9.5 C
London
March 24, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানের একজন ‘শ্রদ্ধেয়’ নেতার সঙ্গে আলোচনা চলছেঃ ট্রাম্প

পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাত নিরসনে এক নাটকীয় দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ইরানই আগে আলোচনার জন্য তাকে ফোনকল করেছে। দুই দেশের মধ্যে অনেকগুলো বিষয়ে ‘প্রধান ঐকমত্য’ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করলেও, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির কাছ থেকে তিনি সরাসরি কিছু শোনেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি নিশ্চিত নই যে নতুন সর্বোচ্চ নেতা এখনো জীবিত আছেন কি না। তবে আমি চাই না তাকে হত্যা করা হোক।’ তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানের একজন ‘শ্রদ্ধেয়’ নেতার সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে সেই নেতার নাম তিনি প্রকাশ করেননি।

ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সবকিছু খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।’

ট্রাম্পের মতে, দুই পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠাই তার মূল লক্ষ্য। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি আমাদের মধ্যে চুক্তি হয়, তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নেওয়া আমাদের জন্য খুব সহজ হবে।’ তবে ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর কৌশলগত বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনার দাবি করলেও তেহরান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা বা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। এ ছাড়া ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘মেহর’ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কোনো পর্যায়েই কোনো আলোচনা চলছে না।

তবে মেহর নিউজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে নানামুখী পদক্ষেপ সক্রিয় রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনকে স্বীকার করতে হবে যে এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি।

ট্রাম্পের এই নমনীয় অবস্থানকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখতে পারেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষক আকিভা এলদারের মতে, ইরানের পরমাণু হুমকি দূর করা ছিল নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। ট্রাম্প যদি যুদ্ধে ইতি টেনে আলোচনায় ফিরে যান, তবে নেতানিয়াহুর সেই কৌশল ব্যর্থ হবে।

তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলি ভোটারদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ায় নেতানিয়াহু তাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে পারছেন না। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘ইসরায়েলি নেতাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। যা আলোচনা হচ্ছে, তাতে ইসরায়েল অনেক খুশি হবে।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেমে যায়, তবে নেতানিয়াহু তার ঘরোয়া রাজনীতিতে টিকে থাকতে লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে পারেন। গাজায় হামাসকে নির্মূল করতে না পারার ব্যর্থতা ঢাকতে লেবাননে একটি ‘বিজয়’ দেখানো এখন নেতানিয়াহুর জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।

আপাতত মেম্ফিসে ট্রাম্পের পরবর্তী ভাষণের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব। সেখানে তিনি এই ‘গোপন আলোচনা’ এবং মোজতবা খামেনির রহস্যময় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য দেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্রঃ এএফপি

এম.কে

আরো পড়ুন

দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপঃ অধিকাংশ আমেরিকান ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের পদক্ষেপ সমর্থন করে না

নিউজ ডেস্ক

মারাত্মক প্রাণ ঝুঁকিতে বাসার আল আসাদের স্ত্রী আসমা

ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করছে চীন ও রাশিয়া