TV3 BANGLA
Uncategorized

ইউকেতে জব সিকার এলাউয়েন্স নিলে সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রাস্তা পরিষ্কারঃ রিফর্ম ইউকের পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যে বেকার ভাতা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে বিরোধী দল রিফর্ম ইউকে। দলটি ক্ষমতায় এলে দীর্ঘমেয়াদি বেকার ভাতাপ্রাপকদের সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা বাধ্যতামূলক কমিউনিটি কাজ করতে হবে। নির্ধারিত কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে বা কর্মস্থলে উপস্থিত না হলে তাদের ভাতা কমিয়ে দেওয়া হবে, আর কাজ করার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অংশ না নিলে ভাতা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির ট্রেজারি মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক।

লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে জেনরিক বলেন, এই কর্মসূচি স্থানীয় কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। ভাতাপ্রাপকদের প্রধান সড়ক পরিষ্কার, পার্কের পরিচর্যা, ছোটখাটো মেরামতের কাজ, অবহেলিত এলাকা সুন্দর করা, লাইব্রেরি ও কমিউনিটি সেন্টারে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় দাতব্য সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমেও অংশ নিতে হবে। তার ভাষায়, “যারা কাজ করতে সক্ষম হয়েও কাজ করতে অস্বীকার করবে, তারা কিছুই পাবে না।”

এই পরিকল্পা রিফর্ম ইউকের ‘ওয়েলফেয়ার টু ওয়ার্ক’ কর্মসূচির অংশ। দলটির দাবি, কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনা এবং সরকারি ব্যয় কমানোর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের কল্যাণ খাত থেকে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

দলটি শুধু বেকার ভাতা নয়, আরও কয়েকটি বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য দেওয়া পার্সোনাল ইন্ডিপেনডেন্স পেমেন্ট (পিআইপি) এবং কর্মক্ষম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত অতিরিক্ত অংশ বাতিলের প্রস্তাবও রয়েছে।

সবচেয়ে বিতর্কিত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো বিদেশি নাগরিকদের প্রায় সব ধরনের সরকারি ভাতা পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া। জেনরিক বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেই নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যারা যুক্তরাজ্যে সেটেলড স্ট্যাটাস নিয়ে বসবাস করছেন। তবে এ নীতি কার্যকর করতে হলে ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্য-ইইউ চুক্তি পুনরায় আলোচনা করতে হবে এবং এর ফলে ইউরোপে বসবাসরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সমমানের অধিকারও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

রিফর্ম ইউকের হিসাব অনুযায়ী, এই নীতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পঞ্চম বছরে বছরে প্রায় ২১ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হবে।

ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি অবশ্য এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে। দলটির বক্তব্য, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী অধিকাংশ অভিবাসীরই সরকারি ভাতা পাওয়ার অধিকার নেই, তাই রিফর্ম ইউকের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

ইউরোপপন্থী সংগঠন বেস্ট ফর ব্রিটেনও এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির নীতি পরিচালক টম ব্রুফাত্তো বলেছেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাসের অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হলে তা যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগ চুক্তির পরিপন্থী হবে এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে।

অন্যদিকে কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া অর্থমন্ত্রী স্যার মেল স্ট্রাইড দাবি করেছেন, কোভিড-পরবর্তী সময়ে তিনিই দীর্ঘমেয়াদি ভাতা কমানোর জন্য সংস্কার এনেছিলেন। তার অভিযোগ, লেবার সেই সংস্কার বাতিল করেছে, আর এখন রিফর্ম ইউকে অবাস্তব আর্থিক হিসাব দেখিয়ে একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

এদিকে ট্রাস্ট ফর লন্ডনের গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির পর রাজধানীতে কর্মক্ষম বয়সী বেকার ভাতাপ্রাপকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় বর্তমানে আরও ২ লাখ ১ হাজার বেশি মানুষ বেকার ভাতার ওপর নির্ভর করছেন। ফলে লন্ডনে এ ধরনের ভাতাপ্রাপকের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ জনে।

সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

বৈরুতে কোভিড পরীক্ষাগারের সামনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মারামারি

অনলাইন ডেস্ক

বিলেতে বাড়ির 🏠 শেয়ারড ওনারশিপ বা যৌথ মালিকানা

অনলাইন ডেস্ক

নারী পুলিশদের হিজাব পরার অনুমতি দিল নিউজিল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক