9.8 C
London
October 21, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকা

আপন ভাইয়ের সঙ্গে বিয়েঃ গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে চাপে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের বিরুদ্ধে নিজের ভাইকে বিয়ে করে তাকে অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে ডিএনএ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের ১৯ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আহমেদ নুর সাঈদ এলমিকে বিয়ে করেন ইলহান ওমর। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এলমিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পেতে সহায়তা করাই ওই বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল। এলমি ওমরের ভাই ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের ডিএনএ প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে ওমরের বাসায় তল্লাশি চালান যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের কর্মকর্তারা। তল্লাশির সময় বাক্সভর্তি সামগ্রী নিয়ে কর্মকর্তাদের বাসা থেকে বের হতে দেখা যায়। মোবাইল ফোন ও পাসপোর্টসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে বলে আগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট।

তদন্তের সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর দাবি, সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ওমরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন বা অপরাধ প্রমাণের তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবিষয়ক উপদেষ্টা টম হোম্যান বলেছেন, ওমরের বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের শক্তিশালী মামলা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাগরিকত্ব বাতিল বা বহিষ্কারের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এমন তথ্য নিশ্চিত নয়।

তদন্তকারীরা ওমরের জন্মতারিখ, তার বাবার অভিবাসনসংক্রান্ত নথি এবং পারিবারিক সম্পর্কের তথ্যও খতিয়ে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০০০ সালে তার বাবা মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় ওমরের জন্মতারিখ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ইলহান ওমর ২০১৬ সাল থেকেই নিজের ভাইকে বিয়ে করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তার আইনজীবীরা বলেছেন, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগের পক্ষে বৈধ ভিত্তি নেই। তারা তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে জব্দ করা সামগ্রী ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের এক মুখপাত্র আইনজীবীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আদালতের নির্দেশ ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই কাজ করেছে।

ওমরের বিয়ে ও করসংক্রান্ত নথিও তদন্তের আলোচনায় এসেছে। ২০০৯ সালে এলমিকে বিয়ে করার পর ২০১৭ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এর আগে আহমেদ হিরসির সঙ্গে ২০০২ সালে তার ধর্মীয় বিয়ে হয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে ওমর হিরসির সঙ্গে যৌথ কর বিবরণী জমা দিয়েছিলেন, যদিও তখন এলমির সঙ্গে তার আইনি বিয়ে বহাল ছিল। তবে এসব তথ্য এককভাবে অভিবাসন জালিয়াতি প্রমাণ করে না।

১৯৯৫ সালে পরিবারের সঙ্গে সোমালিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ইলহান ওমর। তিনি বর্তমানে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেস সদস্য। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকলেও এখন পর্যন্ত অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

এমকে

আরো পড়ুন

নিউয়র্কে হামলাকারীর হিট লিস্টে লন্ডন মেয়র সাদিক খান!

অনলাইন ডেস্ক

আবারো মেলিন্ডাকে বিয়ে করতে চান বিল গেটস!

মার্কিন টেক জায়ান্টদের আধিপত্য কমাতে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের নতুন প্রধান লিনা খান

অনলাইন ডেস্ক