিচালনার জন্য প্রস্তুত নয়। গত মাসের তুলনায় এই হার দুই শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।

৩. কনজারভেটিভ পার্টি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, কিন্তু এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত নয় – কনজারভেটিভ পার্টি বর্তমানে জনমত জরিপে দৃঢ়ভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। দলটির সমর্থন বেড়ে ২৪% পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। সে বছরের সাধারণ নির্বাচনে দলটি ২৩.৭% ভোট পেয়েছিল। তবে কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা এখনো তাদের নেত্রী কেমি ব্যাডেনকের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার তুলনায় অনেক পিছিয়ে। ব্যাডেনক তাঁর দলীয় সম্মেলনের ভাষণে বলেছিলেন, মানুষ আবার তাঁদের দোকানের সাজানো পণ্যের দিকে তাকাচ্ছে, কিন্তু এখনো কেনার সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২০২৮ সালের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তখন কনজারভেটিভ পার্টি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে। অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য এটি একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি।

৪. কনজারভেটিভদের নির্বাচনী প্রস্তুতির ঘাটতি – কনজারভেটিভ পার্টি এখনো খুব কমসংখ্যক নির্বাচনী আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। আগামী সপ্তাহেই নির্বাচন ঘোষণা করা হলে প্রতিটি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করা দলটির জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতি তাদের সাংগঠনিক ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর নজিরবিহীন চাপ সৃষ্টি করবে।

৫. রিফর্ম ইউকের বিপুল নির্বাচনী তহবিল ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা – সম্প্রতি রিফর্ম ইউকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড অনুদান পেয়েছে। এখনই নির্বাচন ঘোষণা করা হলে দলটি এই বিপুল অর্থের অধিকাংশ নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় করার পর্যাপ্ত সময় পাবে না। ফলে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও সাংগঠনিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দলটি পিছিয়ে পড়তে পারে।

৬. কনজারভেটিভদের আর্থিক দুর্বলতা – কনজারভেটিভ পার্টির হাতে বর্তমানে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ নেই। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলটি যে আর্থিক সংকটে পড়েছিল, এবার তার তুলনায় তহবিল সংগ্রহে কিছুটা ভালো করলেও তাদের কোষাগার এখনো সমৃদ্ধ নয়। অবশ্য লেবার পার্টির আর্থিক অবস্থাও একই রকম বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নির্বাচনের সময় শ্রমিক ইউনিয়নগুলো লেবার পার্টিকে আর্থিক সহায়তা দিতে এগিয়ে আসবে বলেই ধারণা করা যায়।

৭. গ্রিন পার্টির সংকটে লেবারের লাভ – গ্রিন পার্টি সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে, যার অনেকগুলোর জন্য দলটি নিজেই দায়ী। ফলে লেবার পার্টি ছেড়ে গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়া অনেক ভোটার আবার লেবারের দিকে ফিরে আসছেন। এটি অ্যান্ডি বার্নহামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সুবিধা।

৮. বার্নহামের জনপ্রিয়তা সম্ভবত সর্বোচ্চ পর্যায়ে – অ্যান্ডি বার্নহাম বর্তমানে যে জনপ্রিয়তা উপভোগ করছেন, ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং বড়দিনের মধ্যেই জনমত জরিপের চিত্র বদলে যেতে পারে। তখন মে মাসে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনাও ক্রমে কমে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে বার্নহামকে ২০২৯ সালের মধ্যে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা আবার ফিরে আসার আশায় অপেক্ষা করতে হবে।

৯. গর্ডন ব্রাউনের ২০০৭ সালের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়ানো – অ্যান্ডি বার্নহাম ২০০৭ সালে গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। সে বছরের অক্টোবরে গর্ডন ব্রাউন আগাম নির্বাচন দেওয়ার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যান। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, সেটি ছিল একটি বড় কৌশলগত ভুল। পরবর্তী সময়ে ব্রাউন পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ হারান, যা তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বার্নহামের মনে সেই অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই প্রভাব ফেলছে।

১০. বার্নহাম রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত – অ্যান্ডি বার্নহাম অধিকাংশ রাজনীতিকের তুলনায় বেশি ঝুঁকি নিতে আগ্রহী। তিনি ইতোমধ্যে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। কিন্তু সেটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রায় সব প্রধানমন্ত্রীই আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা অস্বীকার করেন—যতক্ষণ না তাঁরা নিজেরাই নির্বাচন ঘোষণা করেন।

আগাম নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী? বার্নহাম কেন এখনই নির্বাচন দেবেন না, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ অবশ্যই রয়েছে। আগাম নির্বাচন হলে লেবার পার্টি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রায় ৫০ আসন হতে পারে। লেবার পার্টি যেসব আসন হারাবে, তার অধিকাংশই রিফর্ম ইউকের দখলে যেতে পারে। যদিও রিফর্ম ইউকের জনসমর্থন কমেছে, তবুও নির্বাচনের পর হাউস অব কমন্সে তাদের সংসদ সদস্যের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, রিফর্ম ইউকে কি কনজারভেটিভ পার্টিকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবে?

বার্নহামের দলীয় সম্মেলনের ভাষণ কি আগাম নির্বাচনের ইঙ্গিত? অ্যান্ডি বার্নহাম যে আগাম নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন, এমন ধারণার প্রধান কারণ তাঁর সাম্প্রতিক দলীয় সম্মেলনের ভাষণ। ভাষণটি অনেকটা নতুন নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির মহড়ার মতো মনে হয়েছে। তিনি যেসব নীতিগত ঘোষণা দিয়েছেন, তার প্রায় সবগুলো বাস্তবায়নের জন্য নতুন নির্বাচনী ম্যান্ডেট প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি কয়েকটি প্রস্তাব ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সেগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা এড ডেভির ভাষায়, এগুলো ছিল একের পর এক ‘নিশ্চিতভাবেই হয়তো’ ধরনের প্রতিশ্রুতি। বার্নহাম যদি ডিসেম্বরে নির্বাচন দিয়ে জয়লাভ করেন, তাহলে এসব নীতি ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২০২৭ সাল থেকেই বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারবেন। অ্যান্ডি বার্নহামকে খুব ধৈর্যশীল রাজনীতিক না, আর সে কারণেই ডিসেম্বরের আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

সুত্র – এলবিসি

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে নারীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

অনলাইন ডেস্ক

তারেক রহমানকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

নিউজ ডেস্ক

কেমব্রিজ বিজনেস পার্কে ৮ হাজার চাকরিঃ নতুন ঘর ও সবুজ এলাকা নিয়ে বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা