ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তবে প্রয়োজন হলে আবারও সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ছয় মিনিটের টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সন্তুষ্ট। ইরানকে ঘিরে নিজেদের লক্ষ্যগুলো অর্জিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যা চাই, তার সবই পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইরানে হামলার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রস্তুত, আমরাও প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। তবে এর কোনো প্রয়োজন নাও হতে পারে।’
মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের এই বক্তব্য সামনে এসেছে। নির্বাচনে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে জড়ানোর পর জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।
এর আগে সোমবার হরমুজ প্রণালির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদ সুরক্ষিত রাখতেই এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশি তেল পরিবহন হচ্ছে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ দেশটির অর্থনীতির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পরিস্থিতিকে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মাত্রাও কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত অর্থে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত নয়। এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বি-টু বোমারু বিমান ব্যবহার করে চালানো হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। ওই সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।
ভবিষ্যতে আরও সামরিক হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। তিনি ওই পারমাণবিক উপাদানকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন। শত শত টন পাথরের নিচে চাপা দেওয়া সত্ত্বেও উপাদানটি ইরানে রয়ে যাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির আশায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলারের বেশি কমে প্রায় ১০৪ ডলারে নেমে এসেছে। তবে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম আগের যেকোনো প্রশাসনের সময়ের তুলনায় নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সাক্ষাৎকারে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সম্ভাবনা নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন ট্রাম্প। জনমত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত থাকলেও তিনি তা উড়িয়ে দেন। তার দাবি, নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিটি সমাবেশ ছিল ব্যাপক সফল। অনেক সমর্থক ভিড়ের কারণে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করতে পারেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়েও আশাবাদী ট্রাম্প। তার মতে, দুই পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, তারা দুপক্ষই এখন বলার পর্যায়ে এসেছে—চলুন একটি চুক্তি করি।’ তবে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ইউক্রেনের আলোচকেরা একই ধরনের আশাবাদ প্রকাশ করেননি।
সূত্রঃ এফটি
এমকে

