TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরান ঘিরে উত্তেজনাঃ মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা প্রত্যাহার

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সামরিক সদস্য প্রত্যাহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। কাতারের আল-উদেইদ সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও কর্মী সরানোর এই সিদ্ধান্তকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে ওয়াশিংটন।

 

বুধবার মার্কিন কর্মকর্তারা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যাহার করা হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, আল-উদেইদ ঘাঁটিতে অবস্থানরত কিছু সেনাকে সাময়িকভাবে চলে যেতে বলা হয়েছে।

এর আগে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর ইরান আল-উদেইদ ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করেছিল। যদিও সেই হামলাটি ছিল আগাম ইঙ্গিত দেওয়া এবং মূলত প্রতীকী।

গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যও কাতারে অবস্থিত ওই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিচ্ছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে।

ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে। সৌদি আরব ও তুরস্কসহ যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের এই হুমকির কথা জানানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। রয়টার্সের বরাতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, তবে হামলার ধরন ও মাত্রা এখনো অনিশ্চিত।

ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে ইরান সরকার জানিয়েছে, আটক বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি-এজেই বলেন, “কিছু করতে হলে দেরি নয়, এখনই করতে হবে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এর প্রভাব কমে যায়।”

মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, খুব শিগগিরই বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর হতে পারে। ২৬ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়, যা চলমান আন্দোলনে প্রথম কোনো বিক্ষোভকারীর সর্বোচ্চ সাজা।

এরফান সোলতানির এক স্বজন CNN-কে বলেন, ট্রাম্পের কথায় বিশ্বাস করে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানান, যেন এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে না দেওয়া হয়।

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র “খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া” জানাবে। CBS নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ হত্যার ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরবসহ ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের সূচনা করতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও মারাত্মক হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে, ইরানে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে এখন পর্যন্ত ২,৫৭১ জন নিহত এবং ১৮ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বুধবার তেহরানে নিহত ১০০ জন নিরাপত্তা সদস্যের জন্য গণ-জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক দশ হাজার সরকারপন্থী অংশ নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে বলেছে, ইরান আবারও জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি, দ্রুত বিচার ও ইচ্ছামতো মৃত্যুদণ্ডের পথে হাঁটতে পারে। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে।

সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক, রাজনৈতিক ও মানবাধিকার সংকট নতুন এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সেনা প্রত্যাহার সেই উত্তেজনারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান \ এপি \ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

গাজায় গণহত্যা নিয়ে আইসিজের রায় ‘ঐতিহাসিক’: জাতিসংঘ দূত

নিউজ ডেস্ক

বাতিল হচ্ছে নাগরিকত্ব, ভারতীয় মুসলিমরা অস্তিত্ব সংকটে

পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ার উপর দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চায়