যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতি ঘোষণার পর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় নিজের আইনসম্মত সব সরকারি সুবিধা বাতিল করেছেন ঘানার এক নিম্নবেতনের সেবাকর্মী। অটিস্টিক সন্তানের জন্য পাওয়া সপ্তাহে £103.10 পরিমাণ ডিজেবিলিটি লিভিং অ্যালাউন্স (DLA) পর্যন্ত বন্ধের অনুরোধ করেছেন তিনি— শুধু ভবিষ্যতে ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (ILR) পাওয়ার সুযোগ হারানোর ভয় থেকে।
তিন সন্তানের এই মা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করছেন এবং হাউজিং বেনিফিট ও ইউনিভার্সাল ক্রেডিটসহ বিভিন্ন ইন-ওয়ার্ক সুবিধা পেতেন। কিন্তু ২০ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘোষিত নীতিগত পরিবর্তনে জানানো হয়েছে— সরকারি সুবিধা গ্রহণকারীদের ILR পাওয়ার সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। বিশেষত ১০ বছরের রুটে থাকা অভিবাসীদের ক্ষেত্রে সময়সীমা দ্বিগুণ হয়ে ২০ বছরে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি যারা ১২ মাসের বেশি সময় সুবিধা গ্রহণ করেছেন, তাদেরও আরও দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এই নারী ইতোমধ্যে ১০ বছরের রুটের ৯ বছর পার করেছেন। নতুন ঘোষণার পর তার কমিউনিটির আইনজীবীরা সামাজিক মাধ্যমে সতর্কবার্তা ছড়িয়ে দেন যে সরকারি সুবিধা নেওয়া ভবিষ্যতে সরাসরি ILR প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই আতঙ্কে তিনি স্বেচ্ছায় নিজের সব সুবিধা বাতিলের আবেদন করেন।
তিনি জানান, নিজের আয় খুব কম হওয়ায় স্কুলের পরামর্শে তিনি কাজের সময় কমিয়ে সন্তানদের সময় দেওয়ার সুবিধার্থে বেনিফিট নিচ্ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি সপ্তাহে ৫০ ঘণ্টার বেশি কাজ করছেন এবং সেটি বাড়িয়ে ৬০ ঘণ্টায় নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অটিস্টিক সন্তানের রাতভর জেগে থাকার কারণে তিনি সবসময় ক্লান্ত-শ্রান্ত থাকলেও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাঁচাতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে শরণার্থী ও অভিবাসী সহায়তামূলক প্রতিষ্ঠান Ramfel-এর ক্যাম্পেইন প্রধান নিক বেলস বলেন, নতুন নীতি দক্ষিণ এশীয়, আফ্রিকান ও ক্যারিবীয় অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক। ১০ বছরের রুটে থাকা অধিকাংশ মানুষই নিম্নবেতনভুক্ত পেশায় আছেন, ফলে তাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে। তার মতে, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন নয়; অনেকেই ইতোমধ্যে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
অন্যদিকে সরকারের এক মুখপাত্র জানান, প্রস্তাবিত ‘আর্নড সেটেলমেন্ট মডেল’-এর মাধ্যমে ব্যক্তি তার অর্থনৈতিক অবদান প্রমাণ করতে পারলে নাগরিকত্ব বা স্থায়ী হওয়ার সময়সীমা কমানোও সম্ভব হবে, এবং এই নীতি নিয়ে পরামর্শ গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।
নতুন নীতির প্রভাবে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে— বিশেষ করে যারা স্বল্প আয়ে কাজ করে পরিবার চালান, এবং নিজের ও সন্তানের জীবনমানের সঙ্গে যুক্ত সুবিধাগুলো হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

