মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান। যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এই প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে এ ঘোষণা ঘিরে এখনো পুরোপুরি নিশ্চয়তা তৈরি হয়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এ বিষয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছে, আর আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলোও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে সামান্য অস্থিরতাও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি এখন “খুব কাছাকাছি” অবস্থায় রয়েছে।
তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, চুক্তি সম্পূর্ণরূপে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এতে করে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত না হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, লেবানন পরিস্থিতিও এখনো ইরান-সংক্রান্ত আলোচনায় একটি বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। দেশটিতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
যদিও প্রাথমিকভাবে যুদ্ধবিরতি টিকে আছে বলে মনে হচ্ছে, তবুও লেবানন অভিযোগ করেছে যে ইসরায়েল একাধিকবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নাজুক এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা এবং লেবাননের স্থিতিশীলতা—এই তিনটি বিষয় একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এর যেকোনো একটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্রঃ সিএনএন
এম.কে

