25.4 C
London
August 11, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইরানের ভয়ে ট্রাম্পের গোপন পলায়নঃ ধোঁকা দিয়ে খাবারের গাড়িতে লুকিয়ে সামরিক বিমানে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকির আশঙ্কায় তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে অত্যন্ত গোপনীয় এক নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ন্যাটো সম্মেলন শেষে গত জুলাইয়ে তুরস্ক ছাড়ার সময় প্রকাশ্যে তাকে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ওই বিমানে করে যুক্তরাজ্যে যাননি। বরং বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী একটি গাড়ির মাধ্যমে গোপনে বিমান পরিবর্তন করে একটি সামরিক বিমানে করে দেশ ছাড়েন তিনি।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাব্য প্রাণনাশের হুমকি সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা অবহিত হওয়ার পর এই গোপন পরিকল্পনা নেওয়া হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্পকে এমনভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে তার প্রকৃত যাত্রাপথ সম্পর্কে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই। ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে ট্রাম্প তুরস্কে পৌঁছেছিলেন কাতারের দেওয়া নতুন বিলাসবহুল বিমানটিতে। তবে আঙ্কারা ছাড়ার সময় তিনি সেই বিমানে না উঠে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠবেন বলে প্রকাশ্যে জানান। সাংবাদিকদের সামনেই তাকে সেই বিমানে উঠতে দেখা যায়। ফলে সবাই ধরে নিয়েছিলেন, সেটিতেই তিনি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর ট্রাম্পকে বিমান থেকে গোপনে নামিয়ে আনা হয়। সাংবাদিকদের ওঠার বিপরীত পাশে একটি খাবার সরবরাহকারী কনটেইনার বা গাড়ি এনে সেটিকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই গাড়ির মাধ্যমে ট্রাম্পকে বিমানবন্দরের অন্য অংশে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তাকে একটি সি-৩২এ সামরিক বিমানে তুলে দেওয়া হয়।

সি-৩২এ হলো বোয়িং ৭৫৭ বিমানের সামরিক সংস্করণ। ট্রাম্পকে এই বিমানে গোপনে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে পাঠানো হয়। এদিকে সাংবাদিক ও অন্য কর্মকর্তাদের বহনকারী পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রা অব্যাহত রাখে। ফলে সেটি কার্যত ট্রাম্পের প্রকৃত অবস্থান আড়াল করার জন্য একটি ‘বিভ্রান্তিমূলক বিমান’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে যাত্রা করা সাংবাদিকদের বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তারা বিশ্বাস করছিলেন, প্রেসিডেন্ট তাদের সঙ্গেই ওই বিমানে রয়েছেন। অথচ ট্রাম্প তখন অন্য একটি সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যের পথে ছিলেন।

দুটি বিমানই যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহল ঘাঁটিতে পৌঁছায়। পরে ট্রাম্পকে আবার পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সঙ্গে দেখা যায় এবং সেখান থেকে তার প্রকাশ্য যাত্রার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়।

এই গোপন অভিযানের পেছনে ছিল ইরান-সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হুমকিটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছিল এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বিমান পরিবর্তনের মতো নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, কর্মকর্তারা হুমকিটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে বিবেচনা করেছিলেন।

অভিযানে মার্কিন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছিলেন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে সব সময়ই হুমকি থাকে এবং ইরান তাকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তখন তিনি প্রকাশ্যে জানাননি যে তার যাত্রাপথে এমন একটি গোপন নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।

ঘটনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজিরবিহীন দিকও সামনে এনেছে। বিশেষ করে সাংবাদিকদের সামনে একটি বিমানকে প্রেসিডেন্টের প্রকৃত বিমান হিসেবে দেখিয়ে অন্য একটি বিমানে তাকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রকৃত অবস্থান গোপন রাখা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অত্যন্ত অস্বাভাবিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অবস্থানও কয়েক ঘণ্টার জন্য গোপন রাখা হয়েছিল। তবে সে সময় তার অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশ্যে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার ঘটনা ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস সরাসরি পুরো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। তবে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিউং বলেন, প্রেসিডেন্ট নিজেই জানিয়েছেন যে আমেরিকার বহু শত্রু তাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং এসব হুমকি মোকাবিলায় তার নিরাপত্তা দল সব ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করে।

মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিমানবাহিনীও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে, যখন কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া ট্রাম্পের নতুন বিলাসবহুল এয়ার ফোর্স ওয়ান নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। নতুন বিমানটির নিরাপত্তা ও ব্যবহার নিয়েও আগে থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

সব মিলিয়ে, আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের গোপন বিমান পরিবর্তনের ঘটনা শুধু তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয় নয়; এটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

সুদানে রাস্তায় পড়ে থাকা লাশ কুকুরে খাচ্ছে

ইরানে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, তথ্য প্রকাশ

এবার ৯৮ লাখ টাকা বাড়তি পাবেন নোবেল জয়ীরা

নিউজ ডেস্ক