TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আইনি পেশায় বড় পরিবর্তন আনছে এ.আইঃ তবে আইনজীবীদের প্রয়োজন ফুরাবে না

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আইনি পেশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আইনজীবীদের নথি তৈরি, যাচাই ও বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও পেশাগত বিচারবুদ্ধি, নৈতিকতা এবং জটিল আইনি বিষয় ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে আইনজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য থাকবে বলে মনে করছেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সের সদ্য আইন বিষয়ে স্নাতক হওয়া শিক্ষার্থী নাতানিয়া এফেউরহোবো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনমূলক বিশেষ আয়োজনের অংশ।

নাতানিয়া বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইনজগতের চেহারা বদলে দেবে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আইন প্রতিষ্ঠান ও আইনি বিভাগ তাদের কার্যক্রমে এআই ব্যবহার শুরু করেছে। প্রযুক্তির আরও উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এটি আইনি নথি যাচাই, সম্পাদনা ও খসড়া তৈরির কাজ করতে পারবে।

তবে তার মতে, একজন আইনজীবীর নিজস্ব বিচারবুদ্ধি, নৈতিকতা এবং আইনি বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে ব্যাখ্যা করার সক্ষমতার প্রয়োজন সব সময়ই থাকবে। এআই আইনজীবীদের কাজের কিছু অংশ সহজ করে দেবে, কিন্তু তাদের পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। একই সঙ্গে এআইয়ের ব্যবহার যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নাতানিয়া জানান, ইউনিভার্সিটি অব এসেক্সে পড়াশোনার সময় বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মেলামেশা তার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছে। তার শ্রেণিকক্ষেই ফ্রান্স, কানাডা, হংকং ও মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থীরা ছিলেন। বিভিন্ন দেশের আইন, সংস্কৃতি ও মানুষের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের আইনজীবীদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করবে বলে মনে করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ১৪০টিরও বেশি দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এসেক্স ল স্কুলে শিক্ষার্থীদের শুধু আইনের তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার, বিচারব্যবস্থা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন নাতানিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস ইউনিয়নের ভলান্টিয়ারিং কার্যক্রমের আওতায় তিনি সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের মেন্টর হিসেবে ১৫০ ঘণ্টার বেশি স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ করেছেন। স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত ক্লাব পরিচালনায়ও নেতৃত্ব দিয়েছেন।

এ ছাড়া পেশাগত আইনি জগতে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও সুযোগ বাড়াতে তিনি ব্ল্যাক ল সোসাইটি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্কিং, বিতর্ক, প্রশিক্ষণ এবং আইন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতিতে সহায়তা করে।

ভবিষ্যতে আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের পর পারিবারিক সহিংসতার শিকার এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সামর্থ্য নেই—এমন মানুষের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সেবা দেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শিক্ষায় বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল ক্লিনিক ও হিউম্যান রাইটস সেন্টার ক্লিনিকের মাধ্যমে বাস্তব আইনি বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পান।

২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে হিউম্যান রাইটস সেন্টার ক্লিনিকে নতুন রাইট টু হাউজিং ইউনিট চালুর কথা রয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীরা জাতিসংঘের আবাসনের অধিকারবিষয়ক বিশেষ দূত ড. কোলদো কাসলার সঙ্গে কাজ করবেন। জোরপূর্বক উচ্ছেদ, বৈষম্য এবং সশস্ত্র সংঘাতে বাড়িঘর ধ্বংসের মতো বিষয়ে জাতিসংঘে জমা পড়া বাস্তব অভিযোগ ও মামলার গবেষণা এবং বিশ্লেষণে তারা অংশ নেবেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইন বিষয়ে গবেষণার সক্ষমতার দিক থেকে এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির হিউম্যান রাইটস সেন্টার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজের জন্য কুইন্স অ্যানিভার্সারি পুরস্কার পেয়েছে।

নাতানিয়ার মতে, ভবিষ্যতের আইনজীবীদের শুধু আইনের জ্ঞান থাকলেই চলবে না; বিভিন্ন সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতা বোঝার পাশাপাশি প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। তবে প্রযুক্তির অগ্রগতি যতই হোক, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মানুষের বিচারবুদ্ধি ও নৈতিকতার গুরুত্ব অটুট থাকবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যের শিশুদের খাওয়াবে ইউনিসেফ

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ভয়াবহ পানির সংকটঃ পূর্ব লন্ডনে ২১ তলা ভবনে টানা পাঁচ দিন পানিহীন ৮০ পরিবার

ঋষি সুনাকের দলের আরো দুইজন সাংসদের পদত্যাগ