যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক উদ্যোগ রিস্টোর ব্রিটেন-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লি ডাউনসের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ডাউনস এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন যে রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ ইহুদি স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে ‘বিক্রি’ হয়ে থাকতে পারেন। এই মন্তব্যের পর ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী প্রচারক ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা মন্তব্যে ফারাজের রাজনৈতিক অবস্থান বা সিদ্ধান্তকে ইহুদি অর্থ ও প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে সমালোচকদের দাবি। তাদের মতে, ইহুদি ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিপুল অর্থের মাধ্যমে রাজনৈতিক ক্ষমতা ‘কিনে নেয়’—এমন ধারণা বহু পুরোনো একটি ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতাদর্শ বা কোনো নেতার নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হলেও, সেটিকে কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়ের গোপন আর্থিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত করা বিপজ্জনক। বিশেষ করে ইহুদি সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষমতার আড়াল থেকে নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার মতো বক্তব্য অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
ঘটনার পর ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী প্রচারক ও কমিউনিটি প্রতিনিধিরা ডাউনসের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন। তাদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং একটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নেতিবাচক ও ষড়যন্ত্রমূলক ধারণা ছড়িয়ে দিতে পারে।
বিতর্কটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ রিফর্ম ইউকে এবং দলটির নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে এর আগেও জাতি, ধর্ম, অভিবাসন ও বৈষম্যসংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন এই মন্তব্য যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী রাজনীতিতে বিদ্যমান ভাষা ও বক্তব্যের ধরন নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতার অর্থায়ন, দাতাদের প্রভাব কিংবা নীতিনির্ধারণে স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বৈধ বিষয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা জাতিগত সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও অর্থের গোপন নিয়ন্ত্রক হিসেবে তুলে ধরা সেই বৈধ সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ডানপন্থী দল ও আন্দোলনগুলোর বক্তব্যে বর্ণবাদ, ধর্মবিদ্বেষ এবং পরোক্ষ উসকানিমূলক ভাষার ব্যবহার নিয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। সমালোচকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক বিতর্ক যতই তীব্র হোক, ধর্মীয় বা জাতিগত পরিচয়কে রাজনৈতিক আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
চার্লি ডাউনসের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাই শুধু নাইজেল ফারাজকে নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে রাজনৈতিক অর্থায়ন, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের সীমারেখা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্রঃ দ্য ড্যাজলিং ডন\ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

