11.8 C
London
October 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইহুদিবিদ্বেষ ইস্যুতে মুখোমুখি গ্রিন পার্টির নেতা ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ব্রিটেনের রাজনীতিতে ইহুদিবিদ্বেষ ইস্যু ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে “বিবেচনা, সতর্কতা ও সূক্ষ্মতা”র সঙ্গে আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পোলানস্কি ইহুদিবিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। এর জবাবে গ্রিন নেতা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং একে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

একটি ইহুদি উপাসনালয় সফরের সময় স্টারমার পোলানস্কির মন্তব্যকে “লজ্জাজনক” বলে আখ্যা দেন। কারণ পোলানস্কি বলেন, সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রকৃত নিরাপত্তা হুমকি এবং মানুষের “অসুরক্ষার অনুভূতি”—এই দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।

এছাড়া, অতীতে লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিনের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় ব্যর্থতার সমালোচনা করা নিয়ে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন পোলানস্কি। তিনি বলেন, তখন বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইহুদিবিদ্বেষ বাস্তব এবং এটি একটি গুরুতর সমস্যা। তবে এমন ঘটনাও রয়েছে যেখানে ফিলিস্তিনপন্থী মতামতকে ভুলভাবে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনা এবং ইহুদিবিদ্বেষকে এক করে দেখানো হলে তা উল্টো ইহুদি সম্প্রদায়ের জন্য অনিরাপত্তা তৈরি করে।

এদিকে গ্রিন পার্টির ভেতরেও এই ইস্যু নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে। দলের কিছু সদস্য ও কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, নতুন কিছু সদস্য ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে সীমা অতিক্রম করছেন এবং তা ইহুদিবিদ্বেষে পরিণত হচ্ছে।

বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু প্রার্থীর বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ হামলার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন, কেউ ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, আবার কেউ ইহুদিদের নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা তুলে ধরেছেন।

দলের কাঠামো বিকেন্দ্রীকৃত হওয়ায় এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রার্থী যাচাই স্থানীয় পর্যায়ে হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি আগে স্থগিত হওয়া প্রার্থী আবার নির্বাচনী তালিকায় ফিরে আসার ঘটনাও সামনে এসেছে।

তবে পোলানস্কি এসব অভিযোগকে সীমিত বলে উল্লেখ করে বলেন, হাজারখানেক প্রার্থীর মধ্যে এইসব অল্প কয়েকটি ঘটনা মাত্র। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, দেশে ইহুদিবিদ্বেষের পাশাপাশি ইসলামবিদ্বেষ এবং অন্যান্য ঘৃণাজনিত অপরাধও বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

দলের অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সাম্প্রতিক এক সম্মেলনে “জায়নবাদ বর্ণবাদ”—এমন একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও তা গৃহীত হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসতে পারে।

গ্রিন পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। দ্রুত সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে সময় লাগছে বলেও স্বীকার করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ইহুদিবিদ্বেষের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকায় ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিষয় মোকাবিলায় দায়িত্বশীল, ভারসাম্যপূর্ণ ও সংবেদনশীল অবস্থান গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

বেকহ্যামের বাগানে ফলেছে কদুঃ কিন্তু চেহারা দেখে চক্ষু চড়কগাছ ভিক্টোরিয়ার

ইংল্যান্ডে জিসিএসই পাসের হার কমলেও ওয়েলস-আয়ারল্যান্ডে বেড়েছে

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় হুমকি ইসলামপন্থী ও ডানপন্থী চরমপন্থাঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার