13.5 C
London
June 10, 2026
TV3 BANGLA
স্পোর্টস

ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্বঃ ৪৮ দল নিয়ে শুরু নতুন যুগ

ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বৃদ্ধি, রেকর্ডসংখ্যক ম্যাচ, তিন দেশের যৌথ আয়োজন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপ আগের সব আসরকে ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—যৌথভাবে আয়োজন করছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসর। ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এক মাসের বেশি সময়ব্যাপী এই টুর্নামেন্ট।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম অংশ নেবে ৪৮টি দল। এতদিন ৩২ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হলেও এবার ফিফা সেই কাঠামো পরিবর্তন করেছে। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, ৪৮টি দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হবে এবং প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল।

গ্রুপ পর্ব শেষে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সরাসরি নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। এছাড়া সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ বত্রিশে খেলার সুযোগ পাবে। ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত হবে ৩২ দলের নকআউট রাউন্ড।

নতুন এই ফরম্যাটের কারণে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে যেখানে মোট ৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ হবে ১০৪টি। এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সম্প্রচারস্বত্ব, পর্যটন, টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বিপুল অর্থনৈতিক প্রবাহ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে ফুটবলপ্রেমীরাও দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের সেরা দলগুলোর লড়াই উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।

এবারের বিশ্বকাপ আয়োজন করা হবে তিন দেশের মোট ১৬টি শহরে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে সর্বোচ্চ ১১টি ভেন্যুতে ম্যাচ। কানাডায় থাকবে দুটি এবং মেক্সিকোয় তিনটি স্টেডিয়াম।

যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুগুলোর মধ্যে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়াম, সান ফ্রান্সিসকোর লেভাইস স্টেডিয়াম, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম, বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়াম, ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়াম, হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়াম, ফিলাডেলফিয়ার লিংকন ফাইন্যান্সিয়াল ফিল্ড, মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম, আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম, সিয়াটলের লুমেন ফিল্ড এবং কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়াম।

কানাডার টরন্টোর বিএমও ফিল্ড এবং ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসও বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজন করবে। অন্যদিকে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা, গুয়াদালাহারার এস্তাদিও আকরন এবং মনতেরের এস্তাদিও বিবিভিএ থাকবে আয়োজক ভেন্যুর তালিকায়।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এবারের বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে বিশেষ। উন্নত ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর), সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি, খেলোয়াড়দের গতিবিধি বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ ট্র্যাকিং সেন্সর এবং রিয়েল-টাইম ডেটা বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেডিয়ামগুলোতে উচ্চগতির ফাইভ-জি নেটওয়ার্কও দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা দেবে।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হবে শেষ বত্রিশ থেকে। এরপর রাউন্ড অব সিক্সটিন, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল পেরিয়ে নির্ধারিত হবে ফাইনালের দুই প্রতিযোগী।

আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল। তার একদিন আগে মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। নতুন ফরম্যাটের কারণে অপেক্ষাকৃত ছোট ফুটবল শক্তিগুলোর জন্যও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ বাড়ছে। ফলে প্রতিযোগিতা আরও বৈচিত্র্যময় এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তিন দেশের যৌথ আয়োজন, ৪৮ দলের অংশগ্রহণ, ১০৪ ম্যাচের ম্যারাথন সূচি এবং প্রযুক্তির সর্বাধুনিক ব্যবহারের সমন্বয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং বৈশ্বিক ফুটবল সংস্কৃতির এক নতুন যুগের সূচক হয়ে উঠতে যাচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপ স্মরণীয় হয়ে থাকবে মাঠের রোমাঞ্চ, বৈচিত্র্য এবং বিশ্বজনীন উৎসবের আবহের জন্য।

সূত্রঃ ফুটবল ফ্রিক\ফিফা

এম.কে

আরো পড়ুন

ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হতে চান সাকিব

ইংল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড সিরিজের সূচি প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

ইফতারে বিরতি নেই, মুসলিম সতীর্থদের জন্য ইনজুরির অভিনয় খ্রিষ্টান ফুটবলারের