ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব এবার যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দেশটির এক জনসভায় যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে এক সাবেক মার্কিন সৈনিককে পুলিশ জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন একজন মার্কিন সিনেটর। সেখানে ওই ব্যক্তি দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততার সমালোচনা করে বলেন, “ইসরায়েলের জন্য লড়াই করতে কেউ চায় না।” তার এই বক্তব্যের পরপরই পুলিশ এগিয়ে এসে তাকে জোর করে সরিয়ে দেয়।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করেন, ওই ব্যক্তি একজন সাবেক মেরিন সৈনিক, যিনি ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। সমালোচকদের মতে, এই যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে বহু মার্কিন সৈনিক হতাহত হয়েছে এবং সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি প্রতিবাদ জানান।
সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, যখন একজন সাবেক মেরিন সৈনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন তার বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত।
আরেকজন ব্যবহারকারী সেভডালিন হিস্টোফ লিখেছেন, “যখন কোনো ভাঁড় প্রাসাদে ঢুকে পড়ে, তখন সে রাজা হয়ে যায় না; বরং প্রাসাদটাই সার্কাসে পরিণত হয়।” এই মন্তব্যটি অনেকেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা হিসেবে দেখছেন।
অন্যদিকে জে শেফার নামের একজন মন্তব্যকারী ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে দাবি করেন, পুলিশি ধস্তাধস্তির সময় প্রতিবাদকারীর হাত গুরুতরভাবে আহত হয়। তার ভাষায়, ভিডিওতে স্পষ্টভাবে হাত ভেঙে যাওয়ার মতো দৃশ্য দেখা যায়, তবুও তিনি দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে দেশটির ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক চাপ ও জনমতের বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে।
সূত্রঃ আল জাজিরা
এম.কে

