13 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ঘোষণায় যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশঃ ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করল ইসরায়েল

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার জবাবে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার।

গিডিয়ন সার বলেন, গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনেও যুক্তরাজ্য আর অংশ নিতে পারবে না। একই সঙ্গে সাবেক লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ কয়েকজন ব্রিটিশ নেতা এবং অন্যান্য দেশের কিছু নাগরিকের ইসরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ইসরায়েলি বসতি নীতির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপকে দেশটির বিরুদ্ধে নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী মিত্রের সঙ্গে দেশটির কূটনৈতিক দূরত্ব আরও প্রকাশ্যে এসেছে।

ব্রিটিশ পদক্ষেপের সমালোচনা করে গিডিয়ন সার বলেন, এটি ‘নৈতিকভাবে বিকৃত’ এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হস্তক্ষেপ। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মন্তব্যকেও তিনি ‘আপত্তিকর মিথ্যা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে স্বীকৃত। গিডিয়ন সার বলেন, ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে যুক্তরাজ্য হস্তক্ষেপ করছে—এমন অভিযোগের পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইসরায়েলে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ড এবং ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের বিষয়টি শুধু তুলে ধরলেই হবে না; বসতি সম্প্রসারণের বিরোধিতা করতে যুক্তরাজ্যকে এখন পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকটের দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান রক্ষার প্রচেষ্টায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। তারা চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজেদের উদ্যোগের পক্ষে প্রচার চালানোর কথা জানিয়েছেন।

ডেনমার্ক, নরওয়ে, পোল্যান্ড, স্পেন ও সুইডেনসহ আরও নয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও পৃথক বিবৃতিতে আলোচনার মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই সমাধানের আওতায় ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ মোকাবিলায় দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই সবচেয়ে ভালো প্রস্তাব। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলো এসব লক্ষ্যকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

জাতিসংঘ, ফিলিস্তিনিরা এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ মনে করে। তবে ইসরায়েল এই অবস্থান স্বীকার করে না।

এরই মধ্যে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরের কট্টরপন্থী কিছু বসতি স্থাপনকারীকে অর্থায়ন করছে। এসব বসতি স্থাপনকারী অবৈধ আউটপোস্ট খামার ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের ওই এলাকা থেকে সরিয়ে দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বসতি সম্প্রসারণ, গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলোর অবস্থান পরিবর্তনের মধ্যেই ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা এবং যুক্তরাজ্যসহ তিন দেশের প্রস্তাবিত বাণিজ্যিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য আরও প্রকাশ্য হয়েছে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউকেতে বসবাসে ইচ্ছুক ইইউ নাগরিকদের এখনই যা করতে হবে

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে হোম অফিসের নির্দেশে অ্যাকাউন্ট বন্ধ, মানবিক সংকটে ভুক্তভোগীরা

ব্রিটেনে ৪২০ পাউন্ড সুবিধা পাবে ১০ লাখ পরিবার!