TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলাঃ দুই যুদ্ধ এক হয়ে যাবার শঙ্কা

ইরানের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে পারে।

শনিবার ভোরে কাস্পিয়ান সাগরে সংঘটিত ওই হামলায় ইরানের সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজে আঘাত হানে ইউক্রেনের ড্রোন। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে জানিয়ে দেয়, হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই অভিযানকে ‘গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগরে দীর্ঘপাল্লার হামলায় ইরানের সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একাধিক জাহাজ এবং একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

 

জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই মাসের শুরু থেকে রাশিয়া উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি সংগ্রহ করে ইরানের কাছে সরবরাহ করছে। তার দাবি, রাশিয়ার তোলা এসব স্যাটেলাইট চিত্রের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ইরানের হামলার স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হবে।

এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বের সংঘাত ক্রমেই একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংকটে রূপ নিচ্ছে। কাস্পিয়ান সাগর দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, এই পথেই ইরান শাহেদ ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ায় পাঠিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে সহায়তা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন এসব সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে দীর্ঘপাল্লার হামলা জোরদার করেছে।

 

এদিকে ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, রাশিয়া আসন্ন শরৎ মৌসুমে নতুন করে সেনা সমাবেশ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিয়েভের তথ্য অনুযায়ী, শীতকালীন নতুন সামরিক অভিযানের জন্য অতিরিক্ত ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে মস্কো।

অন্যদিকে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও জোরদারের সতর্কবার্তা দিলেও সপ্তাহান্তে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।

 

তবে উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার মাইনে আঘাত লেগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি তেহরান অনুমোদিত নিরাপদ নৌপথ থেকে সরে গিয়ে এমন একটি এলাকায় প্রবেশ করেছিল, যেখানে আগে পেতে রাখা মাইন এখনও রয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক এসব ঘটনার ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

গুজব না সত্যি? ইমরান-খানের মৃত্যুর দাবিতে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া, নীরবতা ও অস্বচ্ছতায় বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে এশিয়া, যেদিকে ঝুঁকছে মার্কিন মিত্ররা

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কমিটির